রান্না স্বাদ বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এই তেজপাতা। তেজপাতা
রান্নায় ব্যবহার করা হয়। তেজপাতা রান্নার সাদ বাড়াতে অনেক সাহায্য করে।
তেজপাতা রান্নার সময় দেওয়া হয় এবং রান্নার পরে ফেলে দেওয়া হয়। এভাবে অনেকে
শুধু রান্নার কাজেই এটিকে ব্যবহার করে।
কিন্তু এখনো অনেকে হয়তো জানে না এই তেজপাতার গুনাগুন সম্পর্কে। কিন্তু এটিকে যদি
ভালোভাবে কাজে লাগানো যায় তাহলে এর জন্য অনেক উপকার পাওয়া যাবে। তাহলে চলুন
আমরা জেনে তেজপাতার কিছু গুনাগুণ সম্পর্কে।
তেজপাতার কিছু উপকারিতাঃ
রান্নায় ব্যবহার করা এ তেজপাতার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। বহুকাল আগে থেকে
বিভিন্ন ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অনেকে মনে করেন এটি শুধু
রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। এর তেমন কিছু উপকারিতা নেই। নেই কিন্তু এ ধারণাটি
ভুল।
কারণ তেজপাতার রয়েছে অসাধারণ কিছু উপকারিতা। যেটি হয়তো এখনো অনেকের কাছে
অজানা। তাহলে চলুন জেনে নেই অজানা তেজপাতার কিছু উপকারিতা। নিচে তেজ পাতার
উপকারিতা দেয়া হলো।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী তেজ পাতা
সংখ্যা আরো বেড়ে গেছে। তাই এখন প্রায় মানুষেরই ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা
দিচ্ছে। অনেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করছেন।
আবার অনেকে ডায়েট কন্ট্রোলও করছেন। কিন্তু এই তেজপাতা সেবন করার ফলে, খুব সহজেই
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে তেজ পাতা
যদি আপনার সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে তেজপাতা আপনার জন্য অনেক উপকারী। তেজপাতা
স্বাভাবিকভাবে আপনার হজম শক্তিকে আর বৃদ্ধি করতে অনেক সাহায্য করবে। সে সঙ্গে
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ও দূর করতে সাহায্য করে।
এছাড়া এটি শরীরের খারাপ টক্সিন উপাদান বের করে দিতেও সাহায্য করে। তেজপাতায়
থাকা এনজাইম খাবারের ভাঙতে পারে। ফলে যারা পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছেন
তাদের এই সমস্যা খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে। এছাড়া এটি অতিরিক্ত প্রস্রাবের সমস্যা
দূর করতে সাহায্য করে।
তেজপাতায় হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করেঃ
তেজপাতায় রয়েছে ক্যাফেক অ্যাসিড। এই উপাদানটি হার্টের দেয়াল গুলোকে আর মজবুত
করতে সাহায্য করে। তেজপাতা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে সাহায্য
করে। এই খারাপ কোলেস্টের গুলো রক্ত সঞ্চালনে বাধা প্রদান করে।
আর আমরা হয়তো প্রায় সকলের জানি যে হার্ট আমাদের শরীরে রক্ত সঞ্চালন করে। যখন এই
খারাপ কোলেস্টেরল গুলো রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয় তখন হাটে এক ধরনের সৃষ্টি
হয় যা হার্টের পক্ষে একদমই ভালো নয়। আর এই খারাপ কমালে হাটের বিভিন্ন ধরনের
রোগের আশঙ্কা কমে যায়। তাই হাটের বিভিন্ন ধরনের রোগের আশঙ্কা কমাতে
তেজপাতা খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আর তেজ পাতা খাওয়ার ফলে হার্ট অনেকটাই
সুস্থ থাকবে।
যে কোনও ব্যথার উপশমে বাড়িতেই বানিয়ে রাখুন তেজপাতা তেল
কোমরে ব্যথা হওয়া, পায়ে ব্যথা হওয়া ইত্যাদি আরো বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করতে
সাহায্য করে এই তেজপাতা। তেজপাতা যদি ব্লেন্ড করে ব্যথা স্থানে লাগানো যায়।
তাহলে এ ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।
এটেলটি ব্যথা উপশম করার জন্য অনেক উপকারি। তাই ব্যথাস্থান এতে যদি মালিশ করা
যায়। তাহলে ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। আর তেজপাতা যদি আপনি সেবন করতে পারেন তাহলে
ভেতর থেকে আপনার ব্যথা দূর হয়ে যাবে।
ক্যান্সার কোষ সৃষ্টি হতে বাধা দেয়ঃ
ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধিই না পাই তাহলে, ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেকটাই কমে
যাবে। ক্যান্সার কোষ সৃষ্টি হতে বাধা প্রদান করে। ক্যান্সার রোগের ঝুঁকিও অনেকটা
কমে যায়। বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে তেজপাতা লড়াই করতে পারে।
পারে।
এলার্জির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে তেজ পাতা
অনেকের বিভিন্ন খাবারে এলার্জি থেকে থাকে। এর ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের
চুলকানির কিংবা রশেস এর সমস্যা হয়ে থাকে। ফলে গায়ে বিভিন্ন ধরনের দাগের চিহ্ন
দেখা যায়। এই সমস্যা দূর করতেও তেজপাতার অবদান রয়েছে।
তাই এলার্জির এসব চুলকানি সমস্যা দূর করতে তেজপাতার ব্যবহার করতে পারেন। তেজপাতা
গরম পানিতে ফুটিয়ে এর পানি গোসল করার পর গায়ে ব্যবহার করতে হবে। এরপর যখন
এটি সুখে যাবে তখন গা মুছে ফেলুন। এতে করে আপনার চুলকুনি কিংবা রেসেস এর সমস্যা
দূর হয়ে যাবে।
আর চুল করার পরে যে দাগগুলো থাকে সেগুলো দূর হয়ে যাবে। আর এছাড়াও পানি ব্যবহার
করার ফলে, শরীরের কাঁটা স্থান খুব সহজে ভালো হয়ে যাবে।
প্রতিদিন সকালে তেজপাতা পানি খেলে কি হয়
তেজপাতা খাওয়া এবং ব্যবহার করার ফলে যেসব উপকারিতা রয়েছে। এর থেকেও বেশি
উপকারিতা রয়েছে যদি আপনি সেই তেজপাতাটি গরম পানিতে ফুটিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
এটি আপনার জন্য অনেক উপকারি। তাহলে চলুন জেনে নিয়ে তেজপাতার পানির উপকারিতা।
তেজপাতার পানের উপকারিতা গুলো নিচে দেওয়া হলঃ
-
যখন তেজপাতা পানিতে সেদ্ধ করা হয় তখন এর পুষ্টি উৎপাদন গুলো আরো বেড়ে
যায়। এতে থাকা ভিটামিন এবং মিনারেলস আমাদের জন্য অনেক উপকারী। এগুলো আমাদের
সুস্থ রাখতে অনেক সাহায্য করে। এই তেজপাতার ভেজান পানিতে থাকে ভিটামিন এ,
ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আইরন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি আরো বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি
উপাদান। এগুলো আমাদের জন্য অনেক উপকারী। -
এ পানির শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে অনেক সাহায্য করে। ফলে
শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকে। আর বেশি রোগের ঝুঁকির আশঙ্কাটাও
অনেক কমে যায়। এটির শরীরের টক্সিন উপাদান গুলো বের করে দিতেও সাহায্য করে। -
এ পানি যদি নিয়মিত ভাবে খাওয়া যায় তাহলে এটি আমাদের হার্ড সুস্থ রাখতে অনেক
সাহায্য করে। আরও বিভিন্ন ভাবে আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কারণ এতে
রয়েছে। -
তেজপাতার এ পানি শরীরের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও
ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিত সাহায্য করে। ফলে এ পানি ডায়াবেটিস রোগীদের
জন্য অনেক উপকারি। তেজপাতার এই পানির স্ট্রেস হরমোন এর মাত্রা কমাতেও সাহায্য
করে। ফলে এটি আমাদের মন শান্ত রাখতে অনেক সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক
চাপ থেকে মুক্তি পেতেও সাহায্য করে।
তেজ পাতার অপকারিতাঃ
পারে। তাই আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন তেজপাতার কিছু অপকারিতা সম্পর্কে। নইলে এর
ক্ষতিকারক দিক গুলো থেকে বেঁচে থাকা যাবে না। তেজপাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
পুষ্টিগুণ রয়েছে। এত পুষ্টিগুন থাকার পরও কেন এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকারক। তাহলে
কোন কোন মানুষের জন্য তেজপাতা ক্ষতিকারক সেটা জেনে নেইঃ
যাদের হজমের সমস্যা রয়েছেঃ
তেজপাতা আমাদের হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কিন্তু যাদের আগে থেকে হজমের
সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি ভালো নয়। আরেকটু বুঝিয়ে বললে হয় কি, যাদের এখনো
হজমের সমস্যা হয়নি ভবিষ্যতে তাদের হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে তেজপাতা।
কিন্তু যাদের আগে থেকেই হজমের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি মোটে উপকারী নয়। আরো
বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এছাড়া এটি গর্ভবতীদের জন্য ভালো নয়ঃ
কারণ তেজপাতার শরীর গরম করতে অনেক সাহায্য করে। আর একজন মা ও তার শিশুর জন্য
অতিরিক্ত শরীর গরম হয় একদমই ভালো নয়। তাই গর্ভবতী সময় অতিরিক্ত তেজপাতা খাওয়া
স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। তাই সেই সময়ে তেজপাতা কিছুটা এড়িয়ে চলাই ভালো।
শেষ কথা
সকালে তেজপাতা পানি খেলে কি হয়। আজকের এই আর্টিকেল যদি আপনার কোন উপকারে লেগে
থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে এই
আর্টিকেলটি শেয়ার করবেন







Leave a Reply