বর্তমানে বেশিরভাগ বাবা মারই একই প্রশ্ন হল, আমাদের শিশু ঠিকমত বৃদ্ধি পায় না
অর্থাৎ শিশু লম্বা হচ্ছে না। কিন্তু তার সেই সময়ে লম্বা হওয়ার কথা। কারণ একটা
মানুষের নির্দিষ্ট বয়স হয়েছে যে সময়ে সে লম্বা হতে পারবে। অর্থাৎ গ্রোথ
হরমোনটি কাজ করবে। একটা নির্দিষ্ট সময় চলে যাওয়ার পর সে গ্রোথ হরমোন আর কাজ করে
না ফলে সেই ব্যক্তি আর লম্বা হয় না।
শুধু হরমোনের কারন নয় আরো বিভিন্ন ধরার কারণ রয়েছে যেসব কারণে শিশুর সময়ের
মধ্যে লম্বা হয় না। কিন্তু কিছু রয়েছে যেগুলো খাওয়ানোর ফলে শিশু ঠিক সময়ের
মধ্যেই লম্বা হবে । আপনার শিশু ঠিকমতো লম্বা হচ্ছে না। তাহলে এই খাবারগুলো যদি
খাওয়াতে পারেন তাহলে লম্বা না হওয়ার সমস্যাটি খুব সহজে দূরে যাবে।
বাচ্চাদের উচ্চতা বৃদ্ধির খাবারঃ
বর্তমানে প্রায় পিতা মাতারই একই কথা হলো, আমার শিশু লম্বা হচ্ছে না কেন।
অন্যান্য শিশুদের তুলনায় আমার শিশুর গ্রোথ অনেক কম। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে
প্রথমে আমাদের জানতে হবে, শিশু কেন লম্বা হচ্ছে না। আমরা যদি কারণটা জানতে পারি
তাহলে এর সমাধানও খুব সহজেই করতে পারব।
তাই প্রথমে জানতে হবে কেন লম্বা হচ্ছে না। সব কারণ গুলোর মধ্যে একটি কমন কারণ হলো
বংশগত। কারণ পরিবারের যদি কেউ খাটো থাকে তাহলে সেই সন্তানেরও খাটো হওয়ার
সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু বংশগত নয় আরো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে যেমনঃ পুষ্টিহীনতা,
আবার ধর্মগত সমস্যা হতে পারে। এইসব কারণ ছাড়া আরও কারণ রয়েছে যেগুলো ঠিকমতো
যত্ন না নেওয়া কারণে হতে পারে। তাহলে তো সেগুলোও জেনে নিই।
-
ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া। কারণ আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে
খাবার খায় তাহলে, আমাদের শরীরের যে হরমোন গুলো থাকে সেগুলো ঠিক থাকবে। আর যদি
পুষ্টিকর খাবার না খায় তাহলে আমাদের শরীর আরো খারাপ হয়ে যাবে এবং হরমোনের
সমস্যা হতে থাকবে। এ কারণে অনেকে খাটো হয়ে থাকে। -
অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্যও হতে পারে। অনেক শিশুরই আছে যারা বাহির খাবার
খেতে অনেক বেশি পছন্দ করে। কিন্তু বেশি বাইরের খাবার খেলে এত সময় কে বাড়ির
খাবার আর খেতে ভালো লাগবে না। এতে করে প্রতিনিয়ত বাহিরের খাবার খেতে থাকলে
শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাহের খাবার খাওয়ার পাশাপাশি
পুষ্টিকর খাবারও খেতে হবে। -
রুচি কমে যাওয়া। রুচি কমে যাওয়ার কারণে অনেক সময় শিশুরা খাওয়া-দাওয়া কম
করে। এতে করে তাদের শরীরে যে পরিমাণ নিয়মিত পুষ্টি প্রয়োজন সে পুষ্টিটি পায়
না। এ কারণে ও শিশু খাটো হয়ে যেতে থাকে। তাই শিশুর যদি নিয়মিত খাবার কমে যায়
তাহলে, রুচি বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
সেটিকে খুঁজে বের করতে হবে। একবার সেই সৃষ্টি যদি আমরা খুঁজে পাই তাহলে এর
ধ্বংসের কারণও আমরা খুঁজে পাবো। তাই আগে জানতে হবে যে, আপনার শিশু কোন কারণে খাটো
কিংবা লম্বা হচ্ছে না। কারণটি জানার পর আপনি সেই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
শিশুদের কোন খাবার খাওয়ালে লম্বা হয়ঃ
আমরা হয়তো সকলেই জানি যে শিশুদের লম্বা না হওয়ার সব কারণ গুলোর মধ্যে থেকে একটি
কারণ হলো ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া। ঠিকমত পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার
কারণে একটি শিশু শরীরে যে পরিমাণে পুষ্টির গুণ প্রয়োজন হয়, সেই
পরিমাণ পুষ্টি পাইনা। এর ফলে বাচ্চাদের ঠিকমতো বাড়তে পারে না।
আপনারা হয়তো সকলেই দেখে থাকবেন, ছোটবেলা থেকে শিশুদের বেশি পরিমাণে দুধ খাওয়ানো
হয়। আর আপনারা এটাও জানেন যে, দুধে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। কিন্তু এত
কিছু সকলে জানলেও এটি অনেকে জানে না যে, প্রোটিন শিশুদেরশারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য
করে।
রাখতে সাহায্য করে। এজন্য খাবারের সাথে অবশ্যই শিশুর লম্বা হওয়ার সম্পর্ক
রয়েছে। এখন কথা হল, কোন কোন খাবার শিশুদের লম্বা হতে সাহায্য করে। আমরা যখন
জানতে পারবো যে এই খাবারগুলো বাচ্চাদের জন্য বেশি উপকার সেই খাবারগুলো, শিশুদের
দেওয়ার চেষ্টা করব। তাই আগে প্রথমে জানতে হবে যে, শিশুদের লম্বা হওয়ার জন্য কোন
কোন খাবার উপকারি। তাহলে চলুন জেনে নেই কোন কোন খাবার খাওয়ালে শিশুরা দ্রুত
লম্বা হয়।
লম্বা হতে দুধের ভূমিকা
দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। শুধু প্রোটিন নয় আরো কিছু পোস্ট রয়েছে
দুধে। যেটি একটি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কারণ প্রোটিন জাতীয়
খাবার শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের লম্বা হওয়ার জন্য দুধ অনেক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যদি আপনার শিশুকে সঠিক পরিমাণ মানে পোস্টটি
দিতে চান এবং লম্বা বানাতে চান তাহলে ছোট থেকে দুধ খাওয়ার অভ্যাস করান।
অবশ্যই শিশুদের জন্য দুধ অনেক উপকারী। শুধু দুধ নাই দুধ জাতীয় আরও যেসব খাবার
রয়েছে সেগুলোও খাওয়ানো যাবে যেমনঃ দই, মাখন ইত্যাদি আরও দুধের তৈরি খাবার। কারণ
এগুলোতেও দুধের প্রোটিন থাকে।
মাছ
মাছে প্রচুর পরিমাণে আমিষ থাকে যেটি অন্যান্য খাবার থাকে না। তাই আমি জাতীয়
খাবারের মধ্যে মাছ অনেক উপকারী। আর আমাদের মধ্যে অনেকে হয়তো জানে না যে,
আমিষ জাতীয় খাবার শিশুদের লম্বা হতে অনেক সাহায্য করে। শিশুদের লম্বা হওয়ার
জন্য যেমন প্রোটিন জাতীয় খাবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তেমনি আমি জাতীয় খাবারও অনেক
গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক সাহায্য করবে। তাই আপনার শিশুকে যদি রোগমুক্ত রাখতে চান তাহলে আমিষ জাতীয়
খাবার খাওয়াতে হবে। মাছে শুধু আমি জাতীয় পশ্চিম থাকে না বরং আরো বিভিন্ন ধরনের
পুষ্টিগুণ থাকে যেগুলো, আপনার শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। তাই
আপনার শিশুকে যদি লম্বা বানাতে চান তাহলে ছোট থেকেই মাছ খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।
ডিম
ডিম হচ্ছে সুপার ফুড। কারণ ডিমে শুধু একটি উপাদান নয় এবং বিভিন্ন ধরনের উপাদান
রয়েছে যেমনঃ ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিনস যেগুলো একটি শিশুর স্বাভাবিক
বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ রাখার জন্য অনেক প্রয়োজন। এটা থাকা পুষ্টিকরণ উপাদানগুলো
শিশুর হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে, বিভিন্ন ধরনের রোগের সংক্রমণের হাত থেকে
বাঁচাতেও সাহায্য করে , শিশু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য
করে।
তাই বাচ্চাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ডিম অনেক উপকারে এটি খাদ্য। ডিমের এই
বিভিন্ন পুষ্টিগণের কারণে মূলত এ কে সুপার ফুড বলা হয়। এটি যেমন শিশুদের জন্য
অনেক উপকারিতা তেমনি বড়দের জন্যও অনেক উপকারী। তাই আপনার শিশুকে যদি লম্বা
বানাতে চান তাহলে, ছোট থেকে আপনার শিশুর ডিম খাওয়ার প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি করুন।
বাদাম
বাদাম শিশুদের জন্য অনেক উপকার একটি খাবার কারণ এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি
অ্যাসিড। আর এই ওমেগা থ্রি ফাটিয়া সিড শিশুদের ব্রেন শক্তি ভালো রাখতে সাহায্য
করে। তার পাশাপাশি ব্রেনের যে কার্যাবলী গুলো রয়েছে সেগুলো কেউ সঠিক রাখতে
সাহায্য করে। এছাড়াও এতে আরো বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকুণ উপাদান রয়েছে,
যেগুলো একটি শিশুকে লম্বা হতে অনেক সাহায্য করে।
লম্বা হওয়ার পাশাপাশি ব্রেনকে ভালো রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ ব্রেনের
কার্যাবলীর সাথে লম্বা হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তাই লম্বা হতে হলে ব্রেন কেও ভালো
রাখতে হবে। ছোট থেকে যদি আপনার সন্তানকে আপনি একজন বুদ্ধিমান বানাতে চান তাহলে
অবশ্যই ছোট থেকেই বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
শাক-সবজি
এগুলোতে যে পুষ্টি উপাদানগুলো রয়েছে সেগুলো গ্রোথ হরমোনকে ভালো রাখতে সাহায্য
করে। শুধু গ্রোথ হরমোনকে ভালো রাখতে নেয় পুরো শরীরটাকে ভালো লাগছে সাহায্য করে।
তাই আপনার শিশুকে যদি রোগ মুক্ত রাখতে চান অর্থাৎ সুস্থ সবল শিশু বানাতে চান
তাহলে অবশ্যই ছোটবেলা থেকে শাকসবজি খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলন, মস্তিষ্ক ভালো
রাখতে সাহায্য করবে এবং লম্বা হতে অনেক সাহায্য করবে।
বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন কত হওয়া উচিত
বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন পরিবর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা, জেনেরাল পরিবেশ, আর
উপস্থিত সাধারণ পরিবেশের অধীনে ভিন্নতা দেখায়। সাধারণত, আধুনিক চিকিৎসা ও পুষ্টি
মেলে বয়স অনুযায়ী একটি প্রায় ওজন সীমা আছে, তবে এই সীমা চেয়ে বেশি বা কম ওজন
থাকতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি উপাদানগুলি
ঠিকমত হারানো না। যেহেতু প্রতিটি শিশু অনুযায়ী ভিন্নতা আছে, তাই সহায়ক হতে পারে
একজন চিকিত্সক বা পুষ্টিবিদ।
কি খাবার খেলে বাচ্চা লম্বা হয়?
একটি সুস্থ ও উচ্চ লম্বা প্রাপ্তির জন্য বাচ্চাদের পুষ্টিগত ও সঠিক খাবার
খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের পুষ্টিগত খাবারে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন
এ এবং ডি, জিংক, ওমেগা-৩ অংশীদার খাবার থাকা উচিত। এটি ধরে রাখতে হবে যে শিশুরা
ভালো মাত্রার খাবার সেবন করছে যা তাদের স্বাস্থ্যকর ও সামগ্রিক উন্নতির জন্য
উপযোগী।
প্রতিদিন সবজি, ফল, গরুর দুধ, মাংস, মাছ, ডাল, ডানা ধান, ইত্যাদি খাবারের মধ্যে
থাকা উচিত। এছাড়াও, ব্যায়াম ও সঠিক ঘুম সম্পর্কেও যত্ন নিতে হবে শিশুর লম্বায়
উন্নতি হতে।



Leave a Reply