বেগুনের যত গুন

আমরা বেগুন সকলে চিনি। কিন্তু অনেকেই বেগুনের উপকারিতা সম্পর্কে
জানেনা। আমরা বেগুনের বিভিন্ন ধরনের সাধের খাবারগুলো খাই। আমাদের মধ্যে
প্রায় অনেকেরই বেগুনের বিভিন্ন ধরনের তরকারি গুলো খুব পছন্দ। 

বেগুনের যত গুন

শুধু বেগুন দিয়ে তরকারি হয় না, বেগুনের চপও রয়েছে। এটিকে অনেকেই খুব পছন্দ
করে। আমরা হয়তো অনেকেই মনে করি যে বেগুন শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায়। এতে কোন
পুষ্টিকর উপাদান নেই বললেই চলে। এরকম ধারণা আমাদের মধ্যে অনেকের রয়েছে কিন্তু এ
ধারণাটি সত্য নয়। 

ভূমিকা 

বেগুন আমাদের জন্য অনেক উপকারী। এবং আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
বেগুন যেমন আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে তেমনি এর কিছু অপকারিতা
রয়েছে। যেমনঃ বেগুনে অনেকেরই এলার্জি রয়েছে। এটা হয়তো আমরা সকলেই জানি যে,
বেগুনি একটি এলার্জিক খাবার। তবে বেগুনি শুধু স্বাস্থ্যের জন্য অপকারী । 

তা কিন্তু নয়। এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। আমরা যদি সেগুলো জানি তাহলে বুঝতে পারব
বেগুনের অবদান সম্পর্কে।

বেগুনের পুষ্টিগুণঃ

১০০ গ্রাম বেগুন থেকে ৪২ ক্যালোরি পর্যন্ত খাদ্য শক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও
বেগুনা রয়েছে কার্বোহাইড্র অর্থাৎ শর্করা। এছাড়াও বেগুন থেকে আমরা প্রোটিন পেতে
পারি। এজন্য বেগুন শিশুদের জন্য অনেক উপকারী। শিশু বয়সে প্রত্যেকটি শিশু নিয়ে
পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। আর বেগুনে রয়েছে প্রোটিন। বেগুনে
আরো রয়েছে ক্যালসিয়াম। যেটি আমাদের হাড়ের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। বেগুন
থেকে ভিটামিন সি, আইরন, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬ ইত্যাদি আরো বিভিন্ন
ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে এই বেগুনের।

বেগুনের উপকারিতাঃ

বেগুনের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা হয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকে মনে করে যে
বেগুনের মধ্যে কোন স্বাস্থ্য উপকারিতা নেই শুধু ক্ষতিকারক দিক রয়েছে। মানুষ
এটিকে স্বাদের জন্য খায়। এটি কিন্তু একদম নয় এর যেমন অপকারিতা রয়েছে তেমন এর
স্বাস্থ্য উপকারিতা ও রয়েছে। বেগুনে বেগুনো ধরনের পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। 

আমাদের জীবন সুন্দর ও সহজ করার জন্য অবশ্যই আমাদের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
তেমনি যে কোন খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও জানতে হবে। তাহলে আমরা সঠিক সময়ে সেই
খাবারের ব্যবহার করতে পারব তাই অবশ্যই আমাদের বেগুনের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে
হবে। তাহলে চলুন জেনে নিয়ে বেগুনের উপকারিতা সম্পর্কে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে

বেগুনের রয়েছে ভিটামিন সি। আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা যে ভিটামিন এ এবং
ভিটামিন  সি আমাদের শরীরে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ
করে। আর এন্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া গুলো দূর করতে
সাহায্য করে। খারাপ ব্যাকটেরিয়া গুলো দূর করার পাশাপাশি আমাদের শরীরে রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। ফলে আমরা যদি নিয়মিতভাবে বেগুন
খায় তাহলে আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে

বেগুনে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম ইত্যাদি আরও বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপাদান।
এগুলো আমাদের হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 2019 সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে
যে, বেগুন থেকে আমরা যে ধরনের পুষ্টিকর উপাদান গুলো পায়। সেগুলো সাধারণত আমাদের
হার্ট সুস্থ রাখতে অনেক সাহায্য করে। 

এছাড়াও এগুলো আমাদের হাটের যে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে, এগুলোর
ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বেগুন। এছাড়াও বেগুন থেকে আমরা ক্লোরজেনিক অ্যাসিড
পেয়ে থাকি, এগুলো আমাদের শরীরে খারাপ পোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
ফলে হার্টের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার যদি অনেকটাই কমে যায়।

রক্তস্বল্পতা কমায়

বেগুনি রয়েছে আয়রন এর একটি ভালো উৎস। আমরা হয়তো সকলেই জানি যে আয়রন
আমাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে। আইরন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা
বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের শরীরে আরো রক্ত উৎপাদন হতে শুরু করে। তাই বেগুন
আমাদের রক্তস্বল্পতা কমাতে অনেক সাহায্য করে। 

এছাড়াও খেলোয়াড়দের জন্য সব সময় আয়রন জাতীয় খাবার খেতে হয়। কারণ এগুলো
কতগুলো খুব তাড়াতাড়ি সারিয়ে দিতে সাহায্য করে। এছাড়া যে কোন ধরনের ব্যথা
নিরাময় করতো অনেক সাহায্য করে। তাই দেখুন আমাদের জন্য অনেক উপকারী।

হাড় সুস্থ রাখতে সাহায্য করে বেগুন

আমরা হয়তো সকলে জানি যে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার আমাদের হাড়ের জন্য অনেক
উপকারি। তাই হারকে সুস্থ রাখতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার
খেতে হবে। ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার যেমন আমাদের হারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে
তেমনি, আমাদের শরীরে যদি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায় তাহলে হারের বিভিন্ন
ধরনের আরও সমস্যা হতে দেখা যায়। আর এছাড়াও বেগুনে রয়েছে
ক্যালসিয়াম। যেগুলো আমাদের হাড় সুস্থ রাখতে অনেক সাহায্য করে। তাই হারের
যেকোনো ধরনের সমস্যা এবং হার সস্ত্য রাখতে বেগুন আমাদের জন্য অনেক
উপকারী।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেন

বেগুনে রয়েছে ফাইবার। ফাইবার আমাদের পাকস্থলের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতে
সাহায্য করে। এটি আমাদের পাকস্থলের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি হজমের সমস্যা দূর
করতে অন্যতম অবদান রাখে। আমরা যদি নিয়মিতভাবে বেগুন খাই তাহলে এটি আমাদের ওজন
কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়া ফাইবার জাতীয় খাবার খাবার ফলে পেট অনেক সময় ধরে ভরা
থাকবে। তাই এটি ওজন কমাতে অনেক কার্যকরি একটি উপাদান।

বেগুনের অপকারিতাঃ 

বেগুন যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। তেমনি এর কিছু অপকারই দিক
রয়েছে। তাই বেগুনের উপকারিতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি, আমাদের এর অপকারিতার
সম্পর্কেও জানতে হবে। তাই চলুন জেনে নিয়ে বেগুনের অপকারিতা সম্পর্কে।

পেটে পাথর থাকলে

যাদের পেটে আগে থেকে পাথর রয়েছে তাদের ভুলেও বেগুন খাওয়া যাবেনা। এমন একটি
উপাদান রয়েছে যেটি এ পাথরের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কারো যদি পেটের
কোন ধরনের পাথর থাকে তাহলে, বেগুন একদমই খাওয়া যাবেনা।

এলার্জি সমস্যা থাকে

আমরা হয়তো অনেকেই জানি যে, বেগুণ একটি এলার্জিক খাবার। যাদের অ্যালার্জি সমস্যা
হয়েছে তাদের বেগুন খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়। তাই আপনারও যদি কোন ধরনের সমস্যা
থাকে তাহলে বেগুন খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ বেগুন খেলে এলার্জির সমস্যা
আরো বেড়ে যেতে পারে।

চোখ জ্বালার সমস্যা রয়েছে যাদের

যাদের আগে থেকে চোখ জ্বালা করার মতো যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো যদি থাকে।
তাহলে বেগুন খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ বেগুন চোখের সমস্যা গুলো
বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও চোখ জ্বালা করা ব্যক্তিরা যদি বেগুন নিয়মিত
ভাবে খায় তাহলে, তাদের দৃষ্টিশক্তিও কমে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *