বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক নির্ভরতার আসে বাংলাদেশে এখন অনেকটাই সফল।
কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য , শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্যাস
বিদ্যুতের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি প্রতিয়মান। 

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)

তাই ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য শিল্প বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই বিস্তারিত বিষয়। জানতে হলে আজকের এই আর্টিকেলটি একদমই মিস করবেন না।

পরিকল্পিত শিল্পায়ন

বাংলাদেশের এলাকাভিত্তিক বৈচিত্র রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি ও শিল্প বিকাশের
ক্ষেত্রে। কিন্তু যেভাবে এলাকাভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার প্রয়োজন ছিল তা হয়নি।
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেল পরিকল্পিত শিল্পায়নের পথে হাঁটতে পারেনি এই
দেশ।আশির দশকে রপ্তানির প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ
শিল্পায়নের পথে যাত্রা শুরু করে। 

পরবর্তীতে ইপিজেডগুলো রপ্তানি আয়ে ভূমিকা রাখে। তবে দ্রুত বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ
চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্প ছাড়া অন্য সব শিল্পীর বিকাশে ইপিজেড
গুলোর অবদান বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ। এই বৃত্ত থেকে বের হতে শ্রমঘন শিল্প
স্থাপনে সাফল্য, উচ্চ উৎপাদনশীলতা ও অধিক মূল্য সংযোজনকারী শিল্প স্থাপনের
দিকে নজর দেয় সরকার।

এ কারণে সে আশি দশকে শুরু করা হয় ইপিজেড মডেলের সম্প্রসারণ করা জরুরী হয়ে পড়ে।
বর্তমান সরকার কৃষি আর প্রাচীন অর্থনীতির পুরনো ধ্যান ধারণার বৃত্ত ভেঙে ভারতের
মতো পরিকল্পিত শিল্পায়নের পথে হাঁটতে উদ্যোগ দেয়।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)

বিশ্ব বাঁচার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব
পরিবেশ সৃষ্টি তুরান্নিতকরণে এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে ৯
নভেম্বর ২০২১০ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ এর বিধান অনুসারে
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, লাইসেন্স প্রধান,
পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ক্ষমতা প্রাপ্ত একটি
প্রতিষ্ঠান।

BEZA তিন পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা কাঠামো দ্বারা পরিচালিত – বোর্ড নির্বাহী বোর্ড,
ভেজা দপ্তর। চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়
শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ এই বোর্ডে সদস্য।
দৈনন্দিন কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং তিনজন
নির্বাহী সদস্য নির্বাহী বোর্ড গঠিত হয় ।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

বেজা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিকেন্দ্রীয় করনের মাধ্যমে শিল্পকে প্রথমত
অঞ্চলের মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। দ্রুত শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও
কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখী করনে উৎসাহ প্রদান এবং
পশ্চাৎপদ ও সর এলাকা সম্ভাবনায় সকল এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে হলো
বেজার মূল উদ্দেশ্য।

 অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ

বাংলাদেশে মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বেজা।
অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী বিনিয়োগ অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো হলঃ সরকারি
অর্থনৈতিক অঞ্চল, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল , সরকারি/স্বায়ত্ব শাসিত
সংস্থা কর্তৃক উন্নয়ন ও পরিচালিত অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক
অঞ্চল,জিটুজি  ভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল । 

১১ই মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত বেজার ৯৭ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অনুমোদন দেয়। অন্যদিকে দশটি
অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষ হয়ে উৎপাদন শুরু করে। এর মধ্যে সরকারি অর্থনৈতিক
অঞ্চলে পাঁচটি এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে রয়েছে ৩৩ টি।

বিদেশীদের বরাদ্দকৃত অঞ্চল

বেজা চীন, জাপান ও ভারত বিনিয়োগকারীদের জন্য জিটুজি-ভিত্তিতে পৃথক অর্থনৈতিক
অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। নারায়ণগঞ্জ আড়াই হাজার উপজেলায় এক
হাজার একর জমির উপর জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সবচেয়ে এগিয়ে। ভারতীয়
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে তিনটি ইকোনোমিক জনের কাজ শুরুর অপেক্ষায়।

চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলায় ৭৮৩ একর জমির উপর চাইনিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের
জন্য ডেভেলপার কোম্পানি সঙ্গে প্রথম নিগোশিয়েটিং হয়। এর বাইরে সৌদি
আরব ৩১১ জমিতে কান্ট্রিস ফেসিফিট জোন করতে চায়। সিঙ্গাপুর ও জমি চেয়ে প্রস্তাব
দেয়। সুতরাং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ টি
অর্থনৈতিক অন্তর প্রতিষ্ঠিত হবে। 

এসব অঞ্চল এক কোটি লোকের কর্মস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বার্ষিক অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন
ডলার মূল্যের পূর্ণ উৎপাদন ও রপ্তানি করবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শিল্পনগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর পর্যায়ক্রমে গড়ে
তোলা হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাই সেখানে কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু হয়েছে।
প্রায় ৩০ হাজার একরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পিত
এবং দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিল্পনগর। এই নগরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ
থেকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদানের জন্য দেশের সর্বপ্রথম সুপারডাইক 
নির্মাণ  করা হয়।

