গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন নেওয়ার উপায় ২০২৪

গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বাড়ি করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকে। এ
লোন গুলো বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। আপনিও যদি গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক
লোন নেওয়ার উপায় ২০২৩ সম্পর্কে জানতে চান তবে এই পর্বটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এই
পর্বের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন বাড়ি করার জন্য কোন লোন গুলো সব থেকে সুবিধা
জনক। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন নেওয়ার উপায়
২০২৩ সম্পর্কে।

গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন

আপনি নিশ্চয়ই গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিচ্ছেন। আপনি যদি ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি করার চিন্তা ভাবনা করে থাকেন এবং বাড়ি
করার জন্য ব্যাংক লোন নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন তবে এই পর্বটি আপনার জন্য। এই
পর্বের মাধ্যমে চলুন জেনে নেওয়া যাক গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন
নেওয়ার উপায় ২০২৩ পদ্ধতি সম্পর্কে।

গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন নেওয়ার উপায় ২০২৩

প্রিয় পাঠক আপনি নিশ্চয় জানতে চাচ্ছেন গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন
নেওয়ার উপায় ২০২৩ সম্পর্কে। আজকের এই পর্বে আমরা আলোচনা করব গ্রামে বাড়ি করার
জন্য ব্যাংক লোন নেওয়ার উপায় ২০২৩ সম্পর্কে।বর্তমানে গ্রামে বাড়ি করার জন্য
বিভিন্ন ব্যাংক গুলো ব্যাংক লোন বা হোম লোন দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে অনেক ব্যাংক
রয়েছে যেগুলো বাড়ি করার জন্য একটু বেশি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। গ্রামে
বাড়ি করার জন্য সবথেকে সুবিধা দিয়ে থাকে ইসলামী ব্যাংক। আপনি ইচ্ছে করলে
গ্রামে বাড়ি করার জন্য ইসলামী ব্যাংক থেকে হোম লোন নিতে পারেন। অনেকেই রয়েছে
যারা স্বল্প বেতনের চাকরি করে থাকে এবং তাদের জন্য স্বপ্নের বাড়ি দেওয়া
প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই সমস্যার কথা চিন্তা করে
বিভিন্ন ব্যাংকগুলো এই ব্যাংক লোনের সুবিধা চালু করেছে।
গ্রামেও বাড়ি করতে বর্তমান সময়ে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়ে থাকে। যে টাকাগুলো
একজন স্বল্প বেতনের চাকুরীজীবীর যোগান দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তাই
আপনি এখন ইচ্ছে করলেই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হোম লোনের মাধ্যমে বাড়ি করার জন্য
আপনার প্রয়োজনীয় টাকা উত্তোলন করতে পারবেন বা লোন নিতে পারবেন। নিচে গ্রামে
বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন এর পদ্ধতি এবং কোন ব্যাংকগুলো হোম লোন দিয়ে থাকে
সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

কৃষি ব্যাংক হোম লোন

বর্তমান সময়ে কৃষকদের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে কৃষি ব্যাংক
কৃষকদের জন্য কৃষি ব্যাংক হোম লোন দিয়ে থাকে। একজন কৃষক চাইলে এখন কৃষি
ব্যাংকের মাধ্যমে লোন নিয়ে তার স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করতে পারবেন। দেশের
উন্নয়নে যারা সব থেকে বেশি ভূমিকা পালন করে তাদের মধ্যে অধিকাংশই কৃষক।
বর্তমান সময়ে দেশের শতকরা ৮০% মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত রয়েছে। সে কথা চিন্তা
করে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে বি এইচ বি এফ সি কৃষকদের জন্য
আবাসন লোন বা হোম লোন দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেছে। চলুন এই পর্বের মাধ্যমে
জেনে নেওয়া যাক কৃষি ব্যাংক হোম লোন কারা পাবে এবং কিভাবে পাবে।

কৃষি ব্যাংকের হোম লোন যারা পাবেনঃ

দেশের সকল পেরি আরবান, গ্রোথ সেন্টার, ও উপজেলা সদর এলাকার বাসিন্দা ও কৃষকগণ
এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কৃষি ব্যাংক হোম লোন যেভাবে দিয়ে থাকেঃ

বর্তমান সময়ে কৃষি ব্যাংক ও হোম লোন বা আবাসন নির্মাণের জন্য দুই ভাগে ঋণ
দিয়ে থাকে। যেমন একক ভিত্তিতে এবং গ্রুপ ভিত্তিতে। আপনি ইচ্ছে করলে যে কোন
পদ্ধতিতে এই ঋণ উত্তোলন করতে পারবেন। আপনি যদি একক ঋণ নিয়ে থাকেন তবে আপনাকে
সর্বোচ্চ 30 লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে এবং আপনি যদি গ্রুপ ভিত্তিতে ঋণ
নিয়ে থাকেন তবে আপনি ২০ লক্ষ টাকা ঋণ নিতে পারবেন।(গ্রুপ ভিত্তি বলতে আপনি সহ
আপনার কয়েকজন ভাই মিলে)।

যেসব যোগ্যতা থাকা আবশ্যকঃ

  • আপনি যদি কৃষি ব্যাংক থেকে হোম লোন নিতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই জন্মসূত্রে
    বাংলাদেশী স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং যে এলাকা থেকে ঋণ উত্তোলন করতে
    চাচ্ছেন সেই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • আবেদনকারের অথবা ঋণগ্রহীতার বাড়ি করার জন্য নিজ গ্রামে জমি থাকতে হবে।
  • পৌরসভা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বাড়ি তৈরি করতে
    হবে।
  • ঋণ গ্রহিতাকে অবশ্যই পূর্ণবয়স্ক ও সুস্থ হওয়া লাগবে এবং চুক্তি করার
    ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি হতে হবে।
  • ঋণ আবেদনকারীর বয়সসীমা ১৮ বা ২০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে লেজ দাদা কর্তৃক গৃহীত হতে
    হবে।
  • ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জামিনদার, স্ত্রী,
    মা বাবা অথবা পুত্রকন্যা স্বাক্ষর থাকতে হবে।
  • কোন ব্যক্তির একই এলাকায় নিজস্ব বসবাসের জন্য পাকা বাড়ি থাকলে তিনি
    নতুনভাবে এ ঋণ নিতে পারবেন না।

বাড়ির দলিল দিয়ে ব্যাংক লোন

আপনি যদি বাড়ির দলিল দিয়ে ব্যাংক লোন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান তবে
এই পর্বটি আপনার জন্য। এই পর্বের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে বাড়ির দলিল
দিয়ে ব্যাংক লোন নিতে হয় বা নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া
যাক দলিল দিয়ে ব্যাংক লোন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত। বাড়ির দলিল
দিয়ে ব্যাংকের লোন নিতে হলে প্রথমে আপনাকে বাছাই করতে হবে আপনি কোন ব্যাংকে
লোন নিতে চাচ্ছেন। অবশ্যই আপনাকে সেই ব্যাংকের মর্টগেজ বা বন্ধকী লোন
সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। বিস্তারিত জানার পর আপনার যদি সেই ব্যাংক থেকে
লোন নেওয়ার ইচ্ছে পোষণ থাকে তবে আপনি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিয়ে ব্যাংক
লোন নিতে পারবেন।

বাড়ির দলিল দিয়ে ব্যাংক লোন নেওয়ার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সমূহঃ

  • জাতীয় পরিচয় পত্র
  • ইউলিটি বিলের কপি
  • বাড়ির দলিল ও বায়া দলিল
  • সিএস এর রেকর্ড/আরএস রেকর্ড ও বিএস রেকর্ড খতিয়ান
  • জমি খারিজ করার সময় প্রদান কৃত রশিদ
  • খারিজের কাগজ
  • মৌজারিট
  • গত এক বছরের ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ
  • ঋণের চুক্তি পত্র
বাড়ির দলিল দিয়ে বা জমির দলিল দিয়ে ব্যাংক লোন নেওয়ার জন্য উল্লেখিত
ডকুমেন্টসগুলো প্রয়োজন হবে তাই পূর্ব থেকে এই কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করে রাখতে
হবে। ব্যাংক লোন নেওয়ার জন্য অবশ্যই উক্ত ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে সরাসরি
কথা বলে নিতে হবে।

