শরীরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম যেটি আমাদের
শরীর এবং মস্তিষ্কের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি
আসে এই ম্যাগনেসিয়াম থেকে।
জানতে হলে আজকের এই পর্বটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এই পর্বের মাধ্যমে আপনি
জানতে পারবেন ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে কি রোগ হয় এবং শরীরে কোন কোন
রোগের লক্ষণ দেখা যায়।
ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা গেলে শরীরে কোন ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়ঃ
শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে শরীরে নানা বিধি সমস্যা দেখা দেয়। সেই
সঙ্গে জীবন সুখ দিয়েও পর্যন্ত হ্রাস পায়। বর্তমান
সময়ে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদেরও চিন্তার
কারণ। এখন কথা হল যে, ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে যেভাবে আমাদের শরীরে বিভিন্ন
ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাহলে আমরা কি করে বুঝব যে আমাদের শরীরে
ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অবশ্যই এটি সম্পর্কে আমাদের জানা প্রয়োজন।
না হলে এ থেকে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম এর ঘাটতি হলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা যায় সেগুলো
হলঃ
১। ঘুম ঠিকমতো না হওয়া
ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ঘুম না হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার ঘুমানোর
সময়ও শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা অনুভব করা। মন ভালো রাখার জন্য ম্যাগনেসিয়াম
অনেক সাহায্য করে। অনেক সময় মন ভালো না থাকার কারণেও কিন্তু মানুষের ঘুম হয় না।
তাই ঘুমের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে ম্যাগনেসিয়াম এর অভাব দেখা
দিয়েছে।
২। শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়
ঘুম ঠিকমতো না হওয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যা
মন চোখের সমস্যা, ত্বকের সমস্য্ মাথা ব্যথা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন। এছাড়াও
মাংসপেশীতে বিভিন্ন ধরনের টানের সমস্যাও দেখা দেয়। তাই এই লক্ষণ গুলো শরীরে দেখা
দিলে বুঝে নিতে হবে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে শরীরে।
৩। পেশীতে টান অনুভব করা
ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির লক্ষণের মধ্যে একটি হলো পেশীতে টান অনুভব করা।
সাধারণত মানুষের পিসিতে টান অনুভব হয়। কিন্তু ঘন ঘন পেশীতে টান অনুভব হলে তা
একদমই ভালো লক্ষণ নয়। ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে পেশীতে রক্ত চলাচল করতে
পারেনা। এছাড়া রক্ত অক্সিজেন সারা শরীরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। যদি রক্ত চলাচল
ঠিকমতো না হয় তাহলে অক্সিজেন গুলো সব জায়গায় পৌঁছতে পারে না। এর কারনেও মূলত
শরীরে পেশির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪। রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়
রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেওয়া। এছাড়া
চিকিৎসকেরাও মনে করার রক্তচাপের লক্ষণের কারণ হলো শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা
কমে যাওয়া। তাই রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে বুঝে নিতে হবে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি
দেখা দিয়েছে। এছাড়াও চিকিৎসকেরা মনে করেন রক্তচাপের সমস্যার প্রতিকার না হলে
ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক এর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫। অবোসাদে আক্রান্ত
অনেকদিন ধরে শরীরে ম্যাগনেসিয়াম এর অভাব থাকলে যে কেউ অবসাদে আক্রান্ত হতে পারে।
ম্যাগনেসিয়ামের অভাব যেমন আমাদের শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। তেমনি আমাদের মনের
উপরও প্রভাব ফেলে। ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে অ্যাংজাইটি ডিসঅডারের মতো জটিল
সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৬। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়
ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। হরমোনের
সমস্যা হলে ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায়, শরীর খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে যায়, মানসিক চাপ
বৃদ্ধি পায়, মনের ঘন ঘন ভাবান্তর সহ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
৭। গর্ভধারণের সমস্যা
ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে মহিলাদের গর্ভধারণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও
আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই আগে থেকেই সে সব সম্পর্কে সচেতন থাকতে
হবে।
পরবর্তীতে বড় কোন ধরনের সমস্যা হয়ে যেতে পারে। তাই বেশি বেশি ম্যাগনেসিয়াম
যুক্ত খাবার খেতে হবে। এছাড়াও শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করতো ম্যাগনেসিয়াম সাহায্য
করে। তাই ম্যাগনেসিয়ামের অভাব দেখা গেলে শারীরিক শক্তি কমে যেতে পারে।
বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। হারের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম এর পরিমাণ কমে গেলে
হাড় ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। তাই এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকতে হলে অবশ্যই
ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার খেতে হবে। এখন জানতে হবে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।
ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবারঃ
ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবেও কাজ করে।
পুষ্টিকর উপাদান যেমন আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমায়। তেমনি
পুষ্টিকর উপাদানের অভাবে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিবে। তাই
অবশ্যই নিয়মিত পরিমান মত পুষ্টিকর উপাদান আমাদের খাওয়া উচিত।
পুষ্টিকর উপাদান গুলো আমরা প্রকৃতি থেকে পেয়ে থাকি। প্রাকৃতিক কিছু জিনিস ও
খাবার থেকে পুষ্টিকর উপাদানগুলো আমরা পেয়ে থাকি। তেমনি এক ধরনের পুষ্টিকর উপাদান
হলো ম্যাগনেসিয়াম। এই ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন ধরনের খাবারে পাওয়া যায়।
ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার গুলো হলঃ
১. কলা
২. টুনা মাছ
৩. টক দই
৪. সিমের বিচি
৫. সবুজ শাকসবজি
৬. ডার্ক চকলেট
৭. বাদামি চাল
৮. এভোকাডো
৯. কাঠবাদাম
১০. শস্য দানা
উপরুপ্ত এইসব খাবারের রয়েছে অনেক পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। যা আমাদের
শরীরের জন্য উপকারি। তাই এগুলো খাবার আমাদের খাওয়া উচিত।
ম্যাগনেসিয়ামের উপকারিতা:
সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম যেহেতু একটি পুষ্টিকর উপাদান। তাই এর
উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের জানা প্রয়োজন। তাহলে ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে যে ধরনের
সমস্যা দেখা যায় সেগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ম্যাগনেসিয়াম বিশেষ করে কোষ,
হাড়, হৃদপিণ্ড, পেশী ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া রক্তের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা
দূর করতে সাহায্য করে।
মাসেলের সমস্যা দূর করে
মাসেলের সমস্যা দূর করতে ম্যাগনেসিয়াম অনেক সাহায্য করে। মাসেলগুলো যদি
শক্ত হয়ে যায় তাহলে সে সমস্যা দূর করতেও ম্যাগনেসিয়াম অনেক উপকারি। তাই
মারফেলের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া
প্রয়োজন।
ঘুমের সমস্যা দূর করে
অনেকেরই হয়তো ঘুমের সমস্যা রয়েছে। রাত্রেবেলা ঠিকমতো ঘুম হয় না। এই ঘুমের
সমস্যা প্রায় সবার মধ্যেই রয়েছে। তাই ঘুমের সমস্যা দূর করতো ম্যাগনেসিয়াম অনেক
উপকারী।
হৃদরোগ দূর করতে সাহায্য করে
অক্সিজেন আমাদের শরীরের রক্তের মাধ্যমে পৌঁছায়। তাই অক্সিজেন শরীরে পৌঁছানোর
জন্য রক্ত চলাচল অবশ্যই প্রয়োজন। এর রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে ম্যাগনেসিয়াম অনেক
সাহায্য করে। ফলের হৃদপিন্ডের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়। তাই
হৃদপিন্ডের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার খেতে হবে।
কিডনির বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করে
কিডনির সমস্যা দূর করতে ম্যাগনেসিয়াম অনেক ভালো কাজ করে। কিডনি সুস্থ রাখতে
ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া অনেক জরুরী। তাই কিডনির বিভিন্ন সমস্যা থেকে
দূরে থাকতে হলে ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার অবশ্যই খেতে হবে।
হাড়ের সমস্যা দূর করে
হাড়ের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতে ম্যাগনেসিয়াম অনেক প্রয়োজন। এটি হাড়
ভঙ্গুর হতে বাধা দেয়। এছাড়া হারের বেফে না ধরনের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।
সেসঙ্গে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
রক্তচাপের সমস্যা দূর করে
রক্তচাপের সমস্যা দূর করতে ম্যাগনেসিয়াম অনেক উপকারি। তাই রক্তচাপের মত
সমস্যা থেকে দূরে থাকতে হলে অবশ্যই ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হবে। এছাড়া
রক্তের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতেও ম্যাগনেসিয়ামের অবদান অন্যতম।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আশা করছি আজকের পর্বটি আপনার খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছেন। তাহলে
অবশ্যই আপনি জানতে পেরেছেন ম্যাগনেসিয়াম কমে গেলে কি হয়। আজকের এই আর্টিকেল যদি
আপনার কোন উপকারে লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে শেয়ার
করতে ভুলবেননা।


Leave a Reply