কতদিন পর বেল পড়তে হয় এসব বিষয়। আপনি যদি না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই পর্বের
মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিতে হয়।
এইসব বিষয় জানতে হলে আজকের এই পর্বটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
সিজারের পর মায়ের যত্নঃ
একজন মায়ের যখন সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হয়, তখন সে অনেক চিন্তিত থাকে
যে তার কি করা উচিত এবং কি কি করা উচিত নয়। আবার সে কিভাবে নিজের যত্ন নিবে।
কিভাবে বাচ্চার যত্ন নেবে। এসব অবশ্যই জানা প্রয়োজন। একজন মা যখন প্রেগন্যান্ট
হয়, তখন যেমন তার ভবিষ্যতের বাঁচার জন্য ডাক্তারের কাছে চেকআপ করান। ঠিক
তেমনি ডেলিভারির পরও তাকে চেকআপ আপ করাতে হবে। নিজের এবং বাচ্চার
যত্ন নিতে হবে।
নবজাতকের বুকে দুধ খাওয়ার সঠিক নিয়মঃ
সিজারের পর যখন বাচ্চা হয়ে যায়। তখন প্রথমে এই প্রশ্নটা আসে যে, এ সময় কি
মায়ের দুধ খাওয়ানো ভালো হবে। যদি মায়ের পেটে কোন টান লাগে কিংবা ব্যথা অনুভব
হয়। তাহলে কিভাবে নবজাতক শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে। এই নিয়ে
অনেকেরই চিন্তার কোন শেষ নেই। যখন বাচ্চাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে, তখন মাকে
উঠে বসাতে হবে। তারপরে তার বাচ্চাকে ঠিকমতো কোলে নিয়ে দুধ খাওয়াবে।
এতে তার পেটেও কোন চাপ পড়বে না এবং বাচ্চাও ঠিকমতো দুধ পাবে। এবং পরবর্তীতে
দুধ না হওয়ার যে সমস্যাটি সেটিও আর হবে না।
সিজারের পরবর্তীতে যেসব খাবার খেতে হবেঃ
এরপরে আসে খাবারের কথা। যে কোন কোন খাবার খাওয়ানো উচিত এবং কোন কোন খাবার
খাওয়ানো উচিত নয়। সে সময়ে সব রকমে খাবার খাওয়ানো যাবে। সিজানের পর পুষ্টিকর
খাবার বেশি খাওয়াতে হবে। যেমন ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম,আয়রন ও এন্ড্রোক্সিজেন
জাতীয় খাবার বেশি বেশি খাতা হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে সিজারের পর পর টক
জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না।
তাহলে সিজারের জায়গায় যে কাটা অংশটি রয়েছে সেটি শুকাতে সময় লাগবে। তাই
এই সময়ে টক জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। আর এই সময়ে যেন কোষ্ঠকাঠিনের কোন
সমস্যা না হয় সেদিকে ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সে যখন বারবার বাথরুমে
যাবে তখন তার পেটে চাপ পড়বে। তাই বেশি বেশি পানিও খেতে হবে। আর কোষ্ঠকাঠিন্য
হওয়ার মতো কোনো খাবার বেশি বেশি খাওয়া যাবে না।
সিজারের কতদিন পর জার্নি করা যায়
সিজারের পর যখন সন্তানের মা অনেকটাই সুস্থ হয়ে যাবে, তখন তো সে নিশ্চয় বিছানা
থেকে নেমে হাঁটা চলার চেষ্টা করবে। কথা হলো কতদিন পর হাঁটাচলা করলে ভালো হবে
এবং কতক্ষণ হাঁটাচলা করতে হবে। যেন সে হাঁটা চলার ফলে কোন রকম পেটে চাপ না পরে।
দিনে পাচ থেকে ছয় মিনিট হাঁটাচলা করাই ভালো। এতে করে তার শরীরে রক্ত
চলাচল টা ঠিক থাকবে।
সিজারের পর কাটা জায়গার যত্নঃ
সিজারের পর পর যে কাটা জায়গাটা থাকে, সেটির যত্ন করার নিয়েও অনেকে
চিন্তায় ভোগেন। সিজারের পর তিন থেকে চার দেন হসপিটালে থাকতে হয়। এর সাত
দিন পর সিজারে সেলাইয়ের জায়গাটা খুলে দেওয়া হয়। আর খেয়াল রাখতে
হবে সেলাই জায়গাটা কোন ভাবে চানা ভিজে না যায়। না গোসল না করে হাত
মুখ ধোয়াই ভালো।
সিজারের কত দিন ভারী কাজ করা যাবেনাঃ
সিজার পর সেলাই করা জায়গায় যেন কোন ধরনের টান না লাগে সে জিনিসটা খেয়াল
রাখতে হবে। আর যখন সেলাই খুলে দিবে, এরপরে ভারী কাজ না করাই ভালো। আর খুব বেশি
নিচু হয়ে কাজ করবেন না। এতে করে পেটে চাপ লাগতে পার। আর সিগারেট তিন মাস
পর্যন্ত কোন ধরনের ভারি কাজ করা যাবে না।
উপর থেকে সেলাই করা জায়গাটা ভালো দেখা গেল ভেতরে কিন্তু খুব একটা ভালো
থাকে না। তাই তিন থেকে চার মাস কোন ধরনের ভারী কাজ না করাই ভালো।
সিজারের পর কখন ডাক্তার দেখানো উচিতঃ
সিজারের পর চারবার ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। এ চারবারের মধ্যে
হসপিটালে থাকা অবস্থায় দুইবার চেকআপ হয়ে যায়। আর বাকি দুইবার ডাক্তার আপনাকে
যে দিন যেদিন চেকআপ করতে বলবে সেদিন আসতে হবে। আর শেয়ার করা জায়গায় যদি কোন
ধরনের ব্যথা কিংবা রক্ত পড়া এ ধরনের সমস্যা হয়। তাহলে দেরি না করে সঙ্গে
সঙ্গে ডাক্তারের নিকটবর্তী হতে হবে।
সিজারের পর যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবেঃ
সিজার করে বাচ্চা ডেলিভারি করা হলে, অনেকেরই খুব একটা সমস্যা হয় না। আবার
অনেকেরই বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই সিজারের পর সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
কারণ অনেক বড় একটা অপারেশনের পর বাচ্চা ডেলিভারি হয়। তাই এসব বিষয়ে আগে
থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আর কি কি বিষয় সতর্ক থাকতে হবে সেগুলোও জানতে হবে। যেন
পরবর্তীতে কোন ধরনের সমস্যা না হয়।
সিজারের পর প্রথম যে সমস্যা হয় সেটি হল অপারেশন করা জায়গায়ঃ
সিজানের পর অনেকেই অপারেশন করা জায়গায় ব্যথা, টান অনুভব করা কিংবা রক্ত,
পুচ বের হয়। এ ধরনের সমস্যা যদি হয়। তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের নিকটবর্তী হতে
হবে। কারণ এ ধরনের সমস্যা অনেক ক্রিটিকাল হয়ে থাকে। আর আপনি যদি সঙ্গে সঙ্গে
ডাক্তারের কাছে না যান তাহলে সেই জায়গাতে বড় ধরনের ঘা হয়ে যেতে পারে। তাই
এসব সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তার পরামর্শ নিতে হবে।
মাথা ঘোরা, ব্যাক পেইন ইত্যাদি আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যাঃ
সিজারের পর এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। শরীর দুর্বল অনুভব করা, অতিরিক্ত মাথা
ঘোরার ব্যাক পেইন ও হতে পারে। আবার অনেকেরই অতিরিক্ত ব্লিডিং হয়। তাই এসব
ধরণের সমস্যার জন্য ডাক্তারের কাছে চেকাপের জন্য যেতে হবে এবং ডাক্তারের কথা
অনুযায়ী চলতে হবে।
জ্বর ভালো না হলেঃ
সিজারের পর ব্যথার জন্য অনেকেরই জ্বর আসে কিংবা শরীরে কাপড় নিয়ে ওঠে। এ ধরনের
সমস্যা স্বাভাবিক। কিন্তু এই সমস্যা যখন অনেকদিন হয়ে যাওয়ার পরও ভালো হচ্ছে
না। তখন এই সমস্যা নিয়ে বসে থাকা যাবে না। অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। আর
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। তাহলে এ ধরনের সমস্যা খুব সহজে
এড়ানো যাবে।
পা ফুলে যাওয়াঃ
সিজারের পর এক থেকে দুই দিন এমনিতেই বেডে শুয়ে থাকতে হয়। আর যদি কোন ধরনের
পেটে ব্যথা কিংবা আরো বেশি ধরনের সমস্যা হয়। এ ডাক্তার বেড রেস্ট করতে
বলে। কিন্তু এর ফলে অনেক সময়, অনেকেরই পা ফুলে যাওয়া কিংবা পায়ের ব্যথার
সমস্যা হয়ে থাকে। তাই এসব সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
এসিডিটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন খাবার খাওয়া যাবে নাঃ
সম্ভাবনা রয়েছে এমন খাবার বেশি বেশি খাওয়া যাবেনা। কারণ কি কোন ভাবে যদি
কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে যায় তাহলে, বারবার বাথরুমে যাওয়ার ফলে পেটে অতিরিক্ত চাপ
পড়বে। এতে করে অনেক সময় সেলাই খুলে যাওয়া কিংবা কাটা জায়গায় কোন
ধরনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বেশি তেল কিংবা চর্বি জাতীয়
খাবার খুব কমই খেতে হবে। এমনকি চা কফি জাতীয় খাবারও ও না খাওয়ার চেষ্টা করতে
হবে।
সিজারের পর কতদিন বেল্ট পরতে হয়
সিজারের পরে কোমরের বেল্ট পড়তে হবে এর বিজ্ঞানসম্মত কোন যুক্তি নেই। আপনি
চাইলে ডাক্তার পরামর্শ নিয়ে বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন। হ্যাঁ তবে এ ধরনের
ব্যবহার করার ফলে, হাঁটাচলা কিংবা কাজকর্মে একটু সুবিধা হয়। পেটে বেশি টাইম
লাগার সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু বের ছাড়া হাঁটাচলা করা যাবে কাজ করা যাবে। এমন
না যে আপনার সিজার হয়েছে বলে বেল্ট নিতেই হবে।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আজকের এই আর্টিকেলে থেকে যদি আপনি কোন ভাবে উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই
কমেন্ট করে জানাবেন এবং আপনি আপনার বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে শেয়ার করবেন।
SR Tech IT
Website: http://srtecit.com


Leave a Reply