ইসলামী ব্যাংক হোম লোন পদ্ধতি

বর্তমান সময়ে ইসলামী ব্যাংক হোম লোন পদ্ধতি চালু করেছে। বর্তমান সময়ে
বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা প্রায়
অসম্ভব হয়ে যায়। সে সকল মানুষের কথা চিন্তা করে ইসলামী ব্যাংক এই সেবাটি চালু
করেছে। আপনি যদি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হোম লোন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে
জানতে চান তবে এই পর্বটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এই পর্বের মাধ্যমে চলুন
জেনে নেওয়া যাক ইসলামী ব্যাংক হোম লোন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে।

ইসলামী ব্যাংকে হোম লোন পাওয়ার শর্ত সমূহ

  • আয়ের উৎসঃ ইসলামী ব্যাংক আপনাকে হোম লোন দেওয়ার পূর্বে যাচাই
    করে নেবে আপনি সেই লোন পরিশোধ করার উপযুক্ত কিনা। আপনি যদি সেই লোন পরিশোধ
    করার উপযুক্ত হন তবে আপনাকে হোম লোন দেওয়া হবে।
  • বয়সঃ ব্যাংকের লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স একটি খুবই
    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে কোন বয়সের মানুষ লোন নিতে পারবে না। আপনার বর্তমান
    বয়স যদি ৪০ বছরের উপরে হয় তবুও আপনাকে লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকবার
    চিন্তা করতে হবে। ব্যাংকের লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত বয়স হলো ১৮ বছর
    থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত।
  • পূর্বে ঋণ ছিল কিনাঃ যেকোনো ব্যাংকে চাইবে তাদের প্রধান কি তোর
    ঋণ পরিশোধ করার সক্ষমতা আপনার আছে কিনা। আপনি যদি পূর্ব থেকেই অনেক
    ব্যাংকের ঋণ নিয়ে থাকেন তবে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অনেক ক্ষেত্রে
    নাও দিতে পারে।
  • পূর্বের অভিজ্ঞতাঃ ইসলামী ব্যাংক আপনাকে লোন দেওয়ার পূর্বে
    যাচাই করে নেবে কোন ব্যাংকের মাধ্যমে আপনি পূর্বের লোন আদান প্রদান করেছেন
    কিনা। অথবা আপনি এর আগেও ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে যথাযথ সময় লোন পরিশোধ
    করেছেন কিনা।
  • কর্মস্থলঃ ব্যাংকে হোম লোন দেওয়ার পূর্বে প্রথমে আপনাকে
    যাচাই-বাছাই করে নেবে আপনি কোন স্থানে কর্মরত রয়েছেন। আপনার কর্মস্থলের
    নাম এবং আপনার সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করার পর আপনাকে লোন দেওয়া হবে।

ব্রাক ব্যাংক হোম লোন

বাড়ি তৈরীর স্বপ্ন ধনী-গরিব সকলেরই থাকে। কিন্তু ধনীদের এই স্বপ্নপূরণ হলেও
মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের এই স্বপ্ন পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।
বর্তমান সময়ে এসব কথা চিন্তা করে ব্র্যাক ব্যাংক ও নির্দিষ্ট কিছু শর্তের
বিনিময়ে হোম লোন দিয়ে থাকে। এখন আপনি খুব সহজেই ব্রাক ব্যাংক এর মাধ্যমে হোম
লোন নিতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্রাক ব্যাংক হোম লোন
নেওয়ার পদ্ধতি।

ব্র্যাক ব্যাংকে হোম লোন নিতে হলে যেসব যোগ্যতা থাকতে হবে

  • প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে(সর্বনিম্ন ২৫ এবং সর্বোচ্চ ৬৫ বছরের মধ্যে)
  • নির্ভরযোগ্য ইনকাম সোর্স থাকতে হবে(চাকরি, ব্যবসা, অথবা ব্যবসা
    প্রতিষ্ঠান)
  • ন্যূনতম মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা হতে হবে
  • অবশ্যই আপনার ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

  1. ভোটার আইডি কার্ড/ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা পাসপোর্ট
  2. গত এক বছরের ব্যবসায়িক উপার্জনের স্টেটমেন্ট স্যালারির কাগজপত্র
  3. ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
  4. হোম লোনের বরাদ্দ চুক্তি বা বাইনার দলিল
  5. হোম ক্রেডিট এর জন্য নিবন্ধিত মালিকানা দলিল

সোনালী ব্যাংক গৃহ নির্মাণ ঋণ আবেদন ফরম

আপনি যদি সোনালী ব্যাংকের গৃহ নির্মাণের জন্য ঋণ আবেদন করতে চান তাহলে অবশ্যই
আপনাকে সোনালী ব্যাংক কর্তৃক গৃহ নির্মাণ ঋণের আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আপনি
যদি সোনালী ব্যাংক গৃহ নির্মাণ ঋণ আবেদন ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করার নিয়ম সম্পর্কে
জানতে চান তবে এই পর্বটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এই পর্বের মাধ্যমে
চলুন সোনালী ব্যাংক গৃহ নির্মাণ ঋণ আবেদন ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করার নিয়ম
জেনে নেওয়া যাক। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক গৃহ নির্মাণের জন্য গৃহঋণ প্রদান করে
থাকেন। ঋণ গ্রহণ করার জন্য আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্দিষ্ট একটি
চুক্তি নামা বা ফরম পূরণের মাধ্যমে আপনাকে এই লোন প্রদান করা হবে। আবেদন ফরমটি সংগ্রহ করুন

হোম লোনের সুবিধা অসুবিধা

বাড়ি নির্মাণের জন্য ব্যাংক লোন বা হোম লোনের সুবিধা থাকলেও ব্যাংক গুলোর
বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে ও হোম লোনের অসুবিধা রয়েছে। আপনাকে যেমন বাড়ি
নির্মাণের জন্য ব্যাংক লোন দিবে তেমনি এর ক্ষতিকারক দিক রয়েছে। তাই চলুন এই
পর্বের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক হোম লোনের সুবিধা অসুবিধা গুলো। হোম লোনের
সুবিধা অসুবিধা নিচে দেওয়া হলোঃ

সুবিধা

  • সময়ের মধ্যে যদি আপনি সব লোন শোধ করে দিতে পারেন তবে আপনার সিভিল স্কোর ও
    বৃদ্ধি পাবে।
  • হোম লোনের ঋণদাতারা আবেদনকারীদের কাছে খুবই স্বল্প পরিমাণ ডকুমেন্টস এবং
    ক্রেডিট স্কোরের ভিত্তিতে ও আবেদনকারীর লোন ঠিকঠাক মতো পরিশোধ করতে পারবেন
    কিনা সেটা বুঝে লোন দিয়ে থাকেন।
  • পার্সোনাল লোনের তুলনায় হোম লোনের কম পরিমাণ সুদে লোন প্রদান করা হয়। তবে
    আপনাকে সিকিউরিটি হিসেবে বা বন্ধক হিসেবে কিছু জমি রাখতে হয়।

অসুবিধা

  • আপনি যদি কোন কারণে লোন পরিশোধ করতে না পারেন তাহলে ব্যাংক আপনার সম্পত্তি
    বিক্রি করে পরিশোধ করে নিবে বা নিতে পারে।
  • একবার যদি ব্যাংক আপনার হোম লোনের জন্য আবেদন কনফার্ম করে ফেলে তবে আপনি এর
    থেকে পিছিয়ে আসতে পারবেন না। হোম লোনের জন্য সাধারণত ১০ থেকে ৩০ বছর
    পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।

প্রবাসী হাউজ লোন

বর্তমানে বাংলাদেশী প্রবাসীরা লোন এর মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন প্রবাস বন্ধু নামে একটি ঋণ
কর্মসূচি চালু করেছে। তবে এই ঋণ আপাতত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য,
অস্ট্রেলিয়া, ইতালি সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য বসবাসকারী
বাংলাদেশিরা এই ঋণ নিতে পারবেন। বাড়ি নির্মাণের জন্য আপনি তিন ধরনের ঋণ নিতে
পারবেন। যেমনঃ নিজে একা ঋণ নেওয়া, গ্রুপ লোন এবং ফ্ল্যাট ঋণ। প্রবাসী
হাউস লোন নেওয়ার জন্য যেসব যোগ্যতা আপনার থাকতে হবেঃ
  • অবশ্যই আপনাকে বিদেশে চাকরি বা কর্মের ভিসা লাভ করতে হবে।
  • ঋণগ্রহীতা অনুপস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন এর ঋণ চালানোর মত সক্ষমতা থাকতে
    হবে।
  • যে ব্যক্তি জামিনদার হবে তার আর্থিক সচ্ছলতা থাকতে হবে
  • আবেদনকারীর ব্যক্তির ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দুই কপি ছবি এবং মোবাইল
    নাম্বার দিতে হবে। তাহলে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে আপনার ঋণ দেওয়ার বিষয়টি
    কনফার্ম করে দিবে।

ইসলামী ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট রেট

আপনি যদি ইসলামী ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট রেট সম্পর্কে জানতে চান তবে এই পর্বটি
আপনার জন্য। এই পর্বের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন ইসলামী ব্যাংকের লোন নিলে কত
পার্সেন্ট ইন্টারেস্ট রেট নিয়ে থাকে। ইসলামী ব্যাংক আপনাকে কত পার্সেন্ট ঋণ
প্রদান করবে সেটা নির্ভর করবে আপনার মাসিক আয়ের উপর। আপনার ইনকামের পরিমাণ যত
বেশি হবে ঋণের পরিমাণও তত বেশি পাবেন। সাধারণত ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ গ্রহণ
করার পর আপনার থেকে ইসলামী ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট রেট নিবে ৭.৬০% হারে। আশা করি
বুঝতে পেরেছেন ইসলামী ব্যাংক লোন নিলে ইন্টারেস্ট রেট কত হবে।

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক হোম লোন

অন্যান্য ব্যাংকের মতো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক হোম লোন দিয়ে থাকে। আল আরাফাহ
ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আপনি হোম লোন নিয়ে থাকলে ইসলামী ব্যাংকের মতন
সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের হোম লোন পাওয়ার জন্য আপনার যে
সকল কাগজপত্র প্রয়োজন হবেঃ
  • আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • উক্ত ঋণের জন্য যে আমানত কারী থাকবে সেই ব্যক্তির সদ্য তোলা রঙিন পাসপোর্ট
    সাইজের ছবি
  • লোন গ্রহীতার ভোটার আইডি কার্ড/পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন/ড্রাইভিং
    লাইসেন্স যেটাই থাকুক প্রদান করতে হবে।
  • আপনি জমির উপর বাড়ি করতে চান সেই জমি প্রয়োজনীয় দলিল
  • শেষ ছয় মাসের ব্যাংক বিবরণে
  • বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট বা পানির বিল যেকোনো একটি ফটোকপি জমা দিতে হবে।

ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লোন

ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লোন নিতে হলে আপনাকে অনেকগুলো পদক্ষেপ বা শর্ত
পূরণ করা আবশ্যক। প্রথম সেক্রেটার ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকের কথা চিন্তা করে ঋণের
উপর সর্বোচ্চ লভ্যাংশের হার ১৪.৫% ধার্য করে থাকে। জমি বা বাড়ি কেনার জন্য নয়
বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বাড়ি নির্মাণের জন্য হোম লোন দিয়ে
থাকে। ২০১৫ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই দিনের পরিমাণ
বাড়িয়ে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করেছে। বেশিরভাগ ব্যাংক বর্তমানে
ফ্ল্যাট বা জমি মূল্যর ৭০% পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। চলুন দেখে নেওয়া যাক
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লোন নিতে হলে কি কি কাগজপত্র আপনার থাকা
আবশ্যক।
  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • জাতীয় পরিচয় পত্র ফটোকপি
  • ট্যাক্স সার্টিফিকেট
  • আবেদন পত্র
  • বিজনেস কার্ড ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের
  • এক মাসের ইউটিলিটি কাগজপত্র
  • বেতন বা আই বিবরণে
  • অন্যান্য কোন স্থান থেকে ঋণ নেওয়া থাকলে তার কাগজপত্র

শেষ কথা

আলোচনা সাপেক্ষে  এতক্ষণে নিশ্চয়ই বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রামে
বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন নেওয়ার উপায় ২০২৩ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। আপনার
যদি এই পর্বটি সম্পর্কে কোন মতামত থেকে থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং
আজকের পর্বটি যদি ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *