টাক হওয়ার সমস্যা কেন হয় – টাক পড়ার লক্ষণ

মাথায় টাক হওয়ার সমস্যার সাথে অনেকেই পরিচিত। বিশেষ করে ছেলেরা। কারণ বর্তমানে
এটা ঘর সমস্যা আর অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের কিছু ভুলের কারণে হতে পারে আবার বংশগত
কিছু কারণে এটাকে সমস্যা হতে পারে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণেও
টাকের সমস্যা হতে পারে।

টাক হওয়ার সমস্যা কেন হয় - টাক পড়ার লক্ষণ

 আবার কিছু রোগের লক্ষণ হিসেবেও টাকের সমস্যা রয়েছে। তাই আমাদের জানতে হবে
কি কি কারণে তাকে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে এবং কোন কোন রোগের কারণে তাকে সমস্যা হয়।
আমরা যদি কারণ জানতে পারি তাহলে এর সমাধানও করতে পারবো। 

ভূমিকা

টাকা সমস্যা দূর করার জন্য বাজারে বেশ কিছু মেডিসিন, তেল আরো বিভিন্ন ধরনের জিনিস
তৈরি হয়েছে। এগুলো ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভাবেও টাকা খাওয়ার সমস্যা
দূর করা যায়। আপনারা চাইলে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এবং তার আগে আজকের
আর্টিকেলটি খুব ভালো করে পড়ে নিন তাহলে হয়তো আপনার সমস্যার সমাধান অনেক অংশে
কমে যাবে। শুধুমাত্র ঔষধের উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না নিজের জীবন যাপনটাও করতে
হবে একটু নিয়মমাফিক।

টাক হওয়ার সমস্যা কেন হয়ঃ

সুপ্রিয় পাঠক আপনি জানতে চেয়েছেন টাক হওয়ার সমস্যা কেন হয়, যদি না জেনে থাকেন
তাহলে আজকের এই পর্বটি আপনার জন্য।আজকাল প্রায় দেখা যায় যে, ছেলেদের মাথায় টাক
পড়ে গেছে। কিন্তু অনেকে জানে না যে এ টাকের সমস্যাগুলো কেন হয়। টাকের
সমস্যার মূলত তিনটি কারণে হয়ে থাকে।

  • বংশগত কারণে
  • কিছু ভুলের জন্য কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে
  • বিভিন্ন রোগের কারণে

বংশগত কারণে এবং কিছু ভুলের জন্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, টাক মূলত বংশগত সমস্যা কারণে হতে পারে অর্থাৎ জিনগত সমস্যা যেটি
বংশ থেকে আসে। এছাড়া আরও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে যেমনঃ অতিরিক্ত টেনশন, ঠিকমতো
খাওয়া-দাওয়া না করা অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। এছাড়াও দূষণের কারণেও এ
ধরনের সমস্যা হতে পারে। কারণ আমরা হয়তো সকলে জানি যে সূর্যের বেগুনের রসে যেমন
আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক তেমন আমাদের পুরো শরীরের জন্যই কিন্তু অনেক
ক্ষতিকারক। 

সূর্য থেকে আসার ভিটামিন দিয়ে আমাদের চুলের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে তেমনি,
অতিরিক্ত বেগুনি রশী চুলের সমস্যা বাড়িয়ে দিতেও পারে। আমরা যদি আগে থেকে সচেতন
হয়ে যায় তাহলে এসব ভুল আর করব না। রোদ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবো এবং
অস্বাস্থ্যকর খাবার খাব না। তাহলে এটা আখো সমস্যা আমি কমে যাবে

রোগের জন্য

শুধু যে এসব কারণে চুলের সমস্যা দেখা যায় তা কিন্তু নয় বরং বিভিন্ন রোগের
কারণেও চুলের সমস্যা হতে পারে। এই রোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যালোপেসিয়া। এ নামটি
হয়তো অনেকের কাছে অজানা। এটি এমন একটি রোগ যার কারণে, আমাদের শরীরের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা গুলো চুলের ফলিকলগুলোতে আক্রমণ করে। এ কারণে মূলত একে
অ্যালোপেসিয়া বলে। 

এই রোগে আক্রান্ত হলে মাথার তালু এবং মুখে বেশি প্রভাব পড়ে। আর এ কারণে মূলত
মাথায় গোল গোল বড় টাক দেখা যায়। এছাড়াও অনেক সময় ক্যান্সারের কারণেও মাথার
চুল পড়ে যেতে থাকে। এ কারণেও টাকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মাথায় যদি টাকে
সমস্যা দেখা যায় তাহলে, একবার ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। 

কারন এটি যদি কোন রোগের কারণ হয়ে থাকে তাহলে বসে থাকা যাবে না। আর যদি কোন রোগের
কারণে না হয়ে, শারীর িক কোনো কারণে হয়ে থাকে তাহলে কিভাবে মাথার টাক দূর করা
যায় সেই বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

টাক পড়ার লক্ষণঃ

গোসল করার পর চুল আচানোর সময় চুল উঠে আসছে। এটি দেখে অনেকে মনে করেন কিছুদিনের
মধ্যে তাদের মাথায় টাকের সমস্যা দেখা যাবে। কিন্তু এটি কি আসলেই ঠিক। নাকি এটা
পড়ার কিছু অন্য লক্ষণ রয়েছে যেগুলো আমরা অনেকেই জানিনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তারপর
আগে কিছু লক্ষণগুলো রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আমার টের পেতে পারি যে ভবিষ্যতে
আমাদের টাক পড়া সমস্যা হতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেই সেই লক্ষণগুলো।

  • মাথার চুলে সামনের দিকে যে রেখা রয়েছে অর্থাৎ হেয়ার লাইন রয়েছে। সেখান থেকে
    যদি চুল ওঠা শুরু হয় তাহলে বুঝতে হবে ভবিষ্যতে আপনার মাথা টাক হওয়ার সম্ভাবনা
    রয়েছে। এ কারণে আগে থেকে সচেতন হয়ে যেতে হবে এবং চুলের যত্ন করতে হবে।
  • বিভিন্ন ধরনের রোগ থাকলে, মাথায় টাক হতে পারে। সব রোগের কারণে মাথায় টাক
    হয় না কিন্তু আপনার শরীরে যদি রোগের সংখ্যা বেশি থাকে অর্থাৎ প্রতিরোধ ক্ষমতা
    কম থাকে তাহলে মাথা স্কিন গুলি রয়েছে সেগুলো ড্যামেজ হয়ে যায়। এ কারণে মূলত
    টাকা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে। এছাড়া টা খাওয়ার জন্য
    তো আলাদা রোগ আগে থেকেই রয়েছে যেমনঃ ক্যান্সার,অ্যালোপেসিয়া ইত্যাদি আর
    বিভিন্ন ধরনের রোগ।
  • চুলের ঘনত্ব কমে আসলে। চুলের খরা তো কমে আসা মূলত এক ধরনের টাক হওয়ার লক্ষণ।
    কারণ ধীরে ধীরে আপনার চুলগুলো উঠে যাচ্ছে। এতে আপনার এতে আপনার টাক
    হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়।
  • আপনার মাথায় যদি অতিরিক্ত খুশকি সমস্যা হয় এটি এক ধরনের টা খাওয়ার
    লক্ষণ হতে পারে। কারণ যাদের মাথায় খুশকি বেশি থাকে তাদের চুলের গোড়া ধীরে
    ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। ফলে চুল খুব তাড়াতাড়ি উঠে যায় এবং টাক পড়া সম্ভব না
    আরো বৃদ্ধি পায়।
  • যারা অ্যানিমিয়া রোগে ভুগছেন। তাদের জন্য তো টাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
    রক্তস্বল্পতা থাকলে চুলে ঠিকমতো পুষ্টি পায় না, তাই চুল ওঠার সম্ভাবনা অনেক
    বেশি বেড়ে যায়। আর যখন চুল ওঠার সম্ভাবনা বেড়ে যায় তখন টাকার সম্ভাবনা তো
    অবশ্যই রয়েছে।

টাক মাথায় কিভাবে চুল গজানো যায়ঃ

বর্তমানে মাথায় টাক পড়ার সমস্যা বর্তমানে অনেক বেড়ে গেছে। বাজারে এই টাকের
সমস্যা দূর করার বিভিন্ন ধরনের মেডিসিন, তেল পা গেলেও সবগুলো চুল গজাতে পারে না।
এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। এ
কারণে অনেকে বাহিরের মেডিসিন কিংবা তেল ব্যবহার করতে দ্বিধায় ভোগেন যে, আপনার কি
সেটি ব্যবহার করা উচিত নাকি উচিত নয়। 

যারা এ ধরনের চিন্তাভাবনা করেন তারা প্রাকৃতিক জিনিসকে অনেক বিশ্বাস করেন। আপনারা
চাইলেও প্রাকৃতিকভাবে মাথায় চুল গজাতে পারেন। এমনকি এ প্রাকৃতিক উপায়টিকে
গবেষণা করেও পরীক্ষা করা হয়েছে। আর পরিশেষে এটি অনেক ভালো ফলাফল দিয়েছে। আপনারা
চাইলে এটিকে ব্যবহার করতে পারেন। এ প্রাকৃতিক উপায়টি হলো, কুমরার বীজের
তেল। 

এটিতে থাকা জিংক চুল গজাতে অনেক সাহায্য করে। গোসল করার পর, চুলগুলো
শুকিয়ে হাতের মাধ্যমে চুলে মাসাজ করতে হবে। এটি সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার
করার ফলে। মধ্যে আপনি এর ফলাফল গুলো টের পেতে থাকবেন।

টাক মাথায় চুল গজানোর ওষুধের নামঃ

বর্তমান সময়ে টাক মাথায় চুল গজানোর জন্য অনেক ধরনের মেডিসিন বের হয়েছে
।সেগুলোর মধ্যে মধ্যে সবগুলোই যে চুল গজাতে কার্যকরী তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু
মেডিসিন রয়েছে যেগুলো একমাত্র চুলের সমস্যা দূর করতে পারে। কিন্তু অনেকের মনেই
প্রশ্ন থাকতে পারে যে কোন ধরনের মেডিসিন আমাদের ব্যবহার করার প্রয়োজন। কারণ
অন্যান্য মেডিসিন ব্যবহারে যেকোনো ধরনের ক্ষতিও হতে পারে। তাই আগে থেকেই সেসব
সম্পর্কে জানতে হবে এবং কোন মেডিসিনটি আপনার জন্য অনেক ভালো সেটি জানতে হবে। টাক
মাথায় চুল গজানোর জন্য সবচেয়ে ভালো মেডিসিন  হলোঃ

  • মিনোক্সিডিল
  • ফিন্যাস্টেরাইড

এটি দুইটি পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্যই অনেক ভালো একটি মেডিসিন। আপনারা ব্যবহার
করে দেখতে পারেন। সবার ক্ষেত্রে কিন্তু এগুলো কার্যকরি হয় না। তাই এগুলো
ব্যবহার করার আগে ডাক্তার পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। কারণ এই মেডিসিনের বেশ
কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। মেডিসিন গুলো কি আপনার জন্য উপযোগী কিনা
সেটি ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। এরপর আপনারা এগুলোকে ব্যবহার করতে
পারবেন।

কি ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে যায়

চুলের অভাবে যে কোনো ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে যায় না। তবে, যদি কোনো খাবার
পদার্থের অভাব থাকে যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে চুল প্রভাবিত
হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রোটিন, আয়রন, বিটামিন বি-কমপ্লেক্স (বি-কমপ্লেক্সের
সংক্রান্ত অভাব কোমর পড়তে পারে), বিটামিন ডি এবং বিটামিন এ অভাবে চুল অস্বস্তি
হতে পারে। তবে, এই অভাবগুলি অবশ্যই চুল পড়ার একমাত্র কারণ নয়। প্রতিটি ব্যক্তির
চুলের অবস্থা এবং প্রভাবিত হওয়ার কারণ বিভিন্ন হতে পারে।

ভিটামিন সি চুলের কি কাজ করে

ভিটামিন সি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিটামিন হিসেবে বিখ্যাত।
এটি চুলের গোড়া ও স্কাল্পের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং চুলের প্রাকৃতিক ঝলকানি
বাড়াতে সাহায্য করে। এটি প্রোটিনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে যা চুলের স্থিতিশীলতা ও
বালোকের গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি চুলের ঝলকানির নিখুঁততা বজায়
রাখে এবং চুলের ক্ষতিক্ষত সুরক্ষিত করে। এটি চুলের রোগ ও সঙ্গতির প্রতিরোধে
সাহায্য করে এবং চুলের প্রাকৃতিক রঙ বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া, ভিটামিন সি
চুলের মজুত সুত্র সুরক্ষিত রাখে এবং প্রতিদিনের স্ট্রেস ও পরিবর্তনের সাথে
মোকাবিলা করে।

চুলের ভিটামিন ক্যাপসুল

চুলের ভিটামিনের ক্যাপসুলের নামগুলি বিভিন্ন উত্পাদক কোম্পানিতে পাওয়া যায়,
যেমনঃ
1. ফোলিকলিন ক্যাপসুল
2. বি-কমপ্লেক্স ক্যাপসুল
3. ভিটামিন সি ক্যাপসুল
4. আলফা লিপোইক এসিড ক্যাপসুল
5. বি-টক্স ক্যাপসুল
এই নামগুলি প্রচলিত হতে পারে, তবে সঠিক মেয়াদ ও মাত্রা নির্ধারণের জন্য
ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই প্রয়োজন।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল দিয়ে চুল লম্বা করার উপায়

ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলের লম্বা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে কারণ এটি পুরোনো
চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং চুলের নিখুঁততা বজায় রাখে। ভিটামিন ই চুলের
একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিখ্যাত যা প্রতিটি চুলের জন্য প্রয়োজন। এটি
চুলের ক্ষতি দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে এবং চুলের গ্রোথ
প্রস্তুতি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে, ভিটামিন ই সম্পর্কে সঠিক মেয়াদ ও
মাত্রা নির্ধারণের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই প্রয়োজন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *