নিয়ে চিন্তিত? কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালাপোড়া করে অনেদিন
ধরেমএই উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন বুঝতে পারছেন না কি করবেন? সমাধান খুজছেন? চিন্তিত
হওয়ার কিছু নেই এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন
ইনশাআল্লাহ। তাহলে চলুন কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালাপোড়া করে জেনে
নেই বিস্তারিত আলোচনা।
অভাবে হাত পা জ্বালাপোড়া করে? হাত পা জ্বালা পোড়া থেকে মুক্তির উপায় কি? হাত পা
জ্বালাপোড়া নিরাময়ের ঔষধ এবং হাত-পা জ্বালাপোড়া নিরাময়ের ঘরোয়া চিকিৎসা। আপনার
প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো পেতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্টিকেলটি পড়ুন। তাহলে
চলুন এবার শুরু করা যাক।
কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালাপোড়া করে?
আপনি নিশ্চয় জানতে চাচ্ছেন কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালাপোড়া করে। আজকের
এই পর্বে আমরা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা
জ্বালাপোড়া করে। তাই ধৈর্য ধরে পুরো পর্বটি পড়ুন।ভিটামিন মানব দেহের একটি
অপরিহার্য উপাদান। শরীরে শক্তি সঞ্চার থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ করা সব জায়গায়
ভিটামিন এর প্রয়োজন রয়েছে।
মানব দেহে বিভিন্ন ভিটামিন এর প্রয়োজন রয়েছে যেমন ভিটামিন-এ, ভিটামিন- বি,
ভিটামিন-সি, ভিটামিন – ডি ইত্যাদি এসব ভিন্ন ভিন্ন ভিটামিন এর রয়েছে ভিন্ন
ভিন্ন কাজ যা মানব দেহ কে সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এসব ভিটামিন এর
অভাবে মানব দেহে নানান রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
তেমনি একটি ভিটামিন হলো ভিটামিন বি ৬ বা ভিটামিন টি নিয়াসিন যার অভাবে মানব শরীরে
জ্বালাপোড়ো উপসর্গ দেখা দেয়। আমাদের অনেকের মাঝে মধ্যে কোন কারন ছাড়া হাত পা
জ্বালাপোড়া করে কিন্তু বুঝতে পারি না কেন এমন হয়ে থাকে। অনেক সময় এর মাত্রা
প্রচন্ড আকার ধারণ করে রূগি জ্বালাপোড়া নিয়ে হাসফাস করতে থাকে যা খুবই বেদনা
দায়ক।
সাধারণত শীতকালে এ সমস্যাটি বেশি হয়ে থাকে। বিভিন্ন কারনে হাত পা জ্বালা পোড়া
করতে পারে তবে জেনে রাখা ভালো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিটামিন এর অভাবে শরীরে
এই জ্বালা পোড়া উপসর্গ লক্ষ করা যায় আর যে ভিটামিন এর অভাবে এই উপসর্গ হয়ে থাকে
তার নাম হয়তো আমরা কম বেশি সবাই শুনেছি ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন বি ১২ বা
ভিটামিন টি নিয়াসিন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন শরীরে এই ভিটামিন এর অভাব দেখা দিলেই
মানব দেহে জ্বালাপোড়া অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
সুপ্রিয় পাঠক আশা করছি আপনি বুঝতে পেরেছেন কেন কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা
জ্বালাপোড়া করে। নিচে আমরা আলোচনা করব হাত-পা,শরীল জ্বালাপোড়া করে কেন।
হাত-পা,শরীল জ্বালাপোড়া করে কেন?
হয়েছে। শরীল জ্বালাপোড়া করার অনেক কারন রয়েছে এটি মূলত কোন রোগ নই রোগের উপসর্গ
মাত্র। কখনো শরীর জ্বালাপোড়া করেনি এমন মানুষ হয়তো খুজেই পাওয়া যাবে না। কম বেশি
সকলেই জীবনে একবার হলেও এই অভিজ্ঞতা হয়েছে।
করলেন পায়ের নিচে বা হাতের তালুতে জ্বালা পোড়া করছে যা খুবই বেদনা দায়ক নিশ্চয়ই ঐ
রাতে আর শান্তিতে ঘুমানো হবে না আপনার। আবার ধরুন নিশ্চিন্তে বসে আছেন পরিবার এর
সাথে আড্ডা দিচ্ছেন বা অফিসে আছেন হঠাৎ হাত-পা অথবা শরীলের মধ্যে জ্বালাপোড়া শুরু
হয়ে গেছে এমন পরিস্তিতি মাঝে মাঝেই আমাদের হয়ে থাকে।
যা খুবই বেদনা দায়ক। প্রিয় পাঠক তাহলে এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক কি কি কারনে হাত
পা বা শরীল জ্বালাপোড়া করে থাকেঃ
১। কিডনি বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে আপনার শরীর জ্বালাপোড়া করতে পারে।
২। মদ্যপান ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি রোগ থাকলে।
৩। অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস।
৪। অনেক সময় ঔষধ এর পাশ্বপ্রতিক্রিয়া কারণে শরীরে জ্বালাপোড়া হতে
পারে।
৫। ছত্রাক সংক্রমণের কারনে।
৬। অতিরিক্ত দূচিন্তা ও মানুসিক চাপের মধ্যে থাকলেও এমন হতে পারে।
৭। নারীদের ক্ষেত্রে যদি গর্ভবতী হন তাহলে এটা কোলেস্টাসিসের কারণেও হতে পারে।
সুতরাং,এসব কারনে মানব শরীরে জ্বালা পোড়া হয়ে থাকে যা আপনার জীবন কে অতিষ্ট করে
তোলে।সুন্দর একটা দিন কাটাবেন ভাবছেন মূহুর্তে সবকিছু মাটি হয়ে গেল এছাড়াও আপনার
শরীর জ্বালাপোড়া আর একটি কারণ শরীরে বিশেষ একটি ভিটামিন এর অভাব যা নিচে আলোচনা
করা হয়েছে।
হাত পা জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির উপায়ঃ
প্রিয় পাঠক এতক্ষণে আমরা জেনেছি হাত পা বা শরীল জ্বালাপোড়া করে কেন কোন
ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালাপোড়া করে এখন আমরা জনবো এই বেদনা দায়ক উপসর্গ
থেকে মুক্তির উপায় অথাৎ হাত পা জ্বালা পোড়া থেকে মুক্তির উপায় তাহলে চলুন
উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাকঃ
পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। গরমের সময় এই পানির চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণে।
আপনি যদি দিনের বেশিরভাগ সময়ই বসে থাকেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাজ করেন
এবং বেশি না ঘামেন, তাহলে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করাই যথেষ্ট।
এর চেয়ে বেশি পান করলে অতিরিক্ত হাইড্রেশন হতে পারে। পুষ্টিবিদরা পানির ঘাটতি
পূরণের জন্য প্রতিদিন ২.৫ লিটার পান করার পরামর্শ দেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান
করলে আপনার শরীর ঠান্ডা থাকবে সুতরাং জ্বালাপোড়া কমে থাবে।
তাহলে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়া আগে গোসল করুন। তবে মনে রাখবেন গরম পানিতে নয় হালকা
ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করবেন। বেশিক্ষণ সময় ধরে গোসল করবেন না এতে আপনার ঠান্ডা
লেগে যেতে পারে। সুতরাং অল্প কিছুক্ষণ হালকা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন।
৩।ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করুণঃজ্বলন এবং চুলকানি প্রশমিত করতে ওয়েল বেজ লোশন লাগাতে পারেন, এতে করে আপনার
ত্বক সফট হবে ও এতে স্কিনের সেলস গুলোকে রক্ষা করবে। বর্তমানে ঔষুধের দোকান
গুলোতে এমন অনেক লোশন পাওয়া যায়। এতে করে আপনার হাত ও পায়ের তলার জ্বলন ও
চুলকানি প্রশমিত হতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে ও গোসলের পর ভেজা শরীরে লোশন
ব্যাবহার করুণ।
৪। টক জাতীয় খাবার খানঃ টক জাতীয় খাবার শরীরের জন্য খুবই উপকারী এতে যেমন
রয়েছে ভিটামিন- সি তেমনি রয়েছে বি ৬ বা বি ১২ মতো উপাদান যা আপনার শরীর
জ্বালাপোড়া কমাবে। টক খাবার বলতে সাধারণত যেসব দ্রব্যের নাম মনের আনাচে-কানাচে
ঘুরঘুর করতে থাকে, তার মধ্যে টক দই বাদ দিলে, বাকি রইল কিছু টক ফল, মোটামুটি
সেগুলি হল— কাঁচা আম, কাঁচা ও পাকা তেঁতুল, কাঁচা ও পাকা চালতা, যে কোনও
প্রকারের লেবু, কামরাঙা, আমড়া, জলপাই, কাঁচা ও পাকা কয়েতবেল, টোপাকুল,
নোয়াড় বা শিলাকুল, চেরি প্রভৃতি খেতে পারেন।
৫।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃআপনার যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে মিষ্টি এবং
শর্করা জাতীয় খাবার পরিহার করুন প্রয়োজনে ডায়েট মেনে চলুন। শারীরিক ব্যায়াম করুন।
ডায়াবেটিসের কারনে নিউরোপ্যাথি হয়ে থাকে কারণ রক্তে সুগার লেভেল বেড়ে গেলেও
হাত-পায়ে জ্বালা পোড়া হতে পারে। তাই হাত-পায়ের যত্ন নিতে শিখুন। বিশেষ করে পায়ের
যত্ন অনেক বেশি সচেতন হন।
৬। মানসিক দূচিন্তা ঝেড়ে ফেলুনঃ মানুসিক ভাবে সব সময় সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন।
অতিরিক্ত দূচিন্তা ঝেরে ফেলুন। প্রয়োজনে সময়ের কাজ সময়ে করুন। প্রিয়জনদের কে সময়
দিন নিয়মিত বই পড়ুন নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন।
যা আপনাকে সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে সাহায্য করবে।
হাত- পা জ্বালা পোড়া থেকে মুক্তির ঔষধঃ
সময় ছিল রোগের ঔষধ তেমন পাওয়া যেত না ফলে অনেক মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যেত
কিন্তু বর্তমানে ছোট বড় প্রায় সকল রোগের ঔষধ আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে যা
আমাদের দৈনন্দিন জীবন কে আরো সহজ করেছে। তেমনি ভাবে শরীর জ্বালাপোড়া থেকে
মুক্তির জন্য বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ঔষধ রয়েছে চলুন কিছু প্রয়োজনীয় ঔষধ
সম্পর্কে জেনে নিইঃ
সাধারণত এই উপসর্গ নিরাময়ের জন্য দুই ধরনের ঔষধ পাওয়া যায়ঃ
১। হোমিওপ্যাথি ঔষধঃ নিকটস্থ ডাক্তারের পরামর্শ মতো ঔষধ নিতে পারেন। যদিও
হোমিওপ্যাথি ঔষধ কাজ করতে একটু সময় নিবে তবে নিয়মিত ঔষধ সেবন করলে আপনি ভালো
ফলাফল পাবেন এই উপসর্গ থেকে।
২। অ্যালাপ্যাথি ঔষধঃ Alkuli সিরাপ ৩ চামুচ নিয়ে আধা গ্লাস পানিতে মিক্সড করে
দুবেলা করে খেতে পারেন ১থেকে ২ মাস সাথে coralcal-D 500 দুবেলা করে খাবেন জ্বলা
বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড় ভিটামিন বি-৬ বি-১২ ক্যাপসুল সেবন করতে পারেন ভিটামিন এর
অভাব দূর করতে।
হাত-পা জ্বালাপোরা থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়ঃ
সভ্যতা আদি যুগ থেকে মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে শিখেছে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা যা
বর্তমানে ঘরোয়া চিকিৎসা নামে পরিচিত। এই উপসর্গের রয়েছে ঘরোয়া কিছু চিকিৎসা যা
তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন চলুন জেনে নেওয়া যাকঃ
২। পায়ের আর্চ সাপোর্ট, ইনসোল ও হিল প্যাড ব্যবহারঃ এগুলো ঘরোয়া উপাদান সহজে
আপনার হাতের নাগালে পাবেন ব্যাবহার করতে পারেন উপসর্গ লাঘব হবে।
ব্যায়াম করতে পারেন যেমন লেগ প্রেস আধা শোয়া হয়ে পা দিয়ে ওজন ঠেলে তোলা ও নামানোর
এই এক্সারসাইজ পায়ের জ্বলাপোড়া দূরে করে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। তাছাড়া বরফ
সেক দিতে পারেন উপসর্গ নিরাময়ে অনেক উপকারী।
বিকল্প নেই সুতরাং ভিটামিন এর অভাব পূরনে নিয়মিত এসব খাবার গ্রহন করতে পারেন।
প্রাণিজ খাবার যেমন মাংস, মাছ, দুধ, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার যেমন দই, পনির, পায়েস,
সন্দেশ, ছানা এসব খাবার থেকে ভিটামিন ৬ এবং ১২ পাওয়া যায়। তবে যারা নিরামিষ
ভোজী তারা সবুজ শাক, রঙিন সবজি ও ফলমূল, বাদাম, রুটি, পাস্তা, নুডলস, সিরিয়াল ও
সয়ামিল্ক, সয়াবিন থেকে ভিটামিন ১২ পেতে পারেন।
৫। অবশ্যই ধুমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকবেনঃ
কারণ। সুতরাং ধুমপান ও মদ্য পান করা থেকে বিরত থাকুন।
লেখকের মন্তব্য।কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালাপোড়া করে
আলোচনার বিষয়। এত সময় ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। যেকোন ভুলত্রুটি থাকলে
ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। এবং আর্টিকেল টি পড়ে কেমন লাগলো অবশ্যই জানাতে
ভুলবেন না। আশাকরি আপনার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য উপস্হাপন করতে পেরেছি অসংখ্য ধন্যবাদ
জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করছি পরবর্তী দিন নতুন কোন বিষয় নিয়ে হাজির হবো ইনশাআল্লাহ
সে পর্যন্ত সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন এ কামনা করি। আল্লাহ হাফেজ।আসসালামু আলাইকুম।



Leave a Reply