ভবিষ্যতে ঢাকা চট্টগ্রাম কক্সবাজারের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ পরিকল্পনার
অংশগ্রহণ হিসেবে ডাইক্টিকে সংযুক্ত করার সম্ভবনা রয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানে
বার্ষিক প্রতিবেদন ছাড়াও আবাসিক বাণিজ্যিক এলাকা, বিজনেস হ্যাব, সার্ভিস জোন,
প্রতিষ্ঠান এলাকা ও পুনর্বাসন এলাকা, লজিস্টিক হ্যাপসহ পরিবেশবান্ধব
শিল্পনগর প্রতিষ্ঠা করার জন্য সবুজ পার্ক, মাঠ ও জলাশয় সহ প্রচার উন্মুক্ত
এলাকার ব্যবস্থা রাখা হয়।

শিল্পের জন্য পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও ডিসেলাইনেসন
প্লান্ট, বর্জ্য পরিশোধনের জন্য CETP স্থাপন করা হবে। এ নগরকে একটি
স্বয়ংসম্পূর্ণ নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নিম্নতে বিশ্ব ব্যাংকের
অর্থায়নেPRIDE প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর উন্নয়ন প্রকল্পের
কার্যক্রম শুরু হয়.

 শিল্পায়নে BEZA 

প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও
বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে প্রচেষ্টা প্রতিয়মান।জিটুজি অর্থনৈতিক অঞ্চল
প্রতিষ্ঠা বেজার একটি অন্যতম উদ্ভাবন। বর্তমান সরকারের শানু গ্রহ-অনুপ্রেরণায়
ভেজা বিষের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলো প্রতিষ্ঠায় কাজ
করে। 
শুধু শিল্পের বিকাশ নিয়েই নয়, বে যা একই সঙ্গে কাজ করছে পর্যটন খাত
উন্নয়নে। এছাড়া দেশের উন্নয়নসহ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি,
জিডিপিতে আবেদনের পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি

২০২২ – ২৩ অর্থ বর্ষা ফেব্রুয়ারী ২০২৩ পর্যন্ত বিশ্বের ২৩ টি দেশ হতে মোট ৭৭ টি
বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত হয়। এদের বেশিরভাগ ইউরোপিয়ান দেশ সমূহ। অর্থনৈতিক
অঞ্চলসমূহে বিনিয়োগ বাড়ছে এবং বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ হলে বেশি ও বৈদেশিক আরো
বৃদ্ধি পাবে ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। 

কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধি

দেশের উন্নয়নসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ
অর্থনৈতিক অঞ্চল । প্রতিষ্ঠার পর থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্বিয় ও পশ্চাৎ
সংযোগ শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সহ দরিদ্র বিমোচন কর্মসূচি
বাস্তবায়নে তৎপর সংস্থাটি। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় শিল্প
ও সেবা খাত উন্নয়নে বেজা কাজ করছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় এক কোটি
লোকের কর্মসংস্থানের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে রপ্তানির আয়ে বহুগুণ
বেড়ে যাবে।

জিডিপিতে অবদান

বেজা মূলত সমন্বয়কারি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিগত দর্শকগুলোতে
জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিবিএস এর সামরিক
হিসাব অনুযায়ী 2022-23 অর্থবছরের স্থির্মূলে জিডিপিতে শিল্প খাতে
অবদান ৩৭.৫৬ পার্সেন্ট। 2021-22 অর্থবছরের স্থির মূলে জিডিপিতে খাতের
অবদান ৩৬. ৯২ পার্সেন্ট । শিল্প খাতে দ্রুত বিকাশের জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ
আকৃষ্ট করনের মাধ্যমে দেশে শিল্প খাদ্য বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।

অনলাইন পরিষেবা

বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুবিধার্থে দ্রুত সেবা প্রদান এবং সেবার মান উন্নত করতে
বাংলাদেশ সরকার ওয়ানস্টপ সার্ভিস অ্যাক্ট – ২০১৮ প্রণয়ন করেন। বে যা ওয়ান স্টপ
সার্ভিস সেন্টার থেকে 125 ধরনের সেবার মধ্যে ৫০ টি সেবা প্রদান করেছে অনলাইনে।
বর্তমানে আরও সেবা বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে চেষ্টা করছে

অসুবিধা

অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কিছু আমলাতান্রিক জটিলতা আছে। তা ছাড়া জমি
লিজ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, তাই বিনিয়োগকারী লিজ করা না ফেলে সে বিষয়ে লিজ
প্রদানকারীকে নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাহলে জমি লিজ পেতে সহজতর হবে। লাল ফিতার
দোরত্ন‍্য বন্ধ করতে না পারলে বিনিয়োগ বাধা প্রাপ্ত হবে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও
পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহজে করন করতে হবে।

বস্তুত, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল সমূহ ইতিমধ্যে যথেষ্ট সাড়া যা গিয়েছে।
পরিকল্পিত শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো লক্ষ্য গুলো
বাস্তবায়ন হলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ সহজ
হবে। তাই আশা করা যায় ভেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলোতে শিল্পায়নের মাধ্যমে শিল্প
ভিত্তিক উন্নত ও  সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শেষ কথা।বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা এই আর্টিকেলের শেষপ্রান্তে চলে এসেছি আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার অনেক উপকারী লাগবে. আজকের এই আর্টিকেল সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *