উকুনের সমস্যায় ভোগেনি এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। একবার না একবার কোন
সময় তাদের উকুন হয়েছে এবং সেগুলোর সমস্যায় ভুগতে হয়েছে। এটি অতি
সাধারণ একটি সমস্যা তবে এটি অনেক বিরক্তিকর। এর কারণে অনেকে রাত্রে ঠিকমতো ঘুমাতে
পারেনা। মাথায় চুলকানি সৃষ্টি হয়।
উকুন তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে যেতে পারে। যাদের মাথায় উকুন আছে তাদের সংস্পর্শে যে
মানুষগুলো আসবে তাদের মাথায় উকুন পার হয়ে যেতে পারে। আর উকুনেরা অনেক
তাড়াতাড়ি বংশবৃদ্ধি করে। একটি ও কোন ছয় থেকে সাতটি ডিম দেয়। আর এগুলো এক
সপ্তাহ পর ফোটে। তাই আপনাদের সামনে নিয়ে আসলাম এখন দূর করার ঘরোয়া উপায়
সম্পর্কে আর্টিকেল।
ভূমিকা
মাথায় চুলকানির সৃষ্টি হয়। মাথায় উকুনের সংখ্যা কম থাকলে কোন ধরনের সমস্যা হয়
না কিন্তু যখন উকুন বেড়ে যায় তখন অনেক সমস্যা হতে থাকে। তাই উকুন নিয়ে অনেকেই
চিন্তিত। তাহলে চলুন জেনে কিভাবে উকুনগুলো সহজেই তাড়ানো যায়।
আপনারা চাইলে উপর ঘরোয়া উপায়ে তাড়াতে পারেন কিংবা বাহিরের মেডিসিন, শ্যাম্পু
ব্যবহার করে তাড়াতে পারেন। কিন্তু বাইরের মেডিসিন কিংবা শ্যামপুর কিছু পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তাই অনেকেই ঘরোয়া পদ্ধতি বেশি পছন্দ করেন।
দ্রুত উকুন দূর করার ঘরোয়া উপায়ঃ
জীবনে একবার না একবার সকলেই উকুনের সমস্যায় ভুগেছেন। ও কোন অতি সাধারণ একটি
সমস্যা। এটি অতি সাধারণ সমস্যা হলেও, অনেক মানুষের জন্য এটি অনেক বিরক্তিকর। কারণ
উকুন মাথায় থাকলে, মাথায় বিভিন্ন ধরনের চুলকানি এবং দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ফলে
মানুষ তাদের থেকে এড়িয়ে চলতে থাকে। হুকুম শুধু চুলকানি কিংবা দুর্গন্ধের সৃষ্টি
করে না বরং এটি চুলে খুশকির সৃষ্টি করে। আবার অনেকেই এর জন্য রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে
পারেন না।
এ ধরনের সমস্যার জন্য অনেকেই উকুন দূর করার বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল
ব্যবহার করেন। কিন্তু আপনারা চাইলে, বাড়িতেও কোন দূর করতে পারবেন। এখন দূর করার
বেশ কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। এই ঘরোয়া উপায় গুলো ব্যবহার করলেও খুব সহজেই
উকুনের সমস্যা থেকে দূরে থাকা যাবে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে দুইভাবে উকুন করা যায়।
প্রাকৃতিক উপায় ও ভেষজ উপায়ে।
প্রাকৃতিক উপায়ঃ
এই প্রাকৃতিক উপায় ও কোন দূর করতে হলে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। আপনি যদি ধৈর্য
ধরে দুই সপ্তাহ হয়ে উপায় টা অবলম্বন করেন, তাহলে আপনার কোন ধরনের বাহিরে
কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হবে না। আপনারা হয়তো প্রায় সকলেই জানেন যে বাহিরের উকুন
নাশক কেমিক্যাল গুলো সব সময় ভালো হয় না। এগুলোর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিও
রয়েছে। আর আপনারা যদি এই প্রাকৃতিক উপায়টি ব্যবহার করেন তাহলে দুই সপ্তাহে।
আপনার উকুন দূর হয়ে যাবে।
এই উপায়টি হলোঃ সপ্তাহের চার দিন চুল ভেজানোর পর অর্থাৎ বা গোসলের
পর উকুন তোলার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াতে হবে। আপনি চাইলে চুলের তেল দেওয়ার
পরও এমনটি করতে পারবেন। কারণ ভেজা অবস্থায় কোন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়
নড়াচড়া করতে পারে না। এর ফলে এই সময় যদি আপনি চিরুনি দিয়ে
চুল আচড়ান তাহলে বেশিরভাগ উকুনি উঠে চলে আসবে। এই দুই সপ্তাহে চারদিন
করে চুল আঁচড়াতে হবে। আর এই চার দিনের মধ্যে তিন দিন তিন দিন করে গ্যাপ
রাখতে হবে।
কারণ চিরুনিতে উকুন গুলো উঠে গেলেও উকুনের ডিমগুলো তো থেকে যায়। এই ডিম গুলো
পরবর্তীতে উকুন হিসেবে জন্মায়। এ কারণেই মূলত চিরনি দিয়ে আঁচড়ানোর পরও উকুন দূর
হয় না।
আর উঠে আসে না। কারণ উকুনের তুলনায় এই ডিম গুলো অনেক ছোট আকারে হয়ে থাকে। এগুলো
প্রায় এক সপ্তাহ পর ডিম থেকে বের হয়। আর আপনি যদি তিন দিন পর পর চুল আঁচড়ানো
হয় তাহলে, চিরনিতে যে ছোট ছোট গুলো উঠে আসেনি, সেগুলো চার দিন পর আরো বড় হয়ে
যাবে এবং চিরুনিতেও চলে আসবে। এভাবে চুল আঁচড়াতে থাকলে একটা সময় গিয়ে সব উকুন
শেষ হয়ে যাবে।
করতে হবে এবং একই দিনেই পর পর চুল আঁচড়াতে হবে। এভাবে সবার উকুন শেষ হয়ে যাবে।
গবেষণায় জানা গেছে যে, উকুন নাশক তেলের থাকেও এ পদ্ধতিটি অনেক বেশি কাজ করে।
ভেষজ উপায় ও উকুন দূর করুন
উকুন দূর করার জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উপাদান ব্যবহার করে থাকেন। এগুলো
করার মাধ্যমে অনেক উকুন দূর হয়ে যায়। আপনারা চাইলেও এগুলো ব্যবহার করতে
পারেন। এগুলোর মধ্যে কমন যে মিলটি রয়েছে, সেটি হল তেতো জিনিস যেমনঃ নিম
পাতা, মেহেগুনি গাছের ফল, রসুন ইত্যাদি আরো জিনিস ভেষজ উপাদান বানানো হয়। তাহলে
চলুন দেখি নি, ঘরে তৈরি করা কিছু ভেষজ উপাদান।
নিম পাতার সাহায্যে উকুন দূর
নিম পাতা যে শুধু চুলের উকুন দূর করতে সাহায্য করে তা কিন্তু নয়। নিম পাতা
আমাদের চুলের জন্য অনেক উপকারী। বানাতে হলে প্রথমে নিমপাতা কে ব্লেন্ড করে, এর রস
বের করে নিতে হবে। রসগুলো বের করে নেওয়ার পর, সেখানে নারকেল তেল ব্যবহার করতে
হবে।
শুকিয়ে গেলে চুলে দিয়ে দিতে হবে। যেভাবে সাধারণত তেল দিয়ে থাকেন ঠিক সেভাবে
তুলে দিতে হবে। এবার সারা রাত রেখে দিতে হবে। পরের দিন গোসল করার আগে একবার চুল
আঁচড়িয়ে নিতে হবে। এরপর ভালো করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এটি সপ্তাহে তিন দিন
ব্যবহার করতে হবে। এই তিন দিন ব্যবহারের ফলে অনেক ভালো উপকার পাবেন।
মেহেগুনি গাছের ফল
এদিকে পাওয়া হয়তো কষ্টসাধ্য। কিন্তু এই মেহেগুনির গাছের ফল নিম পাতার থেকেও
অনেক তেতো হয়ে থাকে। এই যে উকুন মারতে অনেক ভালো কাজ করে। এই ফলের ভেতরে
থাকা অংশগুলো ব্লেন্ড করে নিতে হবে, এরপর মাথায় ব্যবহার করতে হবে। এদিকে
তিন থেকে চার ঘন্টা তুলে রাখার পর শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এটি কেউ সপ্তাহে তিন
বার ব্যবহার করতে হয়। এতে অনেক ভালো কাজ করে।
রসুন
দূর করতে অনেক ভালো কাজ করে। প্রথমে রসুনকে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
ব্লেন্ড করে নেয়া পর সেখান থেকে রসগুলো বের করে নিতে হবে। এবার সেখানে এক চামচ
লেবুর রস যোগ করতে হবে। এর পর এটিকে চুলে লাগিয়ে দুই ঘন্টা রেখে দিতে হবে। দুই
ঘন্টা রেখে দেওয়ার পর চুল ভালো করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এটিকে সপ্তাহে দুইবার
ব্যবহার করতে হবে ।
উকুন দূর করার মেডিশিনঃ
প্রথমে উকুনকে খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে ধরা হতো কিন্তুএকটা সময়ে উবনে প্রকপ অনেক
বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় থেকে উপন্যাসক বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করা হয়।
বিভিন্ন গবেষণা করে অনেক ধরনের প্রোডাক্টস বের করা হয়েছে। এগুলো বাজারেও অনেক
বিক্রি হয়।
ALICE-Lotion
এ লোশনটি ছয় মাস বা তার বেশি বয়সে উকুন রোগীদের মাথায় ব্যবহার করার জন্য
উপযোগী। এই রসুনটি মাথায় দেওয়ার পর দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এর দাম ১৩০
টাকা।
পারমিথ্রিন
এটিও উকুন দূর করার জন্য অনেক কার্যকরী। এটি ব্যবহার করার জন্য নারিকেল তেলের
সাথে সামান্য পরিমাণে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশিয়ে নেওয়ার পর আধা ঘন্টা চুলে
রেখে।ভালো করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।
উকুন দূর করার শ্যাম্পুঃ
বাজারে বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু কিনতে পাওয়া যায়। তবে সব ধরনের শ্যাম্পু ভালো
হয় না। কিন্তু দুই ধরনের শ্যাম্পু বর্তমানে অনেক বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং
এগুলোর কার্যকারিতা অনেকে পেয়েছে। তাই চলুন জেনে কোন শ্যাম্পু গুলো উপভোগ করতে
অনেক ভালো কাজ করে।
- মেডিকোর আন্টি ট্রিটমেন্ট
- ইংলিশ শ্যাম্পু
লেখক এর মন্তব্য
প্রিয় পাঠক আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনার সম্পূর্ণরূপে পড়েছেন এবং জানতে
পেরেছেন উকিল দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে এবং উকুন দূর করার মেডিসিন
সম্পর্কে। যদি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনি কোনভাবে উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট
করে জানাবেন।







Leave a Reply