প্রিয় পাঠক এখন চলতেছে রমজান মাস। আত্ম সংযমের মাস, ১১ মাস পর পর এই রমজান
মাস আসে। এই রমজান মাসের গুরুত্ব আমাদের মুসলিম জাতির কাছে অপসিম। এই পবিত্র
রমজান মাসে কোরআন নাজিল হয়েছিল আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরে। এই রমজান মাসে রোজা আমাদের জন্য ফরজ করে দেয়া
হয়েছে।
ইসলামের মোট খুটি পাঁচটি, তার মধ্যে রোজা একটি। এই রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক।
আজকে আমরা আলোচনা করব রমজান মাসের রোজার সম্পর্কে এবং রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ pdf, ২০২৪ সালের রোজার ঈদ কত তারিখে কবে অনুষ্ঠিত হবে সে সম্পর্কে। আরো
আলোচনা করব কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং কি কি কারণে রোজা ভাঙ্গে না এই সমস্ত
বিষয় জানতে হলে আমাদের এই পর্বটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
ভূমিকা – রমজানের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত
আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই রোজা রাখা ফরজ। রমজান মাস পুরোটাই মুসলমানদের
কাছে একটি ভাগ্যবান মাস। কারণ এটি ইবাদতের সবথেকে ভালো মাস বলে বিবেচিত হয়। আর এ
মাসের রয়েছে শবে কদরের রাত। যেটি মাত্র বছরে ১ বার এসে থাকে। এটি বৎসরে একবার
আসলেও মুসলমানদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত। কারণ এই দিনে সারারাত জেগে
ইবাদত করার ফলে হাজার মাসের ইবাদত করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
শুধু কদরের রাতের জন্য না এই মাসে রোজা রাখার জন্য বিশেষ কিছু উপহারের ব্যবস্থা
করে রেখেছেন পরকালে। যেহেতু প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ তাই রোজা কি
কি কারণে ভাঙ্গা যেতে পারে সেইসব বিষয়েও জানতে হবে। যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়,
কিন্তু আসলে সেসব কারণে রোজা ভাঙ্গে না। এগুলোর কারণে অনেক সময় অনেকেই
বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। তাই এসব বিষয়ে আগে থেকে জানা প্রয়োজন যেন পরবর্তীতে কোন
ধরনের সমস্যা না হয়।
২০২৪ সালের রোজার ঈদ কত তারিখেঃ
প্রিয় পাঠক আপনি কি জানেন ২০২৪ সালের রোজার ঈদ কত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
যদি না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই পর্বের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন ২০২৪ সালের
রোজার ঈদ কত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। তাহলে চলুন জেনে নিই ২০২৪ সালের রোজার ঈদ কত তারিখে হবে।
রোজার ঈদ নির্ভর করা সম্পূর্ণ চাঁদ দেখার ওপরে। প্রতি বছর যে শুধু, ৩০ টা রোজায়
হয় তা কিন্তু নয় বরং মাঝে মাঝে ২৯ টা রোজাও হয়ে থাকে। তবে সে অনুযায়ী এ বছর
২৯ টা রোজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি ২৯ টা রোজা হয় তাহলে এই বছর ঈদুল
ফিতর ১১ই এপ্রিল হতে পারে। তবে এই সময় পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু ক্যালেন্ডার
অনুসারে এবছর ১১ই এপ্রিল ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যাচ্ছে।
রমজান মাস কেন গুরুত্বপূর্ণ।রমজানের ফজিলত ও গুরুত্ব
প্রতিবছর এই রমজান মাসটা আমাদের মুসলিমদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। কারণ
এ মাসে আল্লাহ তায়ালা আমাদের রহমত করেন। এ মাসটি ইবাদতের সবথেকে ভালো মাস।
প্রতিটা মুসলিমের জন্য এই মাসে রোজা রাখা ফরজ সেটি নারী কিংবা পুরুষ হোক। রোজা
মানে হলো পানাহার থাকা অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খেয়ে
থাকাকেই রোজা বলা হয়।
থাকতে হয় তা কিন্তু নয়, সেই সঙ্গে সঙ্গে খারাপ কাজ থেকেও দূরে থাকতে হয়। এমনকি
হাদিসে এও বলা হয়েছে যে, ইফতারের আগে যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে হাত তুলে কোন
কিছু চায়। তাহলে আল্লাহ তাআলা তার চাওয়া পূরণ করে দেন। এছাড়াও রোজার মাসেই
রয়েছে শবে কদরের রাত।
অন্যান্য রাতের তুলনায় এই রাত্রি অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুসলমানদের কাছে। কারণ
মহানবী সাঃ এর আগের মানুষেরা অনেকদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতো। তারা তাদের সারা জীবন
ধরে আল্লাহ তাআলার ইবাদত পালন করতো এবং আল্লাহকে খুশি করত। কিন্তু মহানবী
সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর উম্মতের বেঁচে থাকার সময় অনেক কম তাদের
তুলনায়।
আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য একটি বিশেষ দিনের কথা বলেছেন, যেদিনে সারারাত
জেগে যদি ইবাদত করা যায় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে মাফ চাওয়া যায়। তাহলে আল্লাহ
তা’আলা তাঁর আগামী এক হাজার বছরের নামাজ পড়ার সমান সওয়াব দিয়ে দেয় এবং তার
পূর্ববর্তী পাপ গুলোকে মাফ করে দেন। এইসব মিলিয়ে রমজান মাস মুসলমানদের কাছে অতি
গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস।
রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ pdf
থাকেন কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় তাহলে আজকের এই পর্বটি আপনি মনোযোগ সহকারে
পড়ুন। তাহলে আপনি বিস্তারিত বিষয় জানতে পারবেন।মুসলিমদের জন্য রমজান মাসে রোজা
রাখা ফরজ। সেই অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলমানেরাই এই মাসটিতে রোজা রাখেন এবং আল্লাহর
ইবাদত করেন।
তবে আমরাও তো মানুষ শারীরিক কিছু সমস্যা, অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনা জনিত কিছু
কারণে রোজা ভেঙে যায়। কিন্তু কি কি কারণে যে রোজা ভেঙে যায় এটি অনেকে হয়তো
ভালোভাবে জানে না। প্রত্যেক মুসল্লির জন্যই যেহেতু রোজা রাখা ফরজ তাই তাদেরকে
রোজা ভাঙার কারণ সম্পর্কে জানতে হবে। এছাড়াও আরো যেসব কারণ রয়েছে যেগুলো করলেও
রোজা ভাঙবে না সেগুলো সম্পর্কেও জানতে হবে, কারণ রোজা ভাঙা নিয়ে অনেকের মধ্যে
ভুল ধারণার প্রচলিত রয়েছে।
হবে। ফলে আমরা এমন কাজ করি যা একদিকে রোজাদার ব্যক্তির জন্য কষ্টকর এবং অন্যদিকে
যে নিয়ে রোজা রাখেন নি তার জন্য এটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাই আজকে আমরা কোরআন
হাদিস এবং সাহাবী এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ভারসাম্য রক্ষা করে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেন রোজা
রাখার কারণ রোজাদারের শারীরিক কোন ক্ষতি না হয়। আবার সে যেন রোজা বিনষ্টকারী কোন
কাজেও লিপ্ত না হয়। এ কারণে রোজা বিনষ্টকারী বিষয়গুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করা
হয়েছে। কারণ রোজা বিভিন্ন কারণে ভঙ্গ হয়ে থাকে। এ কারণে রোজা ভঙ্গের
বিষয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তাহলে চলুন জেনে নেই রোজা ভঙ্গের কারণগুলো।
সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেমনঃ শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়া, নারীদের শরীর থেকে
ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা, সহবাস ইত্যাদি আরব বিভিন্ন কারণে
রোজা ভঙ্গ হতে পারে।
তা’আলা এগুলোকে রোজা ভঙ্গকারী বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কেননা এগুলো
ঘটলে রোজাদার ব্যক্তির শরীর আরো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং রোজা রাখতে কষ্ট হবে। আর
আল্লাহতালা কখনোই চাইবেন না রোজাদার ব্যক্তি রোজা রাখার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাক।
হয়ে থাকে। যেমনঃ পানাহার। তাই রোজাদার ব্যক্তি যদি পানাহার করে তাহলে যে
