আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় পাঠক আমরা আজকের পোষ্টের মাধ্যমে কনডম কি ও কনডম
ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যারা কনডম কি এ সম্পর্কে একদম
ধারণা নেই আজকের পোস্টটি শুধু তাদের জন্য।
কিন্তু নারীদের কনডম আমাদের বাংলাদেশ এ পাওয়া যায় না।
কনডম কি
হলে সঠিক কনডম এইচআইভি প্রতিরোধের পাশাপাশি গর্ভাবস্থা এবং এইচটিআই প্রতিরোধ করে
থাকে। পাতলা রাবার সর্বাধিক জনপ্রিয় যা দিয়ে কনডম তৈরি করা হয়। কনডম এর
ব্যবহার আগে ভারতে বেশি ব্যবহৃত হতো না। পুরুষরা কনডম ব্যবহার শুরু করেছিলেন যখন
তারা রোগগুলোর সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পান।
আরো পড়ুনঃকোন কনডম সবচেয়ে নিরাপদ – কনডমের দাম ও ছবি
এটি আপনাকে এবং আপনার জীবন সঙ্গীকে যৌন রোগ থেকে রক্ষা করবে। যেকোনো ফার্মেসি থেকে
বা মেডিকেল শফ থেকে খুব সহজেই কিনতে পারবেন। মান যাচাইয়ের জন্য এবং কেনার সময়
অবশ্যই তার মেয়াদ উত্তীর্ণ কিনা তা দেখতে হবে।
কনডম ব্যবহারের নিয়ম
লিঙ্গে পড়ানো হয় যেন বীর্য জীবন সঙ্গিনীর যোনিতে প্রবেশ করতে না পারে। যখন
পুরুষের লিঙ্গ উত্তেজিত থাকবে। এবং সঙ্গিনীর দেহে প্রবেশ করার পূর্বে। নিম্নে
দেওয়া হলঃ
-
কনডমের প্যাকেটটি সতর্কতার সাথে খুলতে হবে। সব সময় কনডম প্যাকেট এর যে কোনো
এক প্রান্ত থেকে খুললে ভালো হয়। কারণ প্যাকেটটি খোলবার সময় যদি কনডমটি ভেতর
থেকে মোটা হয়ে যায় অথবা ফেটে যায় তাহলে কনডমটি সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে
যাবে। -
এবার কনডমটি প্যাকেট থেকে বের করার পর খেয়াল রাখতে হবে কনডমটি কোন পাশ
থেকে রোল হয়। আপনি রোলিং পাঁচটি নিশ্চিত করার জন্য একটি আঙ্গুল হালকা
করে কনডমের রাবারের ভেতর প্রবেশ করালে রোলিং এর পাঁচটি নিশ্চিত করতে পারবেন। -
কনডম ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ভেতরের বাতাস বের করে নিতে হবে অন্যথায় কনডম
ফেটে গিয়ে শুক্রাণু যোনিপথে প্রবেশ করতে পারে। -
এবার আস্তে আস্তে হালকা ভাবে রোল করে কনডমটি আপনার গোপনাঙ্গে
পড়িয়ে দিতে হবে। -
সম্পূর্ণ উত্তেজনা না হলে কনডম গোপনাঙ্গে না পড়াই ভালো । কারণ উত্তেজনা কম
থাকলে পরবর্তীতে কনডম খুলে যেতে পারে। -
এবার মিলন শেষ করে লিঙ্গ বের করে নিয়ে আসতে হবে না হলে অনেক সময় শুক্রাণু
ছড়িয়ে যেতে পারে। -
মিলন শেষে ব্যবহৃত কনডম এর শেষ প্রান্তে হালকা ভাবে একটি গিট বেঁধে দেওয়া
ভালো। সে কারণে শুক্রাণু বাইরে প্রবেশ করবে না।
কনডম কি ও কনডমের ব্যবহার এর নিয়ম সম্পর্কে আমাদেরকে সঠিকটা জানতে হবে। কনডম
ব্যবহার শতকরা ১০০ ভাগ জন্মনিয়ন্ত্রণের নিরাপত্তা দেয় না। এর সাফল্যের হার ৯০%
