কালোজিরা কে আমার প্রায় সকলেই চিনি। সেই সঙ্গে এর কিছু উপকারিতা সম্পর্কে কিন্তু
আমরা জানি। কালোজিরার ইংলিশ নাম হল Nijela Seed। বাঙালির পাঁচফোড়ন থেকে
শুরু করে যে কোন ধরনের রান্নায় ব্যবহার হয় এই কালোজিরা।
আয়ুর্বেদিক কবিরাজি যে কোন চিকিৎসায় এই কালোজিরা ব্যবহার হয়। মসলা হিসেবে এর
চাহিদা অনেক রয়েছে। ইসলাম ধর্ম কালোজিরা গুরুত্ব দেওয়া
হয়েছে।এমনকি ইসলাম ধর্ম বলা হয়েছে যে, তোমরা কালিজিরা খাও এটি মৃত্যু
ব্যতীত সব রোগের মুক্তি দিতে তোমার সাহায্য করবে।
ভূমিকা
তাই এ থেকে বোঝা যায় যে কালোজিরা মানব দেহের জন্য কতটা উপকারী। এছাড়া
বিজ্ঞানী গবেষণা জানা গেছে এর উপকারিতা সম্পর্কে। এটিকে একটি সুপার ফুড হিসেবেও
ধরা হয়। মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পুষ্টি উপাদান রয়েছে এ
কালোজিরায়।
কালোজিরা বিভিন্ন খাবারের সাথে খাওয়ার পাশাপাশি এর তেল আমাদের শরীরের জন্য অনেক
উপকারী। কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কালোজিরা হার্ট সুস্থ রাখতে
সাহায্য করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে
আমরা কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে জানব।
কালোজিরার উপকারিতাঃ
কালোজিরা এমন একটি পুষ্টিকর উপাদান যার উপকারিতা গুণে শেষ করা যাবে না। তাই
অনেক সময় এই কালোজিরা কে সব অসুখের ওষুধ বলে মনে করা হয়। মানুষ বিভিন্ন
সমস্যার জন্য এই কালোজিরা খেয়ে থাকেন। কালোজিরা খেতে
সুস্বাদু তেমনি এর উপকারিতা অনেক বেশি।
বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে কালোজিরা খাওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এখনো
পর্যন্ত হয়তো অনেকেই জানে না কালোজিরা উপকারিতা গুলো। উপকারিতা সম্পর্কে জানা
উচত । সবকিছুর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত। কারণ কখন কার প্রয়োজন
হয় বলা যায় না।
যায়। কালোজিরা এমন একটি ওষুধি খাবার যে, এটি প্রায় অনেক ধরনের সমস্যা দূর করতে
সাহায্য করে। ছোট খাটো বিভিন্ন রোগ থেকে শুরু করে বড় বড় বিভিন্ন রোগ ভালো করার
ক্ষমতা রাখে এ কালোজিরা।
খাবার। তাই নিচে কালোজিরার উপকারিতা গুলো দেওয়া হলোঃ
হার্ট সুস্থ রাখে
কালোজিরা রক্তের খারাপ কোলেস্টরেলের মাত্রা কমাতে সাহায্য
করে। খারাপ কোলেস্টেরল রক্ত প্রবাহ হতে বাধা দেয়। আমরা অবশ্যই হয়তো
জানি যে, রক্তের মাধ্যমে আমাদের সারা শরীরে অক্সিজেন প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের
শরীর সুস্থ থাকে। আর যদি রক্ত সারা শরীরে প্রবাহিত না হতে পারে তাহলে
সেটি অবশ্যই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।
হৃদপিন্ডের জন্য অনেক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। এর কারণে বিভিন্ন ধরনের স্টক
কিংবা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই কালোজিরা আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য
করে। সেই সঙ্গে রক্তে ভালো কোলেস্টের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। যা আমাদের
শরীরকে সুস্থ রাখে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কালোজিরাই রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এন্টিঅক্সিডেন্ট
বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। যার ফলে আমাদের শরীর
সুস্থ থাকে। খারাপ ব্যাকটেরিয়া নির্ভর করার পাশাপাশি , এন্ড
অক্সিডেন্ট উপাদান আমাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে
আমাদের রোগের হাত থেকে বাঁচায়। আবার বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করত সাহায্য
করে।
তাই কালোজিরা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও
খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিসাধন করে থাকে। যেগুলো