উদ্দেশ্যে রোজার বিধান জারি করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়িত হবে না। তবে সেই ব্যক্তি
ইচ্ছাকৃতভাবে যদি পানাহার না করে থাকে তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না।
রোজা ভাঙ্গার মূল সাতটি কারণঃ
১।ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কিছু খাওয়া
দিয়ে কোন কিছু যদি পাকস্থলীতে পৌঁছানো হয় সেটিও পানাহার হবে। সুতরাং রোজা রাখা
অবস্থায় ওযু-গোসলে গড়গড়া করলে কুলি করা যাবে না এবং নাকের ভেতর দিয়ে পানি
পৌঁছানো যাবে না।রোজার মাসে ওযু করার সময় গড়গড়া করা নিষেধ।
২।ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কিছু পান করা
যে কারণেই হোক না কেন। তবে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে পান করে থাকেন তাহলে, তাকে রোজা
কাজা করতে হবে না এবং তার রোজা ভঙ্গ হবে না।
৩।শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়া।রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে
রক্ত দেওয়া ও শিঙ্গা লাগানোর পর্যায়ে ভুক্ত। কারো ফলে শরীরের অবশিঙ্গা লাগানোর
মত এর প্রভাব পড়ে। তাই রোজাদারের জন্য রক্ত দেওয়া জায়েজ নেই। তবে যদি অন্য
উপায় কোন রোগীকে রক্ত দেওয়া লাগে তাহলে রক্ত দেওয়া জায়েজ হবে। তাহলে
রোজাদারের রোজা ভঙ্গ হবে না অনিচ্ছাকে তো কোন কারণে রক্তক্ষরণ হলে রোজা ভেঙ্গে
যাবে না। যেমনঃ দাঁত তোলা, ক্ষতস্থান ড্রেসিং করা কিংবা রক্ত পরীক্ষা করা ইত্যাদি
কারণে রোজা ভাঙবে না। কারণ এগুলো শিঙ্গা লাগানোর পর্যায়ে ভুক্ত নয়। এগুলো
সিঙ্গা লাগানোর প্রভাব ফেলে না।
৪।রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করা
পরবর্তীতে তাকে রোজা কাযা করতে হবে। এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন যে স্বপ্নদোষ হলে
রোজা ভাঙ্গে না। কারণ এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি বিষয়। আসলে রোজাদারদের উচিত
হলো যৌন উত্তেজনা কারে সবকিছু থেকে দূরে থাকা এবং সব ধরনের কোন চিন্তা থেকে নিজের
মনকে বিরত রাখা বা হেফাজত করা।
৫।মুখ ভর্তি বমি হওয়া।অনিচ্ছায় বমি হলে রোজা ভেঙে যাবে কি
রোজা কাযা করতে হবে। যে ব্যক্তি মুখের ভিতরে হাত দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করছে
কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু বারবার দেখেছে যার কারনে তার বমি এসে গেছে, তবে তার
রোজা কাজা করতে হবে। কিন্তু কারো পেট ফেপে থাকে তার জন্য বমি আটকে রাখা
বাধ্যতামূলক নয়। কারণ এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক হবে।
৬। হাইজ ও নিফাসের রক্ত নির্গত হওয়া।মেয়েদের রোজা ভঙ্গের কারণ ও
করণীয়
এমনকি সেটা সূর্যাস্তের সামান্য কিছু সময়ের আগে হলেও তার রোজা ভেঙে যাবে এবং
তাকে সে রোজাটি কাযা করতে হবে। অন্য কোন নারীর যদি অনুভব করেন যে, তারা হায়েত
শুরু হতে যাচ্ছে কিন্তু সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত রক্ত বের হয়নি তাহলে তার রোজার
শুদ্ধ হবে এবং সেদিনের রোজা তাকে কাযা করতে হবে না।
তিনি রোজার নিয়ত করে নেন সেক্ষেত্রে আমূলদের মতামত হচ্ছে তার রোজা শুদ্ধ হবে
যদিও গোসল করার আগে ফরজ হয়ে যায়। ঋতুমতী নারীদের জন্য উত্তম হচ্ছে-স্বাভাবিক
মাসিক অবহতা রাখা এবং আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন সেটার উপর
সন্তুষ্ট রাখা।
পরবর্তীতে সেগুলোর কাযা পালন করা। তাছাড়া চিকিৎসা গবেষণা হায়েজ বা মাসিক
রোধকারী এসব উৎপাদনের বহুমুখী ক্ষতি সভ্যস্ত হয়েছে। এগুলো ব্যবহারের ফলে অনেক
নারী হায়েজ অনিয়মিত হয়ে গেছে। তারপরেও কোনো নারী যদি হায়েস্ট বন্ধ করে ওষুধ
গ্রহণ করেন তাহলে তিনি রোজা রাখতে পারবেন এবং তার রোজা আদায় করতে হবে।
৭।ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহারের স্থলাভিষিক্ত কোন কিছু গ্রহণ করা
এটা দুইটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেঃ
১। যদি রোজাদারের শরীরে রক্ত পুশ করা হয়। যেমনঃ আহত হয়ে রক্তক্ষরণের কারণে কারো
শরীরে যদি রক্ত পুশ করা হয়, তাহলে সে রাতে রোজা ভেঙে যাবে। যেহেতু পানাহারের
উদ্দেশ্য হচ্ছে রক্ত তৈরি করা।
২। খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ইনজেকশন পুশ করা। কারণ এমন ইঞ্জেকশন নিলে পানাহারের
প্রয়োজন হয় না। তবে যেসব ইনজেকশন পানাহারের স্থলাভিষিক্ত নয় বরং চিকিৎসার জন্য
দেওয়া হয়, উদাহরণস্বরূপ ইনসুলিন, পেনিসিলিন কিংবা টিকা এগুলোর কারণে রোজা ভঙ্গ
হবে না। তাই এসব দেওয়া হোক কিংবা সে রাতে দেওয়া হোক রোজা ভঙ্গ হবে না।
তবে সাবধানতা স্বরূপ এসব এনজেকশন রাতে নেওয়ায় ভালো। কিডনির ডায়ালাইসিসের
ক্ষেত্রে রোগীর শরীর থেকে রক্ত বের করে সে রক্ত পরিশোধন করে কিছু কেমিক্যাল ও
খাদ্য উপাদান যেমনঃ সুগার ও লবণ ইত্যাদি যোগ করে তার পুনরায় শরীরটা পুশ
করা হয় এতে রোজা ভেঙে যাবে।
যেসব কারণে রোজা ভাঙবে নাঃ
উপরোক্ত কারণগুলো ছাড়াও সমাজে কিছু প্রচলিত কারণ রয়েছে যেসব কারণে ধরা হয় রোজা
ভেঙে যাবে। তবে সেগুলো শুধু ভুল ধারণা। এইসব ব্যাপারগুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে। আর
এইসব কারণে তিনি নিজে যেমন কষ্ট ভোগ করেন তেমনি চারিপাশের মানুষকেও বিরম্বনায়
ফেলেন। যেমন ধরুনঃ অনেকেই বলেন যে রোজা রাখা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা যাবে না,
কিন্তু দীর্ঘ সময় দাঁত ব্রাশ না করার ফলে মুখে এক ধরনের সৃষ্টি হয় তাতে
কথা বলার সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু এই গন্ধের বিষয়ে অনেক রোজাদারকে বলতে শোনা যায় যে, রোজাদার মুখের
দুর্গন্ধ ভালো বা রোজাদার ব্যক্তির মুখের দুর্গন্ধ বিরক্ত হওয়া যাবে না। আসলে
দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙ্গে না। তবে পেস্ট গলায় গেলে রোজা মাকরুহ হবে। এটা
সেহরি খাওয়ার পর পরে করে নেওয়া উত্তম। তাছাড়া রোজা থাকা অবস্থায় মিসওয়াক
করা সুন্নত। এমনকি কাঁচা ডাল দ্বারা মেসওয়াক করা মাকরুহ নয়। এগুলো ছাড়াও
আরো কারণ রয়েছে যেসব কারণে মানুষেরা মনে করেন যে রোজা ভাঙ্গে কিন্তু আসলে তো
সেসব কারণে রোজা ভাঙ্গে না।
- অ্যানিমা ব্যবহার করা
- চোখে কিংবা কানে ড্রপ দেওয়া
- দাঁত তোলা
- ভুল করে পানাহার করলে রোজা ভাঙবে না।
- কোন ক্ষতস্থানের চিকিৎসা করা এসব কারণে রোজা ভাঙ্গে না।
-
হাঁপানি রোগের চিকিৎসা কিংবা অন্য কোন রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে জিহ্ববা নিচে যে
ট্যাবলেট রাখা হয় সেটা থেকে নির্গত কোন পদার্থ বলার ভিতরে চলে না গেলে রোজা
ভাঙবে না। -
মেডিকেল টেস্ট এর জন্য সাপোজিটার, লোশন, কলপোস্কোপ, হাতের আঙ্গুল ইত্যাদি শরীরে
প্রবেশ করানো হলে রোজা ভাঙবে না। পেকুলাম বা আই ইউ ভি বা এজাতীয় কোন মেডিকেল
যন্ত্রপাতি জলের ভিতর প্রবেশ করানো হলে রোজা ভাঙবে না।
পাঠকের মন্তব্য। রোজা রাখলে কি কি উপকারিতা হয়
প্রিয় পাঠক আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত রমজান মাসে রোজা রাখা। রোজা রাখলে যে শুধু
পরকালই উপকার হবে তা না রোজা রাখার ফলে আমাদের দেহের বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া গুলো
ধ্বংস হয়ে যায় এবং আমাদের শরীরে জমে থাকা ক্যান্সারের কোসগুলো নষ্ট হয়ে যায়।
এবং দেহে জমে থাকা সমস্ত রকম খারাপ কোলেস্টরেল কমে যায়। এবং পাকস্থলী সুন্দরভাবে
কাজ করতে পারে।
আজকের পর্বের মাধ্যমে আপনি নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ এবং
২০১৪ সালে কবে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে সেই সম্পর্কে। আজকের এই আর্টিকেল থেকে যদি
আপনি কোন ভাবে উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।



Leave a Reply