আসসালামু আলাইকুম, সামনে আমাদের কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হবে সেই ক্ষেত্রে আমাদের
সকলেরই কোরবানির পশুর বয়স এবং কোরবানির গরুর বয়স জেনে রাখা প্রয়োজন। আপনারা
যারা মূলত কোরবানির পশুর বয়স সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য আমরা এই পোস্টটি
নিয়ে এসেছি।
তাই চলুন দেরি না করে জেনে নেই পশুর বয়স সম্পর্কে।
কোরবানির জন্য ছাগলের বয়স
কোরবানি সম্পর্কে আমরা সকলেই অনেক কিছু জানি। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা
কোরবানির পশুর বয়স সম্পর্কে তেমন জানে না। কোরবানি দেওয়ার সময় কোরবানির পশুর
বয়স নির্ধারণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই আজকে আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে
কোরবানির জন্য ছাগলের বয়স এবং কোরবানির পশুর বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
করব। নিম্নে কোরবানির পশুর বয়স দেওয়া হলঃ
আরো পড়ুনঃকুরবানী ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
ছাগল কোরবানি দেওয়ার জন্য ছাগলের বয়স সর্বনিম্ন এক বছর হতে হবে। অথবা যদি কোন
ছাগল দূর থেকে দেখতে এক বছর বয়সী ছাগলের মত সেই ছাগল দিয়েও
কোরবানি দেওয়া যাবে এতে কোন সমস্যা হয় না। ছাগল কোরবানির বয়স
সম্পর্কে হাদিসেও বর্ণনা রয়েছে হাদীসটি হলোঃ
হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই মুসিন্না অর্থাৎ
নির্দিষ্ট বয়সের পশু কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয়
মাসের মেষশাবক কোরবানি করতে পারবে। [ মুসলিম]
কোরবানির পশুর কি কি খাওয়া হারাম
কোরবানি মূলত আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য এবং সন্তুষ্টি লাভের জন্য দেওয়া হয়।
ইসলামের বিধি বিধান অনুযায়ী কোরবানির গোশত মূলত তিন ভাগে ভাগ করে বন্টন
করা হয়। কিন্তু কোরবানির ক্ষেত্রে হালাল পশুর জন্য কিছু বিধি-বিধান রয়েছে।
যেমন হালার পশুর ৭টি অংশ খাওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম। সাতটি অংশ নিম্নে
দেওয়া হলোঃ
- নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ।
- মাদি প্রাণীর স্ত্রীলিঙ্গ।
- মূত্রথলি।
- পিত্ত।
- প্রবাহিত রক্ত।
- অন্ডকোষ।
- মাংস গ্রন্থি।
উপরোক্ত সাতটি হারাম খাদ্য একটি হালাল পশুর খাওয়া নিষেধ। আমাদের সকলকেই এই
সাতটি খাদ্য থেকে দূরে থাকতে হবে। তা না হলে কুরবানী হালালভাবে দেওয়া হবে না।
তার সাথে কোরবানির পশুর বয়সে সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
কোরবানির দোয়া ও নিয়ত
কোরবানির দোয়া না জেনে কোরবানি দেওয়া উচিত নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালার
উদ্দেশে কোরবানি দেওয়ার সময় দোয়া না করলে আল্লাহ তা’আলা সেই কোরবানি কবুল
করেন না। অতঃপর কোরবানির দোয়া না করলে আপনার কোরবানি দেওয়া হবে না। এর
জন্য আপনাকে অবশ্যই কোরবানির দোয়া জেনে রাখতে হবে। আপনারা যারা কোরবানির
দোয়া জানেন না তাদের জন্য আমরা এয়ার টিকেটের মাধ্যমে পবিত্র কোরবানির দোয়া
বলে দেবো। নিম্নে কোরবানির দোয়া দেওয়া হলোঃ
উচ্চারণঃ ইন্নিহ ওয়াঝঝিয়াতুহ ওয়াঝ হিয়া লিল্লাহি ফাতারাস সামাওতি
ওয়াল আরদা, আলা মিল্লাতি ইব্রাহিমা হানিফা ওয়া মাআনা মিনাল মুশ্রিকিন। ইন্নাহ
সালাতি ওআ নুসুকি ওয়াহ মাহইয়া ওয়া মামাতি রিল্লাহি রব্বুল আলামিন। লা
শারিকালাহু ওয়া বিজালিকা উম্রিতু ওয়া আনা মিনাল মুুস্লিমিন। বিসমিল্লাহই
আল্লাহহু অকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালিক।
অর্থঃ নিশ্চয়ই আমি দৃঢ়ভাবে সেই মহান সত্তার অভিমুখী হলাম, যিনি
আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্গত নই।। নিশ্চয়ই আমার
নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সবাই বিশ্ব প্রতিপালক মহান
আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তার কোন শরীক নেই। আমি এ কাজের জন্য আদিষ্ট
হয়েছি। আর আমি আত্মসমর্পণ কারীদের একজন। হে আল্লাহ! তোমার পক্ষ থেকে তোমার
জন্য। আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
কোরবানির মাংস খাওয়ার নিয়ম
প্রিয় পাঠক আমরা কোরবানির পশুর সম্পর্কে বিস্তারিত অনেক কিছুই আলোচনা করেছি।
তবে আমরা এখন আর্টিকেলের মাধ্যমে কোরবানির মাংস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনারা হয়তো অনেকেই কুরবানীর গোশত খাওয়ার নিয়ম কেমন
ভাবে জানেন না। নিম্নে কোরবানির গোশত খাওয়ার নিয়ম দেওয়া হলঃ
কোরবানির মাংস যিনি কোরবানি দেন তিনিও খেতে পারবেন। এতে কোন ধরনের সমস্যা নেই।
কোরবানির মাংস সাদকাও করতে পারবেন এবং হাদিয়াও দিতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে
আল্লাহ তাআলার বাণী হলোঃ “অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ অভাবীকে আহার
করাও”। ( সূরা হাজ্জ, আয়াত: ২৮ ) আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন: “ তখন তোমরা তা
থেকে খাও এবং আহার করাও এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে এবং এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা
করে না। এভাবে আমরা সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ কর”। ( সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৬ ), সালাম বিন আকুওয়া রাঃ হতে বর্ণিত
আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম বলেন: “ তোমরা খাও, খাওয়া এবং
সংরক্ষণ করে রাখ”। ( সহিহ দ বুখারী )
আরো পড়ুনঃকোরবানির জন্য ছাগলের বয়স
অতএব আমরা যারা ধনী ব্যক্তি আছি তারা সঠিক নিয়মে কোরবানির মাংস ভাগ করে দুই
ভাগ গরিব এবং আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে সঠিকভাবে বন্টন করতে হবে। এবং একভাগ
নিজেদের জন্য রেখে দিতে হবে এবং সেখান থেকে নিজেরা খেতে হবে এবং গরিবদের
খাওয়াতে হবে। এতে আল্লাহ তায়ালা অনেক খুশি হয়। কোরবানির মাংস নিয়ে মনের
মধ্যে কোন ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ রাখা যাবে না। তা না হলে আল্লাহ তা’আলা অসন্তুষ্ট
হয়ে যাবেন।
কোরবানির মাংস নিজেদেরকে সঠিক পরিমাণে খেতে হবে। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি
লাভের জন্য যেহেতু কোরবানি দেওয়া হয় সেও তো আল্লাহতালার দেওয়া
বিধি-বিধানগুলো সঠিকভাবে মেনে চলে কুরবানী দিতে হবে এতে আল্লাহ তালার সন্তুষ্টি
লাভ করা যাবে। তাই আমাদের উচিত কোরবানির মাংস সঠিক নিয়মে খাওয়া এবং সদকা
দেওয়া।
কোরবানির গরুর বয়স কত হতে হবে
কোরবানি সম্পর্কে আমরা সকলেই অনেক কিছু জানি। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা
কোরবানির পশুর বয়স সম্পর্কে তেমন জানে না। কোরবানি দেওয়ার সময় কোরবা নির
পশুর বয়স নির্ধারণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই আজকে আমরা এই পোস্টের
মাধ্যমে কোরবানির জন্য গরুর বয়স এবং কোরবানির পশুর বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করব। নিম্নে কোরবা নির পশুর বয়স দেওয়া হলঃ
গরু কোরবানি দেওয়ার জন্য গরুর বয়স সর্বনিম্ন ২ বছর হতে হবে। অথবা যদি
কোন গরু দূর থেকে দেখতে দুই বছর বয়সী গরুর মত সেই গরু
দিয়েও কোরবানি দেওয়া যাবে এতে কোন সমস্যা হয় না।
কোরবানির পশুর বয়স
আমরা অনেকে আছি যারা কোরবানি দেওয়ার জন্য কোরবানির পশুর সঠিক বয়স নির্ধারণ
করতে পারি না। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই কেননা আমরা আর্টিকেলের মাধ্যমে
কোরবানির পশুর বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো। নিম্নে কোরবানি পশুর বয়স
দেওয়া হলোঃ
- আপনারা যদি উট দিয়ে কোরবানি দেন তাহলে উটের বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর হতে হবে।
-
আপনারা যদি গরু, মহিষ কোরবানি দিতে চান তাহলে গরু, মহিষের সর্বনিম্ন ২ বছর
বয়স হতে হবে।
-
আর আপনারা যদি ছাগল, ভেড়া এবং দুম্বা দিয়ে কুরবানী দিতে চান তাহলে তাদের
বয়স সর্বনিম্ন ১ বছর হতে হবে।
ছাগল, ভেড়া এবং দুম্বার ক্ষেত্রে যদি বয়স এক বছরের নিচে হয় এবং সেগুলো দূর
থেকে দেখতে এক বছরের পশুর মত হয় তাহলেও কোরবানি দেওয়া জায়েজ রয়েছে। তবে মনে
রাখতে হবে পশুগুলোর সর্বনিম্ন বয়স ৬ মাস হতে হবে।
কোরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম
প্রিয় পাঠক উপরোক্ত আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা আপনাদের কোরবানির নিয়ম সম্পর্কে
বিস্তারিত জানিয়েছি। আপনারা হয়তো অনেকেই কোরবানির গোশত বন্টনের সঠিক নিয়ম
তেমন জানেন না। তাই আমরা এয়ার টিকেট এর মাধ্যমে কোরবানির গোশত বন্টনের সঠিক
নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। নিম্নে কোরবানির গোশত বন্টনের নিয়ম
দেওয়া হলঃ
পশু কোরবানি দেওয়ার পর পশুর গোশত বন্টন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
পশু কোরবানি দেওয়ার পর পশুর মাংস যদি সঠিকভাবে বন্টন না করা হয় তাহলে কোরবানি
কবুল হওয়ার শর্ত ভাঙ্গন হতে পারে। এর জন্য পশু কোরবানি দেওয়ার পর পশুর
গোশত সঠিকভাবে বন্টন করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সকলেই জানি পশু কোরবানি
দেওয়ার পর পশুর গোস্ত তিন ভাগে ভাগ করতে হয় তথা এক ভাগ গরিব-দুঃখীদের বন্টন
করতে হয়, একভাগ আত্মীয়-স্বজনদের ভেতর বন্টন করতে হয়, এক ভাগ নিজেদের জন্য
রেখে দিতে হয়।
আরো পড়ুনঃনামাজ না হওয়ার কারণ – নামাজ কবুল হওয়ার লক্ষণ
এর জন্য পশু কেনার সময় পশু যেন সুস্থ এবং স্বাস্থ্যবান হয় সেই দিকে খেয়াল
রেখে পশু কিনতে হবে। যেন বন্টনের সময় কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।
আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে গরীব দুঃখী এবং আত্মীয়-স্বজনদের জন্য বন্টন করা
গোশত দেওয়ার পরে যদি বেঁচে যায় তাহলে সেই গোশত নিজের জন্য রেখে দেওয়া যাবে
না। সেই গোশতগুলো আবার সঠিকভাবে বন্টন করে দিতে হবে। তাই পরিশেষে বলা যায়
কোরবানির পশু কোরবানি দেওয়ার পর সঠিকভাবে সমানভাবে তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। যেন
কোথাও কম বেশি না হয়।
শেষ কথা
বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আপনারা সকলেই কোরবানি সম্পর্কে সকল কিছু বুঝতে
পেরেছেন। এবং আপনারা যারা পশুর বয়স সম্পর্কে জানেন না তারা বয়স সম্পর্কে জানতে
পেরেছেন। আশা করি আমাদের এই পোস্টটি আপনাকে কোরবানি দেওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করবে। আমাদের এই পোস্টটি পাওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।







Leave a Reply