রোধ করত কালোজিরা অনেক সাহায্য করে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলে
অবশ্যই কালোজিরা নিয়মিত খেতে হবে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
কালোজিরাই রয়েছে ক্যারোটিন। গবেষণায় জানা গেছে যাদের শরীরে
উচ্চমাত্রায় বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকিও কম রয়েছে।
নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার পরে, শরীরে কেয়ার ক্যারোটিন মাত্রা বৃদ্ধি
পায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের হাত থেকেও বাঁচা যায়।
কালোজিরা খাবার ফলে,ক্যারোটিন বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। যেমনঃ
স্তন ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার,
ব্লাড ক্যান্সার ইত্যাদি ছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ
করতে পারে কালোজিরা। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে হলে প্রতিদিন কালোজিরা
খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
লিভার ভালো রাখে
লিভার এমন একটি জিনিস যা, আমাদের শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক জিনিসগুলো থেকে রক্ষা
করা। সে সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। এখন
লিভার যদি সুস্থ না থাকে, তাহলে আমরা কিভাবে সুস্থ থাকব। তাই লিভার কে সুস্থ
রাখতে হলেও , রয়েছে কালোজিরার অবদান।
কালোজিরা লিভার কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। প্রাণীদের উপর গবেষণা করে দেখা
গেছে যে কালোজিরা লিভারকে ক্ষতিকারক পদার্থ থেকে রক্ষা করে।
ব্লাড সুগার কমায়
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
কারণ ডায়াবেটিস এমন একটি সমস্যা যা তাকে সারাজীবন বয়ে নিয়ে যেতে হয়। তাই
ডায়াবেটিস রোগীদের ব্লাড সুগারের বিষয়ে অনেক সিরিয়াস থাকতে
হয়। তাই কালোজিরা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারি।
এতে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে সেই সঙ্গে কমাতে
সাহায্য করে। জানা গেছে। কালো জিরা ফাস্টিং ব্লাড সুগার, এভারেস্ট ব্লাড সুগার
আরো বিভিন্ন ধরনের ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে। সে সঙ্গে
ইনসুলিনের রেসিডেন্সও কমাতে সাহায্য করে।
তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কালিজিরা খাওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। ফলে
ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে কালোজিরা অনেক সাহায্য করতে পারে।
এসিডিটির সমস্যা দূর করে
কালোজিরা রয়েছে ফাইবার। এটি পাকস্থলির বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য
করে। সঙ্গে এটি এসিডিটি দূর করতে অনেক সাহায্য করে। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতেও
কালোজিরার অবদান রয়েছে। কালোজিরা থাকা ফাইবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে অনেক
সাহায্য করে।
এছাড়া বদ হজমের মত সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। এসিডিটি দূর করার অন্যতম একটি
ওষুধ হল কালোজিরা ।তাই অ্যাসিটি দূর করতে হলে কালোজিরা খাওয়া প্রয়োজন।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
কালোজিরায় থাকা ফাইবার যেমন পাকস্থলের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
তেমনি এটি ওজন কমাতে অনেক সাহায্য করে। আজকাল ওজনের সমস্যা প্রায় অনেকেরই
রয়েছে। তাই ওজনে কমাতে হলে হলে, কালোজিরা খেতে হবে। কালোজিরাতে থাকা ফাইবার
শরীরে যাওয়ার ফলে,পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকবে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার সমস্যাটা
দূর হয়ে যাবে।
প্রতিদিন কতটুকু কালোজিরা খাওয়া উচিত?