এর কাছাকাছি। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার না করলে ব্যর্থতা আসবে। অনেক সময় শোনা যায়
যে অনেক দম্পত্তির কনডমে এলার্জি থাকে সেইসব দম্পতির কনডম ব্যবহার না করাই
ভালো।
দীর্ঘদিন কনডম ব্যবহার করলে অনেক সময় দম্পতিরা এক ধরনের মানসিক অ’তৃপ্তি এবং
অশান্তিতে ভোগেন। কনডম ব্যবহারের সাথে সাথে প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি
ব্যবহার করে স্বামী স্ত্রী অনেক সময় খুব শান্তির যৌন জীবন উপভোগ করেন।
কনডমের দাম কত
কনডম কোন সাইজের ব্যবহার করতে হয় বা কোন সাইজ থাকে তাই বলা যাইয়া আমার মতে
কনডমের কোন নির্দিষ্ট সাইজ থাকে না এগুলো সব এক সাইজেরই হয় তবে এগুলো আপনার
লিঙ্গের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি অনুসারে ব্যবহার করতে পারবেন এবং পেছনের অংশে মুড়ে
রাখতে পারবেন। নিম্নে বিভিন্ন ধরনের কনডমের দাম দেওয়া হলঃ
প্যানথার কনডম
তিন পিস। একটি বক্স আপনি যদি ক্রয় করতে চান তাহলে আপনাকে ২০ থেকে ২৫ টাকা দিতে
হবে তবে এটি অনলাইনে বিক্রয় করা হয়। এটির অনলাইন প্রাইজ হচ্ছে ৬০ টাকা ডেলিভারি
চার্জ সহ।
হিরো কনডম
হিরো কনডম এটি বাজারে বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হয় এগুলোর প্রতিটি কোষে থাকে তিন
পিস। একটি বক্স আপনি যদি ক্রয় করতে চান তাহলে আপনাকে ১০ থেকে ১৫ টাকা দিতে হবে
তবে এটি অনলাইনে বিক্রয় করা হয়। এটির অনলাইন প্রাইজ হচ্ছে ৫০ টাকা ডেলিভারি
চার্জ সহ।
নিরাপদ কনডম
প্রতিটি কোষে থাকে তিন পিস। একটি বক্স আপনি যদি ক্রয় করতে চান তাহলে আপনাকে ৬০
থেকে ৬৫ টাকা দিতে হবে তবে এটি অনলাইনে বিক্রয় করা হয়। এটির অনলাইন প্রাইজ
হচ্ছে ১০০ টাকা ডেলিভারি চার্জ সহ।
রাজা সুপার কনডম
রাজা সুপার কনডম এটি বাজারে বিভিন্ন দামে বিক্রি করা
হয় এগুলোর প্রতিটি কোষে থাকে তিন পিস। একটি বক্স আপনি যদি ক্রয় করতে চান তাহলে
আপনাকে ১০ থেকে ১৫ টাকা দিতে হবে তবে এটি অনলাইনে বিক্রয় করা হয়। এটির অনলাইন
প্রাইজ হচ্ছে ৫০ টাকা ডেলিভারি চার্জ সহ।
সুপার ড্রাগন কনডম
ড্রাগন কনডম এটি বাজারে বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হয় এগুলোর প্রতিটি কোষে থাকে
তিন পিস। একটি বক্স আপনি যদি ক্রয় করতে চান তাহলে আপনাকে ২,২৫০ থেকে ২,৫০০ টাকা
দিতে হবে তবে এটি অনলাইনে বিক্রয় করা হয়। এটির অনলাইন প্রাইজ হচ্ছে ২,৫৯৯ টাকা
ডেলিভারি চার্জ সহ। সুপার ড্রাগন কনডম ব্যবহার করলে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সহবাস করতে
পারবেন। কমপক্ষে দুই হাজার বার ব্যবহার করতে পারবেন। হয়তো তার কারণেই এটার নাম
সুপার ড্রাগন কনডম দেয়া হয়েছে।
কনডম ব্যবহার করলে কি গর্ভবতী হয়
