মানুষ কেন ব্যর্থ হয়? কারণ তার লক্ষ্যের বিপরীত জিনিসের প্রতি সে ডুবে যায়।
পৃথিবীর প্রায় ৯৫ ভাগ মানুষ তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।
কিন্তু এর ৫% মানুষ জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়। কিন্তু কেন? জীবনে যারা সফল হয়েছে তারা কি ব্যর্থতার সিঁড়ি পার করেনি। আজকে যারা সফলতা অর্জন করেছে তাদেরকেও ব্যর্থতার সিঁড়ি পার করে জীবনের সফলতা অর্জন করেছে।
তাই আজকে আমরা আলোচনা করব একজন ব্যর্থ মানুষের লক্ষণগুলো কি কি এই বিষয়ে। জানতে হলে আজকের এই আর্টিকেলটি একদমই মিস করবেন না। বিস্তারিত আলোচনাগুলো জেনে নেই।
আপনি কি একজন ব্যার্থ মানুষ? তাহলে মিলিয়ে নিন কিছু লক্ষণগুলোঃ
আসলে আমাদের জানা প্রয়োজন আমরা কি ব্যর্থ মানুষ কিনা। তাহলে আমরা আমাদের ভুলগুলো
শুধরাতে পারবো এবং নতুন করে শুরু করতে পারব। সফলতার দিকে আবার এগিয়ে যেতে পারবো।
তাই অবশ্যই জানা উচিত আমরা কি একজন ব্যর্থ মানুষ কিনা।
সময় নষ্ট করাঃ
আপনি যদি সত্যিই একজন ব্যর্থ মানুষের থাকেন, তাহলে এই সময় নষ্ট করা অভ্যাসটি
অবশ্যই আপনার মধ্যে থাকবে। কারণ আপনার কাছে সময় থাকা সত্ত্বেও সে সময় কি আপনি
কাজে লাগাতে পারছেন না। তাহলে অবশ্যই আপনি একজন ব্যর্থ মানুষ।
সঠিক সময় যদি আপনি আপনার সময়কে কাজে লাগাতে না পারেন। তাহলে পরে এ কাজ কখনোই
করতে পারবেন না। তাই সময় থাকতেই, সময়কে নষ্ট করা বন্ধ করুন।
নিতিবাচক চিন্তা ভাবনা করাঃ
যারা জীবনে সত্যিই ব্যর্থ মানুষ তারা সব সময় নেতিবাচক চিন্তাভাবনা করে। কারণ
তাদের কোন কাজ নেই। আপনি যদি আপনার নিজের উপরে বিশ্বাস না রাখতে পারেন তাহলে কি
করে সফলতার চূড়ায় কি করে পৌঁছাবেন। তাই সফল হতে গেলে নীতিবাচক চিন্তাভাবনা
বাদ দিতে হবে। আর যারা আসলে একজন ব্যার্থ মানুষ, তারা জীবনে কিছু করতে পারবে না।
তারা এ নীতিবাচক চিন্তা ভাবনা গুলো ছাড়তে পারবে না।
অজুহাত দেখানোঃ
ব্যর্থতা মানুষের অন্যতম একটি লক্ষণ গুলোর মধ্যে হল সবসময় অজুহাত দেখানো। তারা
নিজেদেরকে নিজেরাই অজুহাত দেখায়। কাজ ফাঁকি দেয়। তারা যদি নিজেদেরকে অজুহাত
দেখায় তাহলে, সফলতা চুরায় এটা পৌঁছাতে পারবেনা। তাই ব্যার্থ মানুষ থেকে
একজন সফল মানুষ হতে হলে অজুহাত দেখানো বন্ধ করতে হবে। নিজেকে অজুহাত দিয়ে নিজের
জীবনের ক্ষতি করা যাবে না।
অলসতা করাঃ
একজন মানুষের কাজই হল অলসতা করা। কোন কাজ ঠিকমতো না করা। পরে করবো বলে রেখে। এই
পরে করব যে কবে আসবে তার কোন ঠিক নেই। তাই একজন সফল মানুষ হতে হলে অলসতাকে বাদ
দিতে হবে। সফলতার চাবিকাঠি হল অধ্যবসায়। আর অধ্যাবসায় আপনি বারবার হেরে যাবেন
এবং সেখান থেকে আপনাকে শিখতে হবে। অলসতা করে পরে করব বলে রেখে দেওয়া যাবে না।
ব্যর্থতা দূর করার উপায়ঃ
একজন মানুষ যখন সোজা হাঁটতে থাকবে কিংবা দৌড়াতে থাকবে একবার না একবার কোন
জায়গায় সে হোঁচট খাবে কিংবা বাধাগ্রস্ত হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কোন কাজই
বাধা ছাড়া হয় না। সফলতার পেছনে রয়েছে অনেক ব্যর্থতা। ছাড়া কখনো সফলতা পাওয়া
যাবে না। কিন্তু ব্যর্থতা পেতে পেতে ব্যর্থতায় অভ্যস্ত হয়ে গেলেও হবে না। জানতে
হবে কিভাবে এই ব্যর্থতা দূর করব। তাহলে চলুন দেখে নেই দূর করার কিছু উপায়।
লক্ষ্য স্থির করে কাজ করতে হবে
জীবনে যদি লক্ষ্যই না থাকে, তাহলে এই জীবনের মানেটাই মূল্যহীন। কারণ প্রতিটা
মানুষের একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্যই পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সফলতার প্রথম ধাপই হল
এই লক্ষ্য স্থির করা। আপনি যদি আপনার লক্ষ্য স্থির রাখতে পারেন তাহলে, ব্যর্থতার
মাত্রা অনেকটাই কমে যাবে। যে আপনি কোন দিকে এগিয়ে যাবেন।
আর যদি লক্ষ্য না থাকে তাহলে, আপনি সব দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। যে কোন দিকে
গেলে আপনার ভালো হবে। এই চিন্তা করে আপনি আর আপনার কাছে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে
যেতে পারবেন না। তাই জীবনের সফল হতে হলে অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে।
পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে
জীবনে লক্ষ্য স্থির করা পাশাপাশি পরিকল্পনা করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর
পরিকল্পনা করার মাধ্যমে ব্যর্থতার সংখ্যা অনেকটাই কমে যাবে। কারণ আপনি যখন কোন
কাজের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করবেন তখন সেই কাজে কি কি করতে হবে এবং কি কি
করতে হবে না সে সম্পর্কে আপনি খুব ভালো করে ধারণা রাখতে পারবনা।
এতে করে আপনার যে ব্যর্থতা হওয়ার আশঙ্কাটা অনেকটাই কমে যাবে। আপনি যদি
দৌড়াতে পারেন তবে আপনি সফল হবেন। কিন্তু আপনি কিভাবে দৌড়াবেন কিংবা কত সময়
দৌড়ালে আপনি সফল হতে পারবেন। কোথায় গিয়ে আপনি দৌড়ানো শেষ করবেন।
ভয় দূর করতে হবেঃ
আপনি দৌড়াচ্ছেন কিন্তু কোথাও না কোথাও তো আপনি বাধা গ্রস্থ হবেন। এটা স্বাভাবিক
ব্যাপার। তেমনি জীবনে ব্যর্থতা একটি স্বাভাবিক ব্যাপ। দৌড়াতে গিয়ে আপনি বাধা
প্রস্তুত হচ্ছেন বলে দৌড়ানো ছেড়ে দেবেন। কখনোই না আপনাকে আবার শুরু করতে
হবে।
এটাই তো জীবন। তাই ব্যর্থতাকে ভয় করে বসে থাকলে হবে না ।সামনের দিকে আরো এগিয়ে
যেতে হবে। তাই জীবনে ব্যর্থতা দূর করতে হলে ভয়ে দূর করতে হবে। তাই ভয় দূর
করে চেষ্টা করা উচিত যেন পরে পস্তাতে না হয়।
হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে নাঃ
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ব্যর্থ তাকে দেখে হাল ছেড়ে দেয়। যে তাদের দ্বারা
কিছু হবে না। তারা কিছু করতে পারবে না। সফল হওয়ার চাবিকাঠি হল অধ্যবসায়।
অধ্যবসাই মানে বারবার চেষ্টা করা। আপনি যত চেষ্টা করবেন আপনার মনের সাহস আরো
বাড়বে। আপনি সেই কাজের প্রতি আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে।
সেই সঙ্গে আপনি যত চেষ্টা করবেন, যত হেরে যাবেন। সেখান থেকে আবার নতুন করে শিখতে
পারবেন। কথায় আছে মানুষ ভুল থেকে শেখে। তাই আপনি যত ভুল করবেন ততই শিখতে
পার্বেন। তাই কখনোই হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সব সময় আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।
আপনি আজকে হেরে গেছেন বলে কালকেও হেরে যাবেন এর কোন মানে নেই। তাই বারবার চেষ্টা
করা উচিত। একবার না একবার আপনি তো সফল হবেন।
আত্নবিশ্বাস বাড়ানোঃ
ব্যর্থতা দূর করার অন্যতম উপায় হল আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। আত্মবিশ্বাসের হাত ধরে
আপনি সফলতার চূড়ায় যেতে পারবেন। কারণ আপনার যদি নিজের উপর ভরসা না থাকে যা আপনি
কাজটা করতে পারবেন কি পারবেন না। তাহলে আপনি জীবনে কি সফল হতে পারবেন? কখনোই না।
আপনার নিজের উপর আত্মবিশ্বাস না থাকলে, কখনো সফল হতে পারবেন না। আর এই
আত্মবিশ্বাসী ব্যর্থতাকে হার মানিয়ে সফলতার চূড়ায় যেতে পারে। তাই সফল হতে হলে
অবশ্যই আত্মবিশ্বাস বাড়ানো প্রয়োজন।
অজুহাত দেখানো জাবেনাঃ
অনেকে কাজ করতে করতে অজুহাত দেখায়। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো পরীক্ষা দেওয়া।
এর কারণ পরীক্ষার আগের সময় থাকতেও তারা পড়ে না। বলে যে আরো অনেক দিন আছে
পরীক্ষায় এক মাসের মধ্যে সব পড়া কমপ্লিট হয়ে যাবে। তারা তাদের দিচ্ছে, তারা তো
নিজেদেরকে অজুহাত দিচ্ছে। নিজেদেরকে অজুহাত দিয়ে তারা কি কোন বড় কাজ হাসিল করতে
পারছে।
কখনোই না। বরং তার নিজেদের জীবন নিজেরাই নষ্ট করছে। আপনি একটি কাজে একবার ব্যর্থ
হয়েছেন বলে পরে অজুহাত দেখে বলছেন পরে করব পরে করব। এমনটি করা যাবেনা বরং আপনাকে
আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।







Leave a Reply