স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

স্বদেশ প্রেম রচনা। আজকে আমরা আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি নতুন একটি
আর্টিকেল। স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট। প্রতিটি মানুষ তার জন্মভূমিকে ভালোবাসে।
জন্মস্থানের আলো জল হাওয়া প্রকৃতির সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
জন্মস্থানের প্রতিটি ধূলিকণা তার কাছে সোনার চেয়েও দামি মনে হয়। বিশাল অর্থে বলা
হয়ে থাকে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ পৃথিবীর সন্তান। 
স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

এক কথায় বলতে গেলে মানুষ যেখানে বড় হয় সেটাই তার স্বদেশ।আজকে আপনাদের
সঙ্গে আলোচনা করব স্বদেশপ্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট নিয়ে। আশা করছি আপনাদের অনেক ভালো
লাগবে জানতে হলে পুরো পর্ব জুড়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

ভূমিকাঃস্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

 মা মাটি দেশ এই তিনটি শব্দের সাথে মানুষের এক অবিচ্ছেদ অংশ রয়েছে। যা
কখনো দেখানো সম্ভব নয়। আমরা প্রত্যেকে যেমন আমাদের জন্ম তাতেই মাকে অনেক
ভালোবাসি তেমনি আমরা যে স্থানে জন্ম হয়েছে সেটি কেউ অনেক ভালোবাসি।
বিশাল এই পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অংশে মানুষ জন্মগ্রহণ করে, আর তাকে স্বদেশ
কিংবা মাতৃভূমি বলে। 

মা যেমন ছোট থেকে তার কে আদর যত্ন করে তেমনি সেই স্বদেশ আলো, বাতাস, মাটি,
পানি সবকিছু দিয়ে আমাদের প্রতিপালন করে। তাই দেশমাত্রীর প্রতিটি সন্তানের
কাছে তার ছোট ছোট ধূলিকণা অনেক প্রিয় এবং পরম পবিত্র। তাইতো কবিগুরুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেনঃ

“সার্থক জনম আমার জন্মেছে এই দেশে”,

“সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালবেসে”।

স্বদেশ প্রেম কিঃ

যে ভৌগলিক ও সামাজিক পরিবেশ মধ্যে একজন মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং সেখানে বড়
হয়ে ওঠে, তার প্রতি এবং সেখানকার মানুষের প্রতি তার একটা স্বাভাবিক আকর্ষণ
গড়ে ওঠে। স্বদেশের পশু পাখি তরুলতা থেকে শুরু করে তার প্রতিটি ক্ষুদ্র
ক্ষুদ্র জিনিস তার অনেক আপন। সেই দেশের অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসও তার কাছে
ভালো লাগে। 
দেশের প্রতি এই আকর্ষণ থেকে স্বদেশ প্রীতির উন্মেষ। অর্থাৎ মানুষ তার
স্বভাবজাত গুনে অনিবার্যভাবে স্বদেশের মাটি, পানি, বায়ু সব কিছুর সাথে অনুভব
করে মাটির টান। প্রায় স্বদেশ হয়েছে তার কাছে সবথেকে প্রিয় এবং পবিত্র
ভূমি। তাই এই দেশমাতৃকার প্রতি মানুষের এই অনুভাব ও ভালোবাসায় হলো স্বদেশ
প্রেম।তাই তখন মানুষ আবেগ হয়ে,

“আমার এই দেশেতে জন্ম যেন ,এই দেশেতে মরি”।

স্বদেশপ্রেমের বৈশিষ্ট্যঃ

জন্মভূমির প্রতি মানবের আবেগ ময় অনুরাগ মানুষের চিরন্তর বৈশিষ্ট্য।
জন্মভূমির আলো – বাতাস, পানি, ফসল সবকিছুই মানুষকে মায়ের মতো মমতা দিয়ে বড়
করে তোলে। তাই স্বদেশ ও সজাদের প্রতি মানুষের মনে জন্ম নেয় আত্মার গভীরতা
এবং চিরন্তর অকৃতি ভালোবাসা। দেশের অনুরাগ মানুষের হৃদয় করে ভাবতে শেখায়।
আর এই তীব্র অনুরাগী হলো স্বদেশ প্রেম। তাই সন্তান যেমন মায়ের বিপদে
ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠিক তেমনভাবেই দেশের সন্তান তার দেশ মাতৃর জন্য নিজের জীবন
দিতেও রাজি থাকে।