কার্যকর একটি উপায় হচ্ছে কনডমের ব্যবহার। এটি যৌনবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা করে।
কিন্তু কনডম সবসময়ই নিখুঁত কাজ করে না। কনডমের প্যাকেটে দেয়া থাকে ১০০%
কার্যকরী তবে পৃথিবীতে কোন জিনিসই ১০০% হয় না তাই বলা যায় কনডমের কার্যকরী
ক্ষমতা ৯০%। তবে গবেষণা করে জানা গেছে সঠিকভাবে পুরুষ কনডম ব্যবহার করা হলে
গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৯০% কমে যায়।
গর্ভবতী হয়ে পড়ে। কারণ পুরুষ সঙ্গের অজ্ঞানতা। তবে সেটাও জানা উচিত ফিমেল কনডম
মেল কনডম এর তুলনায় কম কাজ করে। ফিমেল কনডম আমাদের বাংলাদেশের পাওয়া যায় না।
মেযদের কনডমের নাম
পাওয়া যায় না। কারণ মেয়েরা সাধারণত কনডম ব্যবহার করে না বা করতে চাই না।
মেয়েরা অনেকে ফিমেল কনডমের ব্যবহার সঠিকভাবে জানে না। কারণ এই ঝামেলা মেয়েরা
নিতে চায় না আর মেয়েদের কনডম পরোটা ঝামেলার তাই অনেকেই এটা পছন্দ করে না। আসলে
জিনিসটা যে আপনি ব্যবহার করবেন এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানবেন তার জন্য জিনিসটা
বাংলাদেশ এভেলেবল থাকতে হবে আর আপনার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে আপনি যদি বাংলাদেশে
থাকেন তাহলে আপনি ফিমেল কনডমগুলো পাবেন না।
কনডম ব্যবহারের উপকারিতা
হয় তা সবটুকুই নিজের জন্য বা বলা যায় ফিফটি পার্সেন্ট ভাগ্যের কারণে হয়।
অ্যালোভেরা কনডম স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। অ্যালোভেরা কনডম এর ভিতরে
লুব্রিকেটিং এবং পিচ্ছিল উপাদান দেওয়া আছে যা জীবন সঙ্গিনীর সাথে মিলনের সময়
ব্যথা প্রতিরোধ করে।
তবে অতিরিক্ত লুব্রিকেটেড কনডম এর ক্ষেত্রে উপযুক্ত অংশীদারের জন্য শুকনোতা বেশি
কারণ এই কমিউনিটিতে স্টিকিও তরল থাকে যা ব্যাথার রোধের জন্য কাজ করে। আরেক ধরনের
কনডমের মধ্যে ছোট ছোট বিন্দু থাকে। এটি জীবন সঙ্গিনীকে অনেক আনন্দ দিয়ে থাকে এবং
যোনিতে মসৃণতা বাড়ায়। এর বাইরেও যৌন মিলন খুব পরিপূর্ণ করতে সাহায্য করে।
একটি কনডম কতবার ব্যবহার করা যায়
রয়েছে এই কনডম করলে আপনি একবার ব্যবহার করলে ফেলে দিতে হয়। কারণ এর ভিতরে যে
লুব্রিক্যান্ট থাকে সেটি একবারে সঠিকভাবে থাকে না। অথবা কনডম এর অনেকটাই খারাপ
অবস্থা হয়ে যায়। এছাড়াও আরেকটু বড় সমস্যা হলো আপনি যদি এখন কোন কনডম ব্যবহার
করেন সেখানে বীর্যপাত হবে অথবা আপনার সঙ্গে লেগে যাবে। যেটা পরবর্তী সময়ে আপনি
ব্যবহার করতে চান তাহলে খুব সহজে আপনার যৌন রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
কনডম ব্যবহারে ইসলাম কি বলে
ব্যক্তির নিয়ত, ইচ্ছা, বিশ্বাস ও মানসিকতার উপর। যেসব মানসিকতা ও বিশ্বাসের
কারণে অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইসলামী শরীয়তে অনুমোদিত নয়। আমাদের
ইসলামে কনডমের ব্যবহার সরাসরি মানা নেই তবে কিছু কিছু বিশ্বাস ও মানসিকতা মাথায়
নিয়ে যদি কনডম ব্যবহার করা হয় তাহলে এটি অবশ্যই নিষিদ্ধ এবং হারাম। নিম্নে যে
বিশ্বাস এবং মানসিকতা নিয়ে কনডম ব্যবহার করলে নিষিদ্ধ এবং হারাম হবে তা দেওয়া
হলঃ
- নিজেদের সৌন্দর্যকে দীর্ঘায়িত করার জন্য কনডম ব্যবহার করা।
- কন্যা সন্তান জন্ম নেয়ার আশঙ্কায় কনডম ব্যবহার করা।
-
গর্ভধারণ কষ্ট, প্রসব বেদনা, দুগ্ধ দান এবং শিশুর সেবা যত্নের কষ্ট
ঝামেলা পরিত্রাণ লাভের লক্ষ্যে কনডম ব্যবহার করা। - অধিক সন্তান গ্রহণকে লজ্জাকর মনে করে কনডম ব্যবহার করা।
- আর্থিক অভাব অনটনের ভয়ে কনডম ব্যবহার করা।
অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যার কারণে সমাজে কুশিক্ষা, কুসংস্কার ও দারিদ্র্য সৃষ্টি
হওয়া এজাতীয় বিশ্বাস ও চিন্তা চেতনা থেকে কনডম ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে
নিষিদ্ধ এবং হারাম।
কনডম ব্যবহারে কি ক্ষতি হয়
পারে। মেয়াদ উত্তীর্ণ কনডম ব্যবহারে যৌন অঙ্গে ক্ষত তৈরি হয় এবং জ্বালাপোড়া
হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকালে ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি মিলনের সময়
কনডম ছিড়ে যায় তাহলে বীর্য যোনিপথে প্রবেশ করতে পারে এর ফলে জীবনসঙ্গিনী
গর্ভবতীও হতে পারে।
সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে কনডম ব্যবহার করলে যৌন মিলনের তৃপ্তি কমে যায় এমন
ধারণা অনেকেরই আছে। মিলন কালে কনডম ব্যবহার করা বা না করার সঙ্গে যৌনাঙ্গে
সংবেদনশীলতার কোন তারমম্য হয় না।
কোন কনডম ব্যবহার করা উচিত
আমাদের দেশে পুরুষের কনডমের অনেক ফ্লেবার পাওয়া যায়। যার মধ্যে চকলেট,
ভ্যানিলা, অ্যাপেল, স্ট্রবেরি, কফি, প্যানথার ইত্যাদি পাওয়া যায়। এই
জাতীয় কনডম ওরাল সেক্সের এসটিডিটির ঝুঁকি দূর করে। কনডম কি ও কনডমের
ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আপনারা পড়েছেন। অতএব বলা যায় যেগুলো একটু কম
দামি সেই ধরনের কনডমগুলো ব্যবহার করা একদম উচিত নয় এগুলো ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি
বেশি থাকে।
শেষ কথা
বুঝতে পেরেছেন। আপনারা যারা বিবাহিত এবং অবিবাহিত আছেন তাদের সবার জেনে রাখা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য আপনাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমাদের এই
পোস্টটিতে কনডমের ব্যবহারের সঠিক নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যদি আমাদের
পোস্টটা ভালো লেগে থাকে তাহলে বেশি বেশি শেয়ার করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন।
ধন্যবাদ।


Leave a Reply