একেক জায়গায় মানুষ এক এক ভাবে কালোজিরা খেয়ে থাকে। তবে কালোজিরা উপকারিতা পেতে
হলে , এটি খাওয়ার বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। যেভাবে খাবার ফলে এর উপকারিতা
গুলো পাওয়া যাবে। তাই কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম গুলো অবশ্যই জেনে রাখা উচিত।
-
প্রতিদিন সকালে কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার ফলে, পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর
হয়ে যাবে -
নিয়মিত কালোজিরার সাথে মধু মিশিয়ে, যদি এটিকে চিবিয়ে খাওয়া যায় তাহলে
এসিডের সমস্যা দূর হয়ে যাবে -
বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত সমস্যার জন্য কালোজিরার সাথে মধু এবং তুলসী পাতার রস
মিশিয়ে খেলে, এসব ঠান্ডা জনিত রোগ দূর হয়ে যাবে। -
কালোজিরার তেল চুল পড়া কমাতে অনেক সাহায্য করে। তাই চুল পড়া কমাতে হলে
কালোজিরা তেল ব্যবহার করতে পারবেন। -
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কালোজিরা অনেক উপকারী। তাই যারা ডায়াবেটিস রোগী
তারাপ্রতিদিন সকালে কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করে তুলুন।
কালোজিরার অপকারিতাঃ
সকলের জন্য অপকারী নয়। এটি কিছু মানুষের জন্য অপকারী। তাই অবশ্যই সেটি জেনে
রাখা উচিত যে, তাদের জন্য কালোজিরা ক্ষতিকারক। না হলে এ থেকে বড় ধরনের সমস্যা
হতে পারে।
- কালোজিরা খাওয়ার ফলে যদি গ্যাস বেশি হয়, বমি বমি ভাব হয়
-
যাদের ব্লিডিং ডিজটার রয়েছে তাদের জন্য কালোজিরা মোটেও সুবিধা জনক
নয়। কালোজিরা খাওয়ার ফলে সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে -
লো ব্লাড সুগার থাকলেও তাদের জন্য কালোজিরা উপকারী নয়। কারণ
কালোজিরা ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে। ফলে এতে আপনার আরো ক্ষতি হয়ে যেতে
পারে। -
সামনে যদি আপনার সার্জারি হয় তাহলে কালোজিরা কিন্তু খাওয়া যাবেনা। তাই
এক্ষেত্রে কালোজিরা খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
কালোজিরা ফুলের মধুর দাম
যারা কালোজিরা ফুলের মধুর দাম জানতে চান তাহারা আজকের এই পর্বটি খুব মনোযোগ
সহকারে পড়ুন তাহলে কালোজিরা ফুলের মধুর দাম জানতে পারবেন।
১১০০ টাকায়। আপনারা যারা কালোজিরা ফুলের মত কিনতে চাচ্ছেন তারা অনলাইনে যোগাযোগ
করলে পাবেন। কালোজিরা ফুলের মধু দেখতে কিছুটা গুড়ের মত এবং খেতোও কিছুটা গুড়ের
মতো স্বাদ।
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে কি হয়?
হয় সম্পর্কে। আপনি যদি না জেনে থাকেন প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে
কি হয় তাহলে আজকের এই পর্বটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
কি হয়। আপনি যদি নিয়ম মেনে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কালোজিরা খান তাহলে
আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে,
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হবে শরীরে বাত ব্যাথা থাকলে সেখান থেকে আপনি পরিতান
পাবেন আরও বিভিন্ন রকমের উপকার আপনি পাবেন।
শেষ কথা
পড়েছেন। আজকের এই আর্টিকেল থেকে যদি আপনি কোন উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই আপনি
আপনার বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে শেয়ার করবেন।







Leave a Reply