স্বদেশ প্রেমের বহিঃপ্রকাশঃ

মানুষ যখন ধীরে ধীরে তার দেশের মাটিতে বেড়ে উঠতে থাকে। তখন তার দেশের মাটির
প্রতি এক অন্য ধরনের টান অনুভব হয়। শুধু দেশের মাটি নয় দেশের মানুষ থেকে
শুরু করে যা কিছু রয়েছে সবকিছুর জন্যই তার টান অনুভব হয়। আর এ কারণে
দেশ মাতার জন্য সে সবকিছু করতে পারে। আর এটিকে বলে স্বদেশ প্রেম। স্বদেশ
প্রেমের বহিঃপ্রকাশ হয় দেশমাতার প্রতি টান অনুভব এর মাধ্যমে। এরপরে ধীরে
ধীরে সেটি আরো গভীর হতে থাকে।

স্বদেশ প্রেমের গুরুত্বঃ

দেশপ্রেমের গুরুত্ব অতুলনীয়। দেশকে ভালোবাসার মাধ্যমে একজন মানুষ বিশ্বকে
ভালবাসতে শেখে। দেশ ও বিশ্বের মানুষের বিপদে তাদের সাহায্য করতে শেখে।
নিঃস্বার্থ ত্যাগ করে দেশের নাগরিকের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া শেখায়।
স্বদেশপ্রেম একজন মানুষকে একটি নতুন মানুষে পরিণত করে। তাই এই স্বদেশ
প্রেমের গুরুত্ব অতুলনীয়।

 স্বদেশ প্রেমের প্রয়োজনীয়তাঃ

স্বদেশ প্রেম একটি দেশের জনগণকে একত্রিত করে এবং জাতীয় ঐক্য
বৃদ্ধি করে। এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়, জাতি, এবং ভাষার মানুষদের
মধ্যে একত্রিত করার এবং একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় গড়ার মাধ্যমে
সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।স্বদেশ প্রেম দেশের
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। এটি
ঐতিহাসিক স্থান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এবং প্রথাগুলির সংরক্ষণ
এবং উন্নয়নকে উৎসাহিত করে।স্বদেশ প্রেম মানুষের মধ্যে সামাজিক
দায়বদ্ধতা এবং দায়বদ্ধতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। এটি সামাজিক সেবা,
দাতব্য কাজ, এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অংশের সহায়তায় উৎসাহিত করে।

স্বদেশ প্রেমের তাৎপর্যঃ

এমন একটা জিনিস যেটি নিজের দেশকে ভালবাসতে শেখায় তার পাশাপাশি দেশের মানুষের
বিপদে কিভাবে ঝাপিয়ে করতে হয় সেটা কেউ শেখায়। একজন মানুষ যখন তার
দেশকে ভালোবাসে তখন তার দেশের জন্য সে সবকিছু করতে পারে। শুধু তাই নয়
এই দেশপ্রেম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রেম পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। কারণ
দেশ বিশ্বেরই একটি অংশ। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক নিজেকে সেই দেশের একজন বলে
পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে।

স্বদেশ প্রেমের প্রকাশঃস্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

সুখের দিনে স্বদেশ প্রেম থাকে সুপ্তিমগ্ন। কিন্তু দুঃখের দিনে আঘাতে আঘাতে
জর্জরিত হয়ে প্রদেশ প্রেমের হয় শুভ উদ্ভাবন। পরাধীনতার দুঃখ-বেদনায়
পরদেশীর অসহ্য নির্যাতন, আঘাত সবকিছু সহ্য করে দেশের জন্য লড়াই করে। আবার
দেশমাতা যখন বিপদে পড়ে থাক বিদেশি শত্রুর আগমনের শিকার হয় তখন দেশমাতার
সন্তানেরা, দেশের মর্যাদা রক্ষার্থে নিজের জীবন দিয়ে দেশমাতাকে শত্রুর
আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পরাধীন থেকে স্বাধীন করে তোলে। স্বদেশের দুঃখ মোজনে
সে তখন তার নিজের জীবন উৎসর্গ করে ধন্য হয়।

স্বদেশ প্রেমের নিদর্শনঃ

দেশপ্রেম অনেক ধরনের হয়। যখন দেশ বিদেশী শত্রুর আক্রমণের শিকার হয় তখন
দেশের প্রকৃত সন্তান, দেশকে স্বাধীন করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এটি যেমন এক ধরনের
দেশ প্রেম তেমনি দেশের মানুষের সাহায্য করাও দেশ প্রেম। দেশের কল্যাণে একজন
মানুষ যা কিছু করে সে সবকিছুকে মূলত দেশ প্রেম বা স্বদেশ প্রেম বলে। দেশ
প্রেম নিজেকে ও নিজের দেশকে নতুন করে জানতেও ভালোবাসতে শেখায়। দেশপ্রেমের
মাধ্যমে বিশ্ব প্রেমের পরিচিতি লাভ করা যায়।

স্বদেশ প্রেমের প্রভাবঃ

স্বদেশ প্রেমের প্রভাব একটি দেশের সমাজ, সংস্কৃতি, এবং উন্নয়নে ব্যাপকভাবে
প্রভাবিত করে। এটি কেবলমাত্র ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক
অগ্রগতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বদেশ প্রেম মানুষের মধ্যে
একটি সাধারণ অনুভূতি ও উদ্দেশ্য গড়ে তোলে, যা জাতির মধ্যে ঐক্য ও সংহতি
বৃদ্ধি করে। এতে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সহযোগিতা এবং সমঝোতা সহজ হয়।
দেশপ্রেম মানুষকে তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এটি
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অংশের প্রতি সহানুভূতি এবং সাহায্যের মনোভাব সৃষ্টি করে।

স্বদেশ প্রেম ও বিশ্বপ্রেমঃ

স্বদেশ প্রেম মূলত বিশ্বপ্রেমেরই একটি অংশ। দেশ, দেশের মাটি ও দেশের মানুষকে
ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মানুষ বিশ্ববাসীকে ভালবাসতে শেখে। প্রকৃত স্বদেশ প্রেম
ও বিশ্বের প্রেমের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। দেশ যেমন পৃথিবীর একটি ছোট অংশ
তেমনি স্বদেশপ্রেম বিশ্বপ্রেমেরই একটি ছোট অংশ। দেশমাতা ও বিশ্ব মাতা যে একই
সম্পর্কে বাধা তা আমরা কোভিদ বাণীতেই খুঁজে পাই-

“ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা”

“তোমাতে বিশ্বময়ীর-তোমাতে বিশ্ব মায়ের আঁচল পাতা”

স্বদেশপ্রেমের শিক্ষাঃ

স্বদেশপ্রেম, বা দেশপ্রেম, হলো একটি দেশের প্রতি গভীর
ভালোবাসা এবং আনুগত্যের অনুভূতি। এটি কেবলমাত্র জাতীয়তাবাদ
নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং
দায়বদ্ধতারও পরিচায়ক। স্বদেশপ্রেমের শিক্ষা আমাদেরকে সঠিক
পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে এবং একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
এই স্বদেশপ্রেম থেকেও আমরা কিছু শিক্ষার অর্জন করতে পারে।
মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ভাষার প্রতি
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাড়ে। এ বিষয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণা করলে
দেশের প্রতি গভীর বোধ তৈরি হয়। দেশের সমস্যা ও
চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং তাদের সমাধানের জন্য
উদ্যোগী হওয়া। এছাড়াও আমরা আরো অনেক ধরনের শিক্ষার্জন করতে
পারে  স্বদেশপ্রেম থেকে।

স্বদেশ প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তঃস্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

যুগে যুগে অনেক ব্যক্তির দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে স্বদেশ
প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছে। সারা বিশ্বের মানুষ তাদের স্মরণ
করে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই। তাদের দৃষ্টান্ত ও বর্তমান ও অনাগত কালের
মানুষের জন্য হয়ে ওঠে এক চিরন্তর প্রেরণার উৎস। আমাদের দেশের ভাষা আন্দোলন ও
মুক্তিযুদ্ধে অনেক মানুষ তাদের জীবন বিসর্জন দিয়ে আমাদের দেশকে স্বাধীন
করেছে। তাদের জীবনের মূল মন্ত্র যেন ছিল,

“জীবনকে ভালবাসি সত্য”

 “কিন্তু দেশের চেয়ে বেশি নয়”।

দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গঃ

মুসলিমদের পবিত্র ইসলাম ধর্মে ঘোষিত রয়েছে যে,” দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ”।
আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ম নেই যে ধর্মে দেশকে ভালোবাসার নির্দেশ
দেওয়া হয়নি। যে ব্যক্তি নিজ দেশকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে না, দেশের দেশের
গৌরবে গৌরবান্বিত হয় না, দেশের দুঃখে নিজের দুঃখ অনুভব করে না, সে ব্যক্তি
প্রকৃত ঈমানের অধিকারী হতে পারেনা।

উপসংহারঃস্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

স্বদেশ প্রেম মানুষের একটি মহৎ গুণ। মানুষকে সকল প্রকার ক্ষুদ্রতা,
সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে বৃহৎ ও মহত্বের সন্ধান দেয় এই স্বদেশ
প্রেম। এটি মানুষের মনকে মূল্যবোধের বিকাশ ঘটায়। প্রয়োজনে দেশ ও জাতির
কল্যাণের জীবন দিতে শেখায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *