আমরা কম বেশি সবাই পোলাও খেতে পছন্দ করি। পোলাও বাঙালিদের একটি অন্যতম
খাবার।তেমনি মোরগ পোলাও একটি বিশেষ খাবার। তাহলে চলুন আমরা দেখে নিয়ে মোরগ পোলাও
কিভাবে রান্না করবো। জানতে হলে আজকের এই পরবর্তী মনোযোগ সহকারে পড়ুন ।
মোরগ পোলা ওর পাশাপাশি এভাবে আমরা জেনে নেব চিকেন বিরানি রান্নার রেসিপি। যদি ঘরে
বসে মোরগ পোলাও রান্নার রেসিপি ও চিকেন বিরিয়ানি ঘরে বসে নিজে নিজে করতে চান
তাহলে আজকের এই পর্বটি আপনার জন্য। তাহলে চলুন জেনে নেই বিস্তারিত আলোচনা।
মোরগ পোলাও তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন
আজকের এই পর্বের মাধ্যমে আমরা জেনে নিব মোরগ পোলাও রান্না করতে কি কি মসলা পাতি
লাগে। তাহলে চলুন জেনে নেই মোরগ পোলাও তৈরি করতে কি কি প্রয়োজন হয়।টক দই, আলু
বাকরা, তিস্তা বাদাম, কাঠবাদাম, চিনা বাদাম, পুষ্প দানা, টেস্টি সল্ট, কেওড়া জল
/গোলাপজল, জয়ত্রী,শাহী জিরা , আর কিছু মসলা প্রয়োজন পড়বে সেগুলো একটু পরে জানতে
পারবেন।
প্রথম ধাপে যা করতে হবে
মোরগ পোলাও রান্না করতে প্রথমে একটি বাটিতে ঢেলে নিতে হবে পরিমাণ মতো টক দই। এবার
এক চা চামচ মরিচের গুড়া, এক চা চামচ লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।মোরগ ভালো
করে ধুয়ে ধোয়াপ পিছ সাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে
দিতে হবে। ততক্ষণে পোলাওয়ের সুগন্ধি চালটা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
একটি ছাকনা থেকে ভালো করে ঝরিয়ে নিতে হবে। এবার একটি প্যানে পরিমাণ মতো তেল ঢেলে
দিতে হবে। এরপর সেখানে তেজপাতা, দারচিনি, সাদা এলাচ, গোলমরিচ, আর কিছু
পরিমাণে লবণ নিতে হবে।এগুলো দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে আগে থেকে কুচি করা
পেঁয়াজ পরিমাণ মতো নিয়ে নিতে হব।
দ্বিতীয় ধাপে যা করতে হবে
এরপর পেঁয়াজগুলো পুরোপুরি মচমচে হওয়া পর্যন্ত নাড়তে হবে। তারপর এক চা চামচ আদা
বাটা, রসুন বাটা , জিরা গুড়া ও ধইনা গুড়া নিয়ে মিক্স করে নিতে হবে।
পুষ্পদানা, বাটা জয়ত্রী বাটা,জায় ফল গুরো,বাদাম বাটাও নিতে হবে। এরপর সামান্য
পরিমাণে পানি ঢেলে দিতে হবে।এভাবে নেড়েচেড়ে নিতে হবে । বলক উঠলে মেখে নেওয়া
মোরগের পিস গুলো দিয়ে দিতে হবে। এরপরপানিতে শুকিয়ে গেলে এবং মিশ্রণটি গাঢ় হয়ে
গেলে নামিয়ে নিতে হবে।
তৃতীয় ধাপে যা করতে হবে
এবার একটি বড় প্যানে পরিমাণ মতো তেল নিয়ে সেখানে তেজপাতা , সাদা
এলাচ, একটু গোল মরিচ, লবঙ্গ, কাবাব চিনি নিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিতে হবে। এরপর
পেঁয়াজ কুচি ঢেলে দিতে হবে হবে। হালকা বাদামি কালার হয়ে গেল, ধোয়া
সুগন্ধি চালটি ঢেলে দিতে হবে। এরপর কিছুক্ষণ ভেজে নিয়ে,সেখানে লবণ, শাহী
জিরা, আদা ও রসুন বাটা নিতে হবে ।
এগুলো খেয়াল করে দিতে হবে কারণ এগুলো এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুক্ষণ
নেড়েচেড়ে সেখানে গরম পানি ঢেলে দিতে হব। পানির পরিমাণটা চালের দ্বিগুণের
একটু কম পরিমাণে নিতে হবে পরিমাণে দিতে হবে । তাহলে পোলাও
ঝড়ধরা হবে। বলখ উঠলে সেখানে গুড়ো দুধ ঢেলে দিতে হবে। এবং এর সাথে কিসমিস,
কয়েকটি আস্ত কাঁচামরিচ, আলু বাকরা ও টেস্টি সল্ট দিয়ে দিতে হবে। এরপর পানি
শুকিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
শেষ ধাপে
পোলাও অর্ধেক তুলে নিতে হবে, এবং তুলে রাখা মরোগ পিছ গুলোর মিশ্রণ দিয়ে দিতে
হবে।এবং তুলে রাখা পোলাও গুলো পুনরায় দিয়ে দিতে হবে। পরিমাণে ঘি এবং সুগন্ধির
জন্য কেওরা জল অথবা গোলাপজল দিয়ে দিতে হবে । এভাবে ঢাকনা দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে
নিলেই তৈরি মোরগ পোলাও। এভাবে আপনারা খুব সহজে বাড়িতেই বাহিরের মত মোরগ পোলাও
বানিয়ে নিতে পারেন।
চিকেন বিরিয়ানি রান্না
চিকেন বিরানি একটি পুরনো এবং সুস্বাদু বাঙ্গালী খাদ্য। এটি মূলত বাসমতি চাল মুরগি
এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে। বিরিয়ানি বানাতে হলে সঠিক নিয়ম
মেনে চলতে হয়। রান্না শুরুতে স্বচ্ছভাবে মুরগি প্রস্তুত করতে হয় এবং তারপর
বাসমতি চালের সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
এরপর একটি বড় পাত্রে তেল গরম করে মসলা দিয়ে মুরগির সাথে মিশাতে হয় তারপর সাল ও
মুরগির সাথে মিলিয়ে দিতে হয় এবং সঠিক মাত্রার পানি দিয়ে ভালোভাবে উবলাতে হয়।
বিরানির সাথে বেগুন বা রাইতা মিলিয়ে খাওয়া হয়ে থাকে যা সমৃদ্ধ ও সাদে
ভরা থাকে। এটি মূলত কোন পার্টিতে বা বড় অনুষ্ঠানে করা হয়ে থাকে।
বিরানি কত প্রকার ও কি কি
প্রিয় পাঠক এই পর্বে আমরা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করবো বিরানি কত প্রকার ও কি
কি। বিরানি একটি বিশেষ প্রকার পোলাও যা মুরগি বা মাংস বাসমতি চাল এবং বিভিন্ন
মসলা দিয়ে তৈরি হয়। বিরানি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে তবে সবচেয়ে জনপ্রিয়
বিরানির নাম গুলো আমরা আপনাদের আজকে জানাব।
মুরগির বিরানি – এটি সাধারণভাবে মুরগি বাসমতি চাল ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি
হয়।
গোস্ত বিরানি বা কাচ্চি বিরানী -মুরগির পরিবর্তে গোস্ত বা মাংস ব্যবহার করা
হয়।
কোন স্টাইলের বিরিয়ানি ভালো
আপনি কি জানেন কোন স্টাইলের বিরিয়ানি সবচেয়ে ভালো। যদি না জেনে থাকেন তাহলে
এখনই জেনে নিন কোন স্টাইলের বিরিয়ানির সবচেয়ে ভালো। হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি
ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিরানী এটার মূল কারণ হচ্ছে এটি মসলার সূক্ষ্ম মিশ্রণ
মাংস এবং শাকসবজির কোমলতার সাথে অবস্থিত করে।
আর বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিরানী হচ্ছে কাচ্চি বিরানী এটি খুবই সুস্বাদু ও
জনপ্রিয় খাবার সবার জন্য।
বিভিন্ন বিরানির নাম
আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো বিভিন্ন বিরানির নাম সম্পর্কে। জানতে হলে আজকের এই
পর্বটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে আপনি নিশ্চয়ই জানতে পারবেন বিরানির
নাম।কাচ্চি বিরিয়ানি, গরুর মাংসের বিরানি, তেহারি, হায়দ্রাবাদি
বিরিয়ানি, মোরগের বিরিয়ানি, মাছের বিরিয়ানি।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আমরা আজকের এই আর্টিকেলের শেষপ্রান্তে চলে এসেছি। এই আর্টিকেল
সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এবং যে
বিষয়গুলো আপনি জানতে চান সেগুলো কমেন্ট করে জানাবেন। যদি আজকের এই আর্টিকেলটি
ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করবেন ।


Leave a Reply