ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা ক্লাস এইট

মানুষ সারা জীবন কিছু না কিছু শিখে। তাই নিশ্চিন্তেই বলা যায় মানুষের পুরো
জীবনটাই ছাত্র জীবন। কিন্তু ছাত্র জীবন বলতে আমরা বুঝি স্কুল কলেজ ও
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনকে। জীবন গঠনের জন্য মানুষকে একটি
বিশেষ সময়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের
এই সময়টুকু মানুষের ছাত্র জীবন।     

আজকের এই পর্বে আমরা জানবো ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ছাত্র জীবনের
লক্ষ্য, ছাত্র জীবনে কিভাবে চরিত্র গঠন করতে হয় ছাত্র
জীবনের নিয়মাবর্তিতা আরো অনেক বিষয় জানতে হলে আমাদের সঙ্গেই
থাকুন।

ভূমিকাঃ 

ছাত্রজীবন মানব জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় । এ সময় যেভাবে নিজেকে গড়ে
তোলা হয়, সারা জীবন সে রকম ফল পাওয়া যায়। ছাত্র জীবনকে বলা হয় প্রস্তুতির
জীবন। জ্ঞান বিজ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হয় এই
ছাত্র জীবনে। সুতরাং বৃহত্তর জীবনের পটভূমিতে ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য
অনেক। 

ছাত্র জীবনের লক্ষ্য

‘ছাত্র নং অধ্যয়ন তপ’ অধ্যয়নই হচ্ছে ছাত্রদের একমাত্র তপস্যা। ছাত্র জীবনের
প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো অধ্যয়ন ও জ্ঞান অর্জন। ছাত্রছাত্রীদের কঠোর পরিশ্রম ও
তপস্যার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করতে হবে। ভবিষ্যতের দেশ ও জাতিকে
সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার গুরু দায়িত্ব তাদের উপরে অর্পিত হবে। সেগুলো দায়িত্ব
গ্রহণ করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

ছাত্র জীবনের কর্তব্য

জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগী একজন ছাত্রের প্রধান কর্তব্য। এজন্য একজন শিক্ষার্থীকে
পাঠ্যপুস্তক এর বাইরে আরো অনেক বেশি পড়াশোনা করতে হয়। আর এভাবে প্রকৃত জ্ঞান
অর্জনের সাথে সাথে তাকে মানব চরিত্রের নানাবিধ গুণাবলী অর্জন করতে হয়। যেমনঃ

১)চরিত্র গঠনঃ চরিত্র হচ্ছে মানব জীবনের
মুকুলস্বরূপ। ছাত্রদের একটি প্রধান কাজ হল চরিত্র গঠন ।তাই এর সময় প্রত্যেক
ছাত্রকেই সত্যবাদিতা, সহানুভূতি, সহযোগিতা, পরোপকার উদারতা ধৈর্য সংযোজমদেশপ্রেম প্রভৃতির সদগুণ আয়ত্ত করতে হবে। সব রকম অসৎগণ ও বদঅভ্যাস থেকে
দূরে থাকা একজন ছাত্রের অন্যতম কর্তব্য।

২) নিয়মানুবর্তিতাঃ শৃঙ্খলা ছাড়া
মানব জীবন সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে না। এই শৃঙ্খলা বা 
নিয়মানুবর্তিতা ছাত্র জীবনের অর্জন করতে হয় এই গুণ অর্জনের উপর তার ভবিষ্যতে সাফল্য
নির্ভর করে।

৩)অধ্যবসায়ঃ ছাত্রদের অলসতা ত্যাগ
করে পরিশ্রমী হতে হবে। দেখা যায় অনেক মেধাবী ছাত্র অলসতার কারণে পরীক্ষায়
ভালো ফলো করতে ব্যর্থ হয়। আবার অনেক সময় কম মেধার ছাত্র শুধু পরিশ্রম দ্বারা
আশাতীত সাফল্য অর্জন করে চমক সৃষ্টি করে। তাই ছাত্র জীবনে অধ্যাবসায়ের গুরুত্ব
অপরিসীম।

৪) খেলাধুলা ও ব্যায়ামঃ স্বাস্থ্য
সকল সুখের মূল। আর সুস্থ শরীরে বাস করে সুস্থ মন। শরীর সুস্থ না থাকলে নিয়মিত
লেখাপড়া করা যায় না তাই শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ছাত্রদের নিয়মিত
খেলাধুলা ও ব্যায়াম চর্চা করা খুবই জরুরি।

৫) পিতা মাতার  প্রতি ছাত্রদের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ ছাত্র জীবনে প্রত্যেকটি ছাত্রেরই  পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার। কেননা পিতা-মাতা আছে বলে
আমরা পৃথিবীর আলো দেখতে পেয়েছি। প্রত্যেকটি পিতা-মাতা তার সন্তানের জন্য মঙ্গল
কামনা করে। এবং সন্তানকে সুশিক্ষিত করার জন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে। তার
প্রতিটি ছাত্রেরই উচিত পিতা মাতার প্রতি নম্র ও ভদ্র আচরণ করা এবং বৃদ্ধ বয়সে
তাদের পাশে থাকা।

৬)সহ শিক্ষা কার্যক্রমের অংশগ্রহণঃ
ছাত্রদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সহ-শিক্ষার কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।
যেমন বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্গন গান নাচ অভিনয়
ইত্যাদিতেও তাকে অংশ নিতে হবে।

ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য

ছাত্র জীবনে দায়িত্বের দুটি দিক রয়েছে। একটি হচ্ছে নিজের জীবনকে যোগ্য করে
গড়ে তোলা অপরটি হচ্ছে দেশ ও জাতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। নিজেকে যোগ্য
তোলার দায়িত্ব যথা ভাবে পালন করতে পারলে ব্যক্তি ও জাতি উভয়ের কল্যাণ হয়।
ছাত্ররা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার, আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, শিক্ষা ও
সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। 

তাই দেশের জাতীয় উন্নয়নের সচেতন নাগরিক হিসেবে ছাত্রদের দায়িত্ব সবচেয়ে
বেশি। অতীতের জাতীয় সংকটকালে ছাত্রসমাজই অগ্রগতি চিন্তার পথিকৃৎ হয়ে এগিয়ে
এসেছে। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজের অংশগ্রহণ ছিল খুবই উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতে
জাতির সংকটের সমস্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার কাজে ছাত্র
সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রত্যেক ছাত্রকে পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি
ভালোবাসা পরা প্রতিবেশীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে হবে। সহপাঠীদের সঙ্গে
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে। শিক্ষক গুরুজনদের প্রতি সম্মান করতে হবে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাবার সঙ্গে প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখতে হবে।

উপসংহার

মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি গঠিত হয় ছাত্র জীবনে। আবার দেশ ও জাতির
ভবিষ্যৎ নির্ভর করে ছাত্রদের উপর। তাই ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য
সঠিকভাবে উপলব্ধি করে যথা ভাবে পালন করা প্রতিটি ছাত্রেরই উচিত। এতে দেশ ও
জাতির কল্যাণ এবং উন্নতি সাধন হয়।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকারে লাগবে। যদি
আজকের এই আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে
জানাবেন। আজকে এখানে শেষ করছি পরবর্তীতে আর একটি নতুন আর্টিকেল নিয়ে আপনাদের
সামনে হাজির হব সে পর্যন্ত আপনারা সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *