প্রিয় পাঠক আপনি কি জানতে চান ইলেকট্রিক শক ট্রিটমেন্ট ? তাহলে আপনি একদম
ঠিক যায়গায় এসেছেন। কেননা এই আর্টিকেলটিতে ইলেকট্রিক শক ট্রিটমেন্ট এমন
বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।এছাড়াও ইলেকট্রিক শক ট্রিটমেন্ট ,ইলেকট্রিক শক কেন
হয়, বৈদ্যুতিক শক কি, বৈদ্যুতিক শক এর প্রাথমিক চিকিৎসা, আমাদের দেশে বিদ্যুৎ
প্রবাহের ভোল্টেজ কত, মানুষের শরীরে বিদ্যুৎ এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে
পর্যায়ক্রমে নিচে আলোচনা করা হবে।
ইলেকট্রিক শক ট্রিটমেন্ট
ইলেকট্রিক শক ট্রিটমেন্ট! বর্তমান সময়ে আমাদের প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই
বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। এ সকল যন্ত্রপাতি চালাতে গিয়ে
অসাবধানতার ফলে ইলেকট্রিক শক খাওয়ার প্রবণতাও বেড়ে চলেছে। তাই বৈদ্যুতিক
দুর্ঘটনার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান রাখা খুবই জরুরি। কেননা একটু সচেতনতাই
আপনাকে অনেক বড় বিপদ থেকে মুক্তি দিতে পারে। সুতরাং কোন ব্যক্তির যদি ইলেকট্রিক
শক ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন হয় তাহলে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় চলুন দেখে
নেইঃ-
১। প্রথমত, কোন ব্যক্তিকে ইলেকট্রিক শক করলে তাকে খালি হাতে ধরা যাবে না। যদি
খালি হাতে ধরেন তাহলে আপনিও সেই ব্যক্তির সাথে শক খাবেন। ফলে ইলেকট্রিক শক
খাওয়া ব্যক্তিকে তো বাঁচাতে পারবেনই না, তার সাথে আপনার জীবন নাশের সম্ভাবনা
বেড়ে যাবে।
২। দ্বিতীয়ত, আপনি যদি পারেন কেউ শক খেয়েছে তাহলে প্রথমেই বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ
করার চেষ্টা করবেন। যদি সুইচ বন্ধ করতে না পারেন তাহলে শুকনো কাঠের টুকরা, শুকনো
বাঁশের টুকরা ,উলের কাপড় অথবা পলিথিন ব্যাগে হাত মুড়িয়ে শক খাওয়া ব্যক্তিকে
ধাক্কা দিয়ে বৈদ্যুতিক শক খাওয়া সেই জায়গা থেকে আলাদা করে দিবেন। যদি এ সকল কাজ
গুলো করতে সক্ষম না হন তাহলে দ্রুত বৈদ্যুতিক অফিসে খবর দিবেন।
৩। এর পরে যদি শক খাওয়া ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তার বুকের ওপর জোরে
জোরে চাপ দিয়ে হৃৎপিণ্ড চালু করার চেষ্টা করবেন। এসময় রোগীর মুখ দিয়ে বাতাস
প্রবেশ করিয়ে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
৪। এছাড়াও যদি শক খাওয়া ব্যক্তির শ্বাস বন্ধ হয়ে যাই তাহলে খুব দ্রুত কৃত্রিম
শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বৈজ্ঞানিক সূত্রে বলা হয় যে, ইলেকট্রিক
শক খ খাওয়া ব্যক্তিকে ৩ মিনিট সময়ের ভেতর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা
করা গেলে প্রতি ১০ জনের ভেতর ৭ জনকে বাঁচানো সম্ভব। দেরি করলে বাঁচানোর সম্ভাবনা
কমে আসে। এ সময় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ইলেকট্রিক শক কেন হয়
বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। সেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সময় আমরা
অনেকেই ইলেকট্রিক শক খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি কেন আমরা ইলেকট্রিক
শক খাই? কই পাখিদের তো দেখা যায় তারা বৈদ্যুতিক তারের উপরে অবস্থান করে অথচ তারা
শক খায় না কেন। চলুন জেনে নেই কেন মানুষ শক খায় আর পাখিরা খায় না কেন তার কারণ
হলোঃ-
প্রবাহিত হয় আমাদের দেহে কিছু ধাতব আয়নের আধিক্য রয়েছে যার কারণে আমাদের দেহ কি
ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে ওঠে। এসব ধাতব আয়নের মধ্যে রয়েছে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও
ক্লোরাইড আয়ন। মানব শরীরের এক তৃতীয়াংশই পানি, যার জন্য এসব দ্রবীভূত ধাতব আয়ন
মানব দেহকে খুব সহজে বিদ্যুৎ পরিবাহী করে তোলে।
বৈদ্যুতিক শক কি
বর্তমান সময়ে প্রায় বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে। আর আমার মনে হয় আমরা
প্রত্যেকেই জীবনে একবার না একবার বৈদ্যুতিক শক খেয়েছি। আমরা সাধারণত বৈদ্যুতিক
শকের কথা মুখে বলে থাকি কিন্তু প্রকৃত অর্থে আমরা কি জানি বৈদ্যুতিক শক কি বা
বৈদ্যুতিক শক কাকে বলে? আমার মনে হয় প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনই জানিনা। তাই
চলুন জেনে নেই বৈদ্যুতিক শক কাকে বলে। বৈদ্যুতিক শক হলোঃ মানব শরীরের ভিতর দিয়ে
বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট অনুভূতি।
অর্থাৎ মানবদেহের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে যে অনুভূতি সৃষ্টি হয়
তাকে ইলেকট্রিক শক বলে। শরীরের ভিতর দিয়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই কেবল
এই শক লাগে অন্যথায় এ শক লাগেনা। সাধারণত অনেক দিন ব্যবহারের ফলে পরিবাহি তারের
ওপরে থাকা অপরিবাহী বস্তু নষ্ট হয়ে ফেটে যায় এবং পরিবাহী তার বাইরে বের হয়ে আসে।
আর এই ত্রুটিপূর্ণ তারের সঙ্গে মানবদেহের সংস্পর্শ হলে বৈদ্যুতিক শক লাগে।
বৈদ্যুতিক শক এর প্রাথমিক চিকিৎসা
বর্তমানে আমরা প্রায় সময়ই বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সাথে সম্পৃক্ত থাকি। আমাদের
হাতে থাকা ফোন, কম্পিউটার, টিভি, ফ্যান ইত্যাদি সবগুলোই বৈদ্যুতিক যন্ত্র। এ সকল
বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর সময় অনেকেই শক খেয়ে থাকে তাই কোন ব্যক্তি বৈদ্যুতিক
শক খেলে তাকে প্রাথমিকভাবে যে চিকিৎসা গুলো দিতে হবে তা সকলেরই জানা থাকা উচিত।
চলুন আমরা জেনে নেই কোন ব্যক্তি বৈদ্যুতিক শখ খেলে প্রাথমিকভাবে তাকে কি কি
চিকিৎসা গুলো দিতে হয়ঃ-
-
প্রথমত লক্ষ্য করতে হবে ব্যক্তিটি সচেতন আছে কিনা, যদি খুব বেশি আহত হয় তাহলে
খোলামেলা বাতাস যুক্ত স্থানে নিয়ে আসতে হবে।
-
আর যদি শক খাওয়া ব্যক্তি অচেতন হয়ে যায় তাহলে সেই সেই ব্যক্তিকে সমতল স্থানে
মাথা একটু নিচু করে শুয়ে দিয়ে দুই পা সমান করে উঁচু করে রাখতে হবে। অর্থাৎ
বুকের থেকে মাথা একটু নিচু এবং পা উঁচু থাকবে। এভাবে শোয়ালে ব্যক্তির
শ্বাসনালী খুলে যাবে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট কম হবে।
-
এরপর ওই ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করতে হবে তার দেহে জীবিত থাকার লক্ষণ গুলো আছে
কিনা। যেমন বুক ঠিকমতো উঠানামা করছে কিনা, বা হাতের পালস দেখতে হবে রক্ত চাপ
ঠিক আছে কিনা, বুকে কান লাগিয়ে শুনতে হবে হৃদপিণ্ড ঠিকমতো শব্দ করছে কিনা।
আমাদের দেশে বিদ্যুৎ প্রবাহের ভোল্টেজ কত
বর্তমানে আমাদের দেশের প্রায় বাসা বাড়িতেই বিদ্যুৎ রয়েছে। কিন্তু আমরা অনেকেই
এই বিদ্যুৎ প্রবাহের ভোল্টেজ কত তা সম্পর্কে জানিনা। চলুন আমাদের দেশে বিদ্যুৎ
প্রবাহের ভোল্টেজ কত সেই সম্পর্কে জেনে নেই। আমাদের দেশে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়
তার ভোল্টেজ হলো ২২০ কিলোওয়াট।
মানুষের শরীরে বিদ্যুৎ
মানুষের শরীরে বিদ্যুৎ হয়তো কথাটি অনেকের কাছেই পরিচিত আবার অনেকের কাছে এমন মনে
হচ্ছে মানুষের শরীরে বিদ্যুৎ এটা আবার কেমন কথা তাই না! আমি ছোট থেকে একটা কথা
শুনে আসছি মানুষের শরীরে নাকি বিদ্যুৎ থাকে কিন্তু কখনো এই সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান
কারো কাছে থেকে পাইনি। তো চলুন আজকে মানুষের শরীরে বিদ্যুৎ সম্পর্কে কিছু জ্ঞান
অর্জন করি।প্রায় সবকিছুতেই ইলেকট্রিসিটির উপস্থিতি আছে, ঠিক তেমনি আমাদের শরীরেও
ইলেকট্রিসিটি রয়েছে।
যদি মানব দেহে বিদ্যুৎ না থাকতো তাহলে ব্রেণের নিউরন চলাচল সম্ভব হতো না।আমাদের
হৃদপিন্ডের স্পন্দন সংঘটিত হয় ইলেকট্রিক সিগনালের মাধ্যমেই। আমাদের দেহের কোষ
বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবহন করতে সক্ষম। প্রতিটি বস্তুই যেমন অনেকগুলো
পরমাণু দিয়ে গঠিত ঠিক আমাদের শরীর ও তেমন অনেকগুলো পরমাণু সমন্বয়ে গঠিত ।
পরমানুতে থাকা ইলেক্ট্রনের আদান-প্রদানের ফলে যে চার্জ উৎপন্ন হয় তাকে বিদ্যুৎ
বলে। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষকেই এক একটি ব্যাটারির সাথে তুলনা করা হয়।
কোষের অভ্যন্তর নেগেটিভ চার্জযুক্ত এবং কোষের বাইরের আবরণ পজিটিভ চার্জ যুক্ত
হওয়াই কোষের ভেতর ও বাহিরে ইলেকট্রন আদান প্রদান হয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে ০.৭ ভোল্ট কারেন্ট
থাকে, এভাবে সমস্ত দেহের প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন কোষে প্রায় ৩.৫ ট্রিলিয়ন ভোল্ট
কারেন্ট থাকে, যা একসাথে না থেকে শরীরের কোষগুলোতে পৃথক পৃথক ভাবে দেহের শক্তি
হিসেবে কাজ করে।
শেষ কথা-ইলেকট্রিক শক কেন হয়
পরিশেষে বলা যায় যে, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। একটু অসচেতনার কারণে
বিদ্যুৎ আপনার আমার জীবন কেড়ে নিতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত বৈদ্যুতিক
বিভিন্ন কার্যকলাপ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা। সর্বোপরি
বিদ্যুৎ সম্পর্কে খুব বেশি না হলেও প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করা সকলের উচিত।


Leave a Reply