আজকে নিয়ে এসেছি অধ্যবসায় রচনা। আপনারা যারা জানেন না অধ্যবসায়
সম্পর্কে. আজকের এই আর্টিকেলটি তাদের জন্য অনেক উপকারে আসবে। তাহলে চলুন দেরি না
করে জেনে নেই অধ্যবসায় রচনা সম্পর্কে।
আমাদেরকে বারবার চেষ্টা করতে হয়। সে সফলতার জন্য আমাদের দরকার অধ্যাবসায় আজকে
আমরা এই পূর্বে আলোচনা করব অধ্যবসায় রচনা সম্পর্কে। যা আপনার ব্যক্তিগত
পার্সোনাল লাইফে অনেক উপকারে আসবে।
সূচনা
অধ্যাবসায় ছাড়া জীবনে উন্নতি লাভ করা যায় না। অধ্যাবসায় হচ্ছে মানব
সভ্যতার অগ্রগতি ও উন্নতির চাবিকাঠি। এই পর্বে আমরা আলোচনা করব অধ্যাবসায় কি,
অধ্যবসয়ের প্রয়োজনীয়তা, ছাত্র জীবনে অধ্যবসয়ের প্রয়োজনীয়তা, অধ্যবসায়ের
উদাহরণ এইসব বিষয় নিয়ে। আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
অধ্যাবসায় কি
নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অবিরাম চেষ্টা ও ক্রমাগত সাধনা করার নামই হচ্ছে
অধ্যাবসায়। ব্যর্থতায় নিরাশ বা হতাশ না হয়ে কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্যের সাথে
অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর মধ্যেই অধ্যাবসায়ের সার্থকতা নিহিত।
অধ্যাবসায়ের প্রয়োজনীয়তা
তা শেষ হয়ে যায়। তাই মানব জীবনে সাধনা ও অধ্যাবসায়ের বিকল্প নাই। অধ্যবসায়ী
মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে। এই অধ্যাবসায়ের ফলে মানুষ পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ
করে। তাই মানব জীবনে অধ্যবসয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
ছাত্র জীবনে অধ্যাবসায়ের গুরুত্ব
উপযুক্ত সময়, এ সময় ব্যর্থ হলে সম্পূর্ণ মানব জীবনে ব্যর্থতায় পরিণত হয়।যে
ছাত্র অধ্যাবসায়ী সাফল্য তার হাতের মুঠোয় ধরা দেয়। অলস ছাত্র-ছাত্রী
মেধাবী হলেও কখনো সফল হতে পারেনা। কঠোর অধ্যাবসায় ছাড়া কোন ছাত্র-ছাত্রী জীবনের
সফলতা অর্জন করতে পারেনা। ছাত্র জীবনে এই সত্য উপলব্ধি করে নিজেকে অধ্যাবসায়ী
হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে কবি কালীপ্রসন্ন ঘোষের কথা
style="border: none; margin: 0px 0px 0px 40px; padding: 0px; text-align: left;" >
পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিব না তাহা ভাবো একবার
পারো কি না পার করো যতন আবার
একবার না পারিলে দেখো শতবার।
অধ্যাবসায় ও প্রতিভা
কিছু নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও তাহলে প্রতিভা কে অগ্রাহ করতে পারবে। ডালটন
বলেছেন লোকে আমাকে প্রতিভাবান বলেন কিন্তু আমি পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জানিনা।
বিজ্ঞানী নিউটন বলেছেন আমার আবিষ্কার প্রতিভা প্রসূত নয়, বহু বছরের অধ্যাবসায় ও
পরিশ্রমের ফল। এ থেকে বোঝা যায় অধ্যাবসায় ও পরিশ্রম ছাড়া প্রতিভার কোন মূল্য
নেই। প্রতিভাবান ব্যক্তিরা অধ্যবসায় ধারায় নিজের কাজকে সুসম্পন্ন করে তোলে।
আবার এই অধ্যাবসায় দারায় অনেক প্রতিভাবান সুনাম অর্জন করেন।
অধ্যাবসায়ের উদাহরণ
পৃথিবীতে যেসব মনীষীর সাফল্যের উচ্চ শিখরে আরোহন করে অমরত্ব লাভ করেছেন তারা
সকলেই ছিলেন অধ্যবসায়ী.। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস ও ফ্রান্সের
বিখ্যাত ঐতিহাসিক কার্লাইল অধ্যাবসায়ের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। রবার্ট ব্রুষ বারবার
ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়েও যুদ্ধজয়ের আশা ও চেষ্টা ত্যাগ করেননি।
ষষ্ঠ বার পরাজিত হয়ে তিনি যুদ্ধ চিন্তাই মগ্ন ছিলেন এমন সময় দেখতে পেলেন একটি
মাকড়সা বারবার করি কাঠে সুতা বাধবার চেষ্টা করছে এবং ব্যর্থ হচ্ছে।
এইবারে ওই মাকড়সাটি সপ্তম বারের বেলায় সফল হয়। এটা দেখার পর রবার্ট বুস
আবারো ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং সপ্তমবারের বেলায় সফলতা অর্জন
করে।
এবং স্কটল্যান্ড এর উপর তার নিজের অধিপত্য বিস্তার করেন। সম্রাট নেপোলিয়ান
আব্রাহাম লিংকন ক্রিস্টোফার কলম্বাস প্রমুখ মনীষীর জীবনে অধ্যবসায় এক বিরাট
সাক্ষী।
উপসংহার
অধ্যাবসায় হচ্ছে জীবন সংগ্রামের মূল প্রেরণা। এ সংগ্রামে আমার সফলতা ও ব্যর্থতা
উভয় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।অধ্যবসায়ী মানুষ জীবনের সব ব্যর্থতাকে সাফল্যে পরিণত
করতে পারে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় জীবনের সাফল্যতার জন্য অধ্যাবসায়ের বিকল্প
নেই। প্রিয় পাঠক আশা করছি আজকের এই পরবর্তী আপনাদের অনেক উপকারে আসবে যদি আজকের
এই পর্বটি আপনাদের কোন উপকারে আসে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। আর আশা করছি
অধ্যবসায় রচনা সম্পর্কে আপনাদের মোটামুটি ধারণা দিতে পেরেছি।


Leave a Reply