তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমাদের দেশে যত ঔষধি গাছ আছে তুলসী তার মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম একটি দিব্য গাছ।
তুলসী পাতা পায় সর্ব রোগ নিরোধক। বিভিন্ন রোগে তুলসীর পাতা নানাভাবে ব্যবহার করা
যায়। আমরা আজকের পর্বে তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করব।  তাই জানতে হলে আজকের এই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে
পড়ুন।                                                           

তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরা আজকের পর্বে আলোচনা করব যেভাবে তুলসী পাতা সেবন করলে প্রায় সব রোগ নিরাময়
হয়। প্রাকৃতিক বা স্বদেশী চিকিৎসকরা তুলসী পাতার আশ্চর্য বোনকে কাজে লাগিয়ে
প্রায় অসাধ্য সাধন করেছেন। এই তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা
নিচে আলোচনা করব। তবে তুলসী পাতা ব্যবহার করার আগে প্রথমে রোগীর বয়স সক্ষমতা রোগ
প্রকৃতি ও সময় পরিবেশ ও রীতুর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রতিদিন একটি করে তুলসি পাতা খেলে কি ক্ষতি হবে

প্রিয় পাঠক আপনি জানতে চেয়েছেন প্রতিদিন তুলসী পাতা খেলে কি হবে এ সম্পর্কে।
আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে একটি করে তুলসী পাতা খান তাহলে আপনার রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এবং অন্যান্য আরো বিভিন্ন রোগের উপসর্গ থেকে আপনার রক্ষা
পাবেন। তবে একটা কথা বলে রাখা ভালো আপনার তুলসী পাতা খেতে পারেন তবে তবে
চিবিয়ে  খাবেন না। 

এতে আপনার দাঁতের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কারণ তুলসী পাতার মধ্যে
থাকা পারদ দাঁতের উপর দাগ ফেলতে পারে এবং তুলসী পাতা অ্যাসিটিক প্রকৃতি হওয়ার
কারণে মুখের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তুলসী পাতায় থাকা খালি পদার্থ দাঁতের
এনাবেল নষ্ট করে দিতে পারে। কাজে তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কাদের তুলসী খাওয়া উচিত নয়

প্রিয় পাঠক এই পর্বে আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব কাদের জন্য তুলসী পাতা খাওয়া
উচিত নয়। তুলসী পাতা যেমন উপকার আছে তেমনি অপকার আছে সব বয়সে এবং সব রোগের জন্য
তুলসী পাতা খাওয়া ঠিক নয়। এই পর্বে আমরা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব কাজের
তুলসী খাওয়া উচিত নয়।

 যারা ডায়াবেটিস রোগী আছেন তাদের জন্য তুলসী খাওয়া ঠিক নয় কেননা
ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন নেয়। এই ইনসুলিন এবং তুলসী পাতা একসঙ্গে শরীরের জন্য
ক্ষতিকর তাই ডায়াবেটিস রোগের জন্য তুলসী পাতা খাওয়া ঠিক নয়।

যারা গর্ভবতী মহিলা তাদের জন্য তুলসী পাতা খাওয়া উচিত নয় কেননা তুলসীতে ইউজেনাল
নামক একটি উপাদান থাকে যা এটি মেয়েদের পিরিয়ডস শুরু করতে সাহায্য করে।

তুলসী পাতার উপকারিতা

প্রিয় পাঠক এরপর আমরা আলোচনা করব তুলসী পাতার উপকারিতা সম্পর্কে। আমরা অনেকেই
জানি যুগ যুগ ধরে এই তুলসী পাতার উপকারিতা। ঠান্ডা সর্দি জ্বর হলে তুলসী
পাতার রস খেলে ঠান্ডা শরীর দূর হয়। এই তুলসী পাতা ক্যান্সারের মতো রোগের
বিরুদ্ধে লড়াই করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। হালকা করা হলে
তুলসী পাতা অনেক উপকারে আসে। 

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তুলসীপাতার ভূমিকা অপরিসম। যাদের ওজন
বেড়ে গেছে তারা নিয়ম করে তুলসী পাতা খেলে দ্রুত ওজন কমে যাবে।

তুলসী পাতার অপকারিতা

প্রিয় পাঠক আপনার নিশ্চয় জানতে চাচ্ছেন তুলসী পাতার অপকারিতা সম্পর্কে। আজকের
এই পর্বের মাধ্যমে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব তুলসীপাতার অপকারিতা সম্পর্কে।
তুলসী পাতার যেমন উপকারিতা আছে ঠিক তেমনি অপকারিতা আছে। তুলসী পাতা যদি পরিমাণ মত
খান তাহলে সেটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো কিন্তু বেশি পরিমাণ খেলে সেটা স্বাস্থ্যের
পক্ষে অনেক ক্ষতি কর।

 বিশেষ করে গর্ভাবস্থা মেয়েদের তুলসী পাতা খাওয়া ঠিক না। তুলসী পাতা
পরিমাণে বেশি খেলে রক্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক
ক্ষতির কারণ হবে।

কাশি হলে তুলসী পাতা কিভাবে খেতে হয়

আপনি জানতে চেয়েছেন কাশি হলে তুলসী পাতা কিভাবে খেতে হয়। এই পর্বের মাধ্যমে
আপনি জানতে পারবেন কাশি হলে তুলসী পাতা কিভাবে খেতে হয় তো চলুন জেনে নেই কাশি
হলে তুলসী পাতা কিভাবে খেতে হয়। প্রথমে পরিষ্কার দুটি তুলসীপাতা নিতে হবে তারপর
দুই চামচ মধু হলুদের গুড়া গোল মরিচ সব এগুলো মিশিয়ে নিয়ে ব্লেন্ড করতে
হবে। 

তারপর সেখান থেকে যে রস বের হবে সেই রস প্রতিদিন দুই থেকে তিন চামচ করে খেতে হবে
দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেখবেন কাশি দূর হয়ে গেছে।

রান্নার জন্য কোন তুলসী ভালো

প্রিয় পাঠক আপনি জানতে চেয়েছেন রান্নার জন্য ফুল তুলসী ভালো। আপনি যদি না জেনে
থাকেন রান্নার জন্য সেই ভালো তাহলে আজকের এই পর্বের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন
রান্নার জন্য ফুল তুলসী ভালো। রান্নার জন্য ভালো তুলসী হল (মিষ্টি তুলসী)। এই
তুলসির পাতা অনেক বড় বড় হয় এবং রান্নার স্বাদ অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা এই পর্বের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। এই পর্বের মাধ্যমে আমরা
আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছেন রান্নার জন্য ফোন তুলসী ভালো, কাশি হলে তুলসী পাতা
কিভাবে খেতে হয় তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। এই পর্ব সম্পর্কে যদি
আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আর যদি আজকের
এই পর্